পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বৈভবের পারফরম্যান্স ধারাবাহিক ছিল না। গ্রুপ পর্বে দু’টি অর্ধশতরান এলেও ফর্মের ওঠানামা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু নকআউট মানেই অন্য বৈভব।

বৈভব সূর্যবংশী
শেষ আপডেট: 6 February 2026 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স মাত্র ১৪। মঞ্চটা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং—যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল (ICC U19 World Cup final)। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড (England)। বাউন্সি উইকেট, চোখে চোখ রেখে লড়াই। সেই পরিবেশেই যাবতীয় চোখরাঙানিকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে ইতিহাস লিখলেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi)। ফাইনালে শতরান, তাও দ্রুততম—ভারতের এই বাঁহাতি ব্যাটার নাম লেখালেন এলিট লিস্টে৷
ফাইনালের চাপ, বৈভবের সংযম
হারারেতে (Harare) আয়োজিত ফাইনালে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নামে ভারত (India)। শুরুটা কিন্তু আগুনঝরা নয়। বৈভব আজ প্রথমে সময় নিলেন। নতুন বল, বাড়তি বাউন্স—সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। পাওয়ারপ্লের শুরুতে বেশ কিছু বল ছেড়ে দিলেন। ডিফেন্সিভ থাকলেন। নজর কাড়ল ম্যাচ সেন্স। ১৪ বছরের এক কিশোরের ব্যাটিংয়ে এমন ধৈর্য বিরল। প্রথম কয়েক ওভারে ঝুঁকি নিয়ে বোলারদের যুঝে নেওয়াই তাঁর প্রথাগত পরিকল্পনা। আজ তাতে ছদ পড়ল৷ দেখালেন সংযম৷ আর তাতেই তৈরি হল ভিত।
৫৫ বলে শতরান, ইতিহাসের পাতায় নাম
যদিও পাওয়ারপ্লের মাঝামাঝি থেকে প্ল্যান বদলাতে শুরু করে। বৈভব গিয়ার পাল্টে দেন। ইংল্যান্ডের স্পিনার ফারহান আহমেদকে (Farhan Ahmed) বিশেষভাবে টার্গেট করেন। একের পর এক সুউচ্চ ছক্কা। একটা তো মাঠের বাইরে গিয়ে উড়ে পড়ল। এভাবেই খেললেন ৫৫ বল। তাতে এল সেঞ্চুরি—যুব বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে দ্রুততম। এর আগে এই কৃতিত্ব কারও ছিল না। বৈভব মারলেন সাকুল্যে আটটি চার ও আটটি ছয়। শুধু ফাইনাল নয়, পুরো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ইতিহাসেও এটি অন্যতম দ্রুত শতরান।
আজকের দুরন্ত ইনিংসের সুবাদে বৈভব ঢুকে পড়লেন সেই ছোট তালিকায়, যেখানে আগে ছিলেন মনজোত কালরা (Manjot Kalra) ও উন্মুক্ত চন্দ (Unmukt Chand)—যাঁরা ভারতের জার্সিতে এর আগে যুব বিশ্বকাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি হাঁকান।
বড় ম্যাচের খেলোয়াড় বৈভব
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বৈভবের পারফরম্যান্স ধারাবাহিক ছিল না। গ্রুপ পর্বে দু’টি অর্ধশতরান এলেও ফর্মের ওঠানামা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু নকআউট মানেই অন্য বৈভব। সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিরুদ্ধে ঝোড়ো ৬৮ রানের ইনিংসে আত্মবিশ্বাস ফেরান। আর ফাইনালে তো নিজেকেই ছাপিয়ে গেলেন। শুরুতে সংযম, তারপর নিষ্ঠুর আক্রমণ—এক নিখুঁত বৈভবীয় তালমিলে ভারতকে ২২ ওভারের মধ্যেই ২০০ পেরল।