এখন পরীক্ষা ধারাবাহিকতার। ১৫ মিনিটের ভিডিও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়েছে ঠিকই, এবার সেই বিশ্বাস মাঠে ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।

টিম ইন্ডিয়া
শেষ আপডেট: 27 February 2026 11:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে ১১১-এ অলআউট। ৭৬ রানের হার। সমালোচনার ঝড়। ঠিক তারপরেই চেন্নাইয়ে ২৫৬/৪—টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। কীভাবে এমন নাটকীয় প্রত্যাবর্তন? অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) জানালেন, ম্যাচের আগে ১৫ মিনিটের একটি ভিডিও সেশনই বদলে দিয়েছে দলের মানসিকতা। নুয়ে পড়া একঝাঁক মুখ নিমেষে চাঙ্গা! যার ছাপ দেখা গেল গতরাতে। এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে (MA Chidambaram Stadium) জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয়। যার সুবাদে ভারত ৭২ রানে ম্যাচ পকেটে পুরেছে। যদিও অধিনায়কের বক্তব্য স্কোরবোর্ডের এই হিসেব স্রেফ মাঠের লড়াই নয়, নেপথ্যে রয়েছে প্রস্তুতির অন্য গল্প।
টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) সুপার এইট ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক টিম ইন্ডিয়া। ওপেনার থেকে ছ’নম্বর পর্যন্ত প্রত্যেকের খাতায় ২০-র বেশি রান, স্ট্রাইক রেট দেড়শোর উপরে—বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন নজির প্রায় বিরল!
একদিকে ছন্দহীন অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। কাল ফর্মে ফিরে ৩০ বলে ৫৫ করে টুর্নামেন্টে প্রথম অর্ধশতরান পেলেন। সঙ্গে সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) ২৪, ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan) ৩৮। শেষ দিকে ঝড় হার্দিক পাণ্ডিয়া (Hardik Pandya) ও তিলক বর্মার (Tilak Varma)। ২৩ বলে অপরাজিত ৫০ হার্দিকের, ১৬ বলে ৪৪* তিলকের। দু’জনে মিলে গড়লেন ৩১ বলে ৮৪ রানের জুটি। আমদাবাদের ধসের পর ভারতের এই দুর্দান্ত দলগত ব্যাটিং পারফরম্যান্স ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দলকে ভরসা জোগাবে।
ভিডিও স্লাইড বদলে দিল মানসিকতা
কোন মন্ত্রে এই মহাকাব্যিক কামব্যাক? ম্যাচ শেষে সূর্যকুমার অকপট৷ জানালেন, আগের পরাজয় নিয়ে কেউ-ই বাড়তি কইছু ভাবেননি৷ বরং, ভিডিও অ্যানালিস্ট সবাইকে চাঙ্গা করতে একটি বিশেষ প্রেজেন্টেশন তৈরি করেন। সেখানে গত এক বছরে ব্যাটার ও বোলারদের সাফল্যের মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হয়।
অধিনায়কের কথায়, ‘আমরা লিগ স্টেজ বা আগের ম্যাচ নিয়ে বেশি চিন্তা করিনি। ভিডিও অ্যানালিস্ট গত এক বছরে আমরা কী করেছি, সেই স্লাইড বানিয়েছিল। দেখে প্রচুর ইতিবাচক শক্তি পেয়েছি। গতরাতে সবাই অবদান রাখায় খুব ভাল লেগেছে।’
নায়ক তিলক বর্মাও সুরে সুর মেলালেন। তাঁর বক্তব্য, ম্যাচের আগে ১৫ মিনিটের ভিডিও সেশন, যেখানে গত এক বছরে টিম ইন্ডিয়া কী কী সাফল্য অর্জন করেছে, তা গুছিয়ে দেখানো হয়। সেই ক্লিপিং-ই নাকি দলের প্রত্যেকের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে৷ ধসের পর আত্মবিশ্বাস ফেরানো ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই জায়গায় টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা কাজ করেছে।
সামনে কোয়ার্টার-ফাইনালের চাপ
যদিও এতকিছুর পরও আসল কাজ এখনও শেষ হয়নি। সুপার এইটে ভারতের ভাগ্য নির্ধারণ হবে শেষ ম্যাচে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের (West Indies) বিরুদ্ধে, কলকাতায়। জিতলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত। হারলেই বিদায়। চেন্নাইয়ে ব্যাটিংয়ের আগ্রাসন ফিরেছে। কিন্তু এখন পরীক্ষা ধারাবাহিকতার। ১৫ মিনিটের ভিডিও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়েছে ঠিকই, এবার সেই বিশ্বাস মাঠে ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।