সরল কিন্তু কড়া বার্তা। তবে আসলে এটাই যেন এক বাস্তব শিক্ষা—জয় যতই বড় হোক, প্রচারের আড়ালে অনেক সময় উদ্দেশ্যটা খাঁটি থাকে না।
.jpeg.webp)
গাভাসকর ও হরমনপ্রীত
শেষ আপডেট: 10 November 2025 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপের (Women’s ODI World Cup) ট্রফি হাতে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে টিম ইন্ডিয়া। হরমনপ্রীত কৌরদের (Harmanpreet Kaur) এই সাফল্যে গোটা দেশ উচ্ছ্বসিত। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্য সরকার, ব্র্যান্ড, সংস্থা—সবাই জয়ের আনন্দে সামিল। কেউ ঘোষণা করছে নগদ পুরস্কার, কেউ দিচ্ছে স্পনসরশিপের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু এই উন্মাদনার মধ্যেই সাবধান বার্তা সুনীল গাভাসকরের (Sunil Gavaskar)।
প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটারের মতে, এই পুরস্কারের জোয়ারের পেছনে আছে অন্য গল্প। তাঁর ভাষায়, ‘মেয়েরা, শুধু একটা কথা মনে রেখো—সব প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে না। ভারতীয় সমাজে অনেকে কাঁধে চড়ে নিজেদের প্রচার করবে। তারা তোমাদের সাফল্যকে ব্যবহার করছে নিজের ব্র্যান্ড বা নিজের নাম ছড়াতে।’
গাভাসকর তাঁর কলামে লিখেছেন, ‘পুরো পাতা জুড়ে বিজ্ঞাপন আর ব্যানারে এখন অভিনন্দনের বন্যা। কিন্তু এদের মধ্যে বেশিরভাগই দল বা খেলোয়াড়দের আসল স্পনসর নয়। তারা শুধু নিজেদের নাম বাড়াতে চায়, অথচ মেয়েদের জন্য আখেরে কিছুই করছে না।’
নিজের অভিজ্ঞতার কথাও টেনে আনেন ক্রিকেট কিংবদন্তি। জানান, ১৯৮৩ সালে যখন ভারত বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখনও নাকি একই ঘটনা ঘটেছিল। গাভাসকরের ভাষায়, ‘আমাদের তখন অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় কিছুই পূরণ হয়নি। মিডিয়াও তখন এসব বড় বড় ঘোষণাকে কভার করেছিল, কিন্তু ওরাও বুঝতে পারেনি যে, আসলে তারাও ব্যবহৃত হচ্ছে—এই নির্লজ্জদের হাতে!’ এরপর মেয়েদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা, ‘যদি কোনও প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত না আসে, হতাশ হবে না। কারণ এই সমস্ত নির্লজ্জেরা নিজেদের প্রচারের জন্য তোমাদের জয় ব্যবহার করছে!’
সুনীলের মতে, সত্যিকারের পুরস্কার আসলে অন্য কিছু—দেশের মানুষের ভালোবাসা। তিনি বলেন, ‘১৯৮৩ সালের টিম এখনও মনে করে, সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীর ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। তোমরাও একদিন একথা বুঝবে। টাকা বা ব্র্যান্ডের নাম নয়, মানুষ যে গর্ব নিয়ে তোমাদের কথা বলে, সেটাই আসল প্রাপ্তি।’শেষে মেয়েদের অভিনন্দন জানিয়ে গাভাসকর লেখেন, ‘এই জয় দেশের গর্ব। তোমরা ভারতীয় ক্রিকেটের মুখ উজ্জ্বল করেছো। জয় হিন্দ!’
সরল কিন্তু কড়া বার্তা। তবে আসলে এটাই যেন এক বাস্তব শিক্ষা—জয় যতই বড় হোক, প্রচারের আড়ালে অনেক সময় উদ্দেশ্যটা খাঁটি থাকে না।