বরুণ সাধারণত ৫ থেকে ৭ মিটার লেন্থে বল ফেলেন। টি-২০ ক্রিকেটে এই লেন্থ কার্যকর বলে ধরা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় সেই বলকেও ব্যাটাররা আক্রমণ করছে।

বরুণ চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 6 March 2026 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে (Wankhede Stadium) ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ভারতের জয় এসেছে ঠিকই। কিন্তু এই একই ম্যাচ সামনে টেনে আনল গুরুতর প্রশ্ন—বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy) কি ছন্দ হারাচ্ছেন? চার ওভারে ৬৪ রান। উইকেট মাত্র একটি। টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সবচেয়ে খরুচে বোলিং স্পেল। ফলে ফাইনালের আগে ভারতীয় শিবিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—রহস্য স্পিনারের জাদু কি আর আগের মতো কাজ করছে না?
পরিসংখ্যানে ধাক্কা
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে বরুণের বোলিং পরিসংখ্যান ১/৬৪। টি-২০ ক্রিকেটে সর্বাধিক খরুচে স্পেলগুলির তালিকায় তাঁর পাশে শ্রীলঙ্কার সনৎ জয়সূর্য (Sanath Jayasuriya)। ২০০৭ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যাঁর বোলিং ছিল ০/৬৪! একই রকম অস্বস্তিকর রেকর্ড রয়েছে যুজবেন্দ্র চাহালের (Yuzvendra Chahal)—২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ০/৬৪। লজ্জার লিস্টে জুড়েছে বরুণের নাম। টিম ইন্ডিয়ার জন্য এই পরিসংখ্যান খুব একটা সুখকর নয়। যদিও ভারতের সবচেয়ে খরুচে স্পেল এখনও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার (Prasidh Krishna)। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিনি দিয়েছিলেন ৬৮ রান। একটি উইকেটও হাতে আসেনি। প্রসঙ্গত, চলতি বিশ্বকাপেই সবচেয়ে খারাপ বোলিং পরিসংখ্যানের নজির তৈরি হয়েছে। মার্কিন পেসার সৌরভ নেত্রাভালকর (Saurabh Netravalkar) ভারতের বিরুদ্ধে খরচ করেন ৬৫ রান। তিনিই আপাতত তালিকার শীর্ষে!
টুর্নামেন্টের দুই ছবি
টুর্নামেন্টে বরুণের পারফরম্যান্স যেন দুই ভাগে বিভক্ত। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত। চার ম্যাচে নেন ৯ উইকেট। ইকোনমি ছিল ৬.৮৮। প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করেছে তাঁর বৈচিত্র্য। কিন্তু প্রতিযোগিতা যত এগিয়েছে, ছবি ক্রমশ বদলেছে। শেষ চার ম্যাচে ঝুলিতে এসেছে মাত্র চার উইকেট। ইকোনমি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.৬২।
বস্তুত, এই ম্যাচগুলোয় প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী—দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa), জিম্বাবোয়ে (Zimbabwe), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (West Indies) এবং ইংল্যান্ড (England)। ফলে ব্যাটাররা অনেক বেশি প্রস্তুতি নিয়ে নেমেছে। ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে (Ryan ten Doeschate) অবশ্য আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—সমস্ত দল এখন বরুণকে আলাদাভাবে খেলছে। আগে ব্যাটাররা তাঁকে চার্জ করে মারার চেষ্টা করত। এখন সেটা কমেছে। পরিবর্তে চড়েছে ক্রিজের গভীরে দাঁড়িয়ে ‘স্টেপ-হিট’ বা পেছনে সরে শট খেলার হার।
বরুণ সাধারণত ৫ থেকে ৭ মিটার লেন্থে বল ফেলেন। টি-২০ ক্রিকেটে এই লেন্থ কার্যকর বলে ধরা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় সেই বলকেও ব্যাটাররা আক্রমণ করছে। প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার অনিল কুম্বলে (Anil Kumble) মনে করেন, বরুণকে আরও বৈচিত্র আনতে হবে। তাঁর মতে, ডান হাতি ব্যাটারের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বল এবং ভেতরে ঢোকা বল—দুটোরই মিশ্রণ বাড়ানো জরুরি। তাতে ব্যাটারদের ‘পড়তে’ অসুবিধা।
তবে সব সমালোচনার মধ্যেও একটা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত ভারতের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বরুণই। সাত ম্যাচে তাঁর উইকেট সংখ্যা ১২। তাই ফাইনালের আগে প্রশ্নটা পরিষ্কার—ছন্দ হারানো স্পিনারকে কি আবার ভরসা করবে টিম ম্যানেজমেন্ট? নাকি বড় ম্যাচের আগে বদল আসতে পারে একাদশে? উত্তর মিলবে আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে (Narendra Modi Stadium)। সেখানে ভারতের সামনে নিউজিল্যান্ড (New Zealand)। সেই ম্যাচেই বোঝা যাবে—বরুণের রহস্য এখনও অটুট, নাকি ব্যাটাররা তার চাবিকাঠি খুঁজে ফেলেছে।