মাঠের বাইরে এর সামাজিক–বাণিজ্যিক প্রভাব? ইতিমধ্যে যা ইঙ্গিত, তাতে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে। অর্থাৎ, সারকথা এই: ‘৮৩–র ছায়ায় না রেখে, ২০২৫–কে তার নিজস্ব জায়গায় পড়তে হবে।

সুনীল গাভাসকর
শেষ আপডেট: 5 November 2025 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরমনপ্রীত কৌরদের (India Women’s Cricket Team) বিশ্বকাপ জয়ের পর তুলনা উঠছে ১৯৮৩–র কপিল বাহিনীর সঙ্গে। দু’ক্ষেত্রেই দুটো টিম আগল ভেঙেছে, জিতেছে প্রথমবারের মতো খেতাব।
যদিও স্রেফ এই সামান্য মিলটুকুর ভিত্তিতে সার্বিক সিদ্ধান্তে আসতে নারাজ প্রাক্তন ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar)। স্পষ্ট জানালেন—এই তুলনা সঙ্গত নয়। স্পোর্টস্টার-এর কলামে তাঁর যুক্তি, ‘৮৩–র আগের আসরে ভারতীয় পুরুষ দল (1983 Men’s World Cup) গ্রুপ স্তর পেরোয়নি। নকআউট পর্ব ছিল একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে মেয়েরা এর আগে দুই–দুইবার ফাইনালে উঠেছে। তাই প্রেক্ষাপট আলাদা।’
গাভাসকরের মত, এতকিছুর পরেও এই জয়ের অভিঘাত গভীর। যেমন ‘৮৩ ভারতীয় ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে নতুন কণ্ঠস্বর দিয়েছিল, তেমনই মেয়েদের সাফল্য দেখিয়ে দিল: দীর্ঘদিনের ‘প্রভুত্বের যুগ’—যে দেশগুলো মেয়েদের ক্রিকেট (Women’s Cricket) খেলা শুরু করেছিল ভারতের অনেক আগে—তাদের একচেটিয়া আধিপত্য নড়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘এই জয় বার্তা দিচ্ছে—টিম ইন্ডিয়া এখন তাদের সমকক্ষ!’
পরিবার–সমাজের মানসিকতার প্রসঙ্গও টেনেছেন গাভাসকর। তাঁর কথায়, ‘৮৩–র পর যেমন অভিভাবকেরা সন্তানের ক্রিকেট–কেরিয়ারকে ভরসা করেছেন, পরে আইপিএল (IPL) সেটাকে অন্য স্তরে তুলেছে, এর ফলেই তো দেশের নানা প্রান্ত থেকে খেলোয়াড় উঠে এসেছে। মেয়েদের ক্ষেত্রেও একই পরিবর্তন আসবে—এই জয় তার অনুঘটক!’
ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামের ফাইনালে ভারত তোলে ২৯৮/৭। শেফালি বর্মা (Shafali Verma) ৮৭ (৭৮), দীপ্তি শর্মা (Deepti Sharma) ৫৮ বলে ৫৮। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) অধিনায়ক (Laura Wolvaardt) একাই লড়লেন—১০১ (৯৮)। বাকিদের গিলে খেল ভারতের স্পিন আক্রমণ। ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ দীপ্তি শেষ আঘাতটা হানলেন আর ভারত জিতল ৫২ রানে।
জয়ের পর স্টেডিয়াম জুড়ে বিজয়-উল্লাস। ট্রফি হাতে যোগ দিলেন মিতালি রাজ–ঝুলন গোস্বামীরাও (Mithali–Jhulan)—মিলল প্রজন্মান্তরের পরিশ্রমের স্বীকৃতি! গ্যালারিতে ভারতীয় পুরুষ দলের সদ্যপ্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ছিলেন পরিবারের সঙ্গে।
এহেন উৎসবের আবহে গাভাসকরের বার্তাকে দু’ভাগে দেখা যায়—
প্রথমত, তুলনা নয়, প্রেক্ষাপট বোঝা দরকার। ১৯৮৩–র পথ ভিন্ন; মেয়েদের দলের অভিজ্ঞতা–ভিত্তি আগে থেকেই তৈরি ছিল।
দ্বিতীয়ত, সামগ্রিক অভিঘাত একই রকম বড়। বিশ্বব্যাপী বার্তা গেছে—ভারতের মেয়েরা এখন বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম শক্তি। আর মাঠের বাইরে এর সামাজিক–বাণিজ্যিক প্রভাব? ইতিমধ্যে যা ইঙ্গিত, তাতে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে। অর্থাৎ, সারকথা এই: ‘৮৩–র ছায়ায় না রেখে, ২০২৫–কে তার নিজস্ব জায়গায় পড়তে হবে। এ এক মাইলফলক, যা ভারতকে ক্রিকেটের মানচিত্র নতুন করে এঁকে দিল।