অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য পরিষ্কার—প্রতিটি বিশ্বকাপ জেতা। ডোডেমাইড স্পষ্ট বলেছেন, ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ ও ২০২৮ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের রূপরেখা এই রিভিউয়ের পর তৈরি হবে।

বিপন্ন অজি শিবির
শেষ আপডেট: 19 February 2026 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) মঞ্চে গ্রুপ পর্বে বিদায়। ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া (Australia) এবার সুপার এইটেই উঠতে ব্যর্থ। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে হারের জেরে শেষ হয়ে গেল অভিযান। মুখ থুবড়ে পড়ার কারণ খুঁজতে এখন ‘ফরেনসিক রিভিউ’য়ের পথে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (Cricket Australia)। এই ‘ফরেনসিক’শব্দটাই অনেক কিছু বলে দেয়। শুধু ফল নয়, পুরো প্রক্রিয়া—প্রস্তুতি থেকে দল নির্বাচন—সবই বিশ্লেষণ করা হবে। টুর্নামেন্ট শেষ হতেই সিদ্ধান্ত—পুরো প্রচারাভিযান খতিয়ে দেখা হবে। প্রস্তুতি, দল নির্বাচন, কৌশল—সবই আসতে চলেছে কাঁচের নীচে।
গ্রুপ-স্তরে বিদায়—কোথায় সমস্যা?
অস্ট্রেলিয়া শেষবার ২০০৯ সালে সুপার পর্বে উঠতে পারেনি। এতদিন পর আবার একই পরিণতি। শ্রীলঙ্কার কাছে হার, তারপর জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ধাক্কা—এই দু’টি ম্যাচই কার্যত বিদায়ের সিলমোহর। বড় মঞ্চে ধারাবাহিকতা ছিল না। ব্যাটিংয়ে ছন্দের অভাব, বোলিংয়ে চাপ ধরে রাখতে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে দলটা কখনও গতি পায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনায় ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে ছিল অজি শিবির। ফলে গ্রুপ পর্ব বিদায়—যা তাদের বর্ণময় ইতিহাসে বিরল—এক অর্থে অবধারিত!
চোট, অবসর আর ভারসাম্যের ভাঙন
এই ব্যর্থতার পেছনে চোটও বড় কারণ। প্যাট কামিন্স (Pat Cummins) ও জশ হেজলউড (Josh Hazlewood)—দুই প্রধান পেসার অনুপস্থিত। মিচেল মার্শ (Mitchell Marsh) প্রথম দু’ম্যাচে খেলতে পারেননি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মিচেল স্টার্কের (Mitchell Starc) টি-২০ আন্তর্জাতিক থেকে অবসর। তাঁর অভিজ্ঞতা ও ডেথ বোলিংয়ের অভাব এবারের টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সে প্রকট। ফলে বোলিং আক্রমণে ভারসাম্য দানা বাঁধেনি। নতুনদের সুযোগ দেওয়া হলেও চাপের মুহূর্তে অনেক কিছুর ঘাটতি ধরা পড়েছে।
নির্বাচক টনি ডোডেমাইড (Tony Dodemaide) জানিয়েছেন, খেলোয়াড়েরা দেশে ফিরলেই পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শুরু হবে। তাঁর কথায়, ‘টুর্নামেন্ট যেভাবে গড়াল, তা হতাশাজনক। তবে আবেগ কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ জরুরি!’
সামনে ২০২৭-২৮—নতুন রূপরেখা?
অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য পরিষ্কার—প্রতিটি বিশ্বকাপ জেতা। ডোডেমাইড স্পষ্ট বলেছেন, ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ ও ২০২৮ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের রূপরেখা এই রিভিউয়ের পর তৈরি হবে। উল্লেখ্য, বছর দুই পরে শুরু হতে চলা টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়াই আয়োজন করবে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে। ফলে ঘরের মাঠে নামার আগে দুর্বলতা চিহ্নিত করাটা জরুরি।