এই সিরিজে ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ফলে দায়িত্ব আরও বেশি। ব্যাট হাতে রান করা তো বটেই, মাঝের ওভারে চাপ সামলানো, পার্টনারশিপ গড়া—সব দিকেই তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রেয়স আইয়ার
শেষ আপডেট: 13 January 2026 12:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় একদিনের ক্রিকেটে বড় রেকর্ড ভাঙার মুখে দাঁড়িয়ে শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer)। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়ার সুযোগ। দরকার মাত্র ৩৪ রান। সেই রান পকেটে এলেই পিছনে পড়ে যাবেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও শিখর ধাওয়ান (Shikhar Dhawan)—ভারতের সেরা ব্যাটারদের তালিকায় যাঁদের নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে।
রাজকোটের মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নামার আগে তাই শ্রেয়সকে ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে। শুধু সিরিজ জয় নয়, এই ম্যাচে চোখ থাকবে এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিগত মাইলস্টোনের দিকেও।
৩৪ রানের দূরত্বে ইতিহাস
এই মুহূর্তে ওয়ানডে ক্রিকেটে আইয়ারের সংগ্রহ ৬৮ ইনিংসে ২,৯৬৬ রান। গড় ৪৭.৮৩। রয়েছে পাঁচটি শতরান ও ২৩টি অর্ধশতক। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে যদি তিনি ৩৪ রান করতে পারেন, তাহলেই পূর্ণ হবে ৩,০০০ রান। যা তাঁকে করে তুলবে ভারতের দ্রুততম ব্যাটার।
এই রেকর্ড এখনও শিখর ধাওয়ানের দখলে। তিনি ৭২ ইনিংসে এই মাইলস্টোনে পৌঁছেছিলেন। তার পরেই বিরাট কোহলি—৭৫ ইনিংসে। শ্রেয়স যদি রাজকোটে সফল হন, তাহলে মাত্র ৬৯ ইনিংসেই ৩,০০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যাবেন।
শুধু ভারতীয় শিবির নয়, বিশ্বক্রিকেটের নিরিখেও তা হতে পারে বিরাট সাফল্য। শ্রেয়স তখন কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডসের (Viv Richards) সঙ্গে যুগ্মভাবে চতুর্থ দ্রুততম ব্যাটার হয়ে উঠবেন। সব মিলিয়ে রেকর্ড অবশ্য এখনও দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলার (Hashim Amla) দখলে—যিনি মাত্র ৫৭ ইনিংসে এই কীর্তি গড়েছিলেন।
কামব্যাক ম্যাচেই ছাপ ফেলেছেন
বরোদায় প্রথম ওয়ানডেতে কামব্যাকের পর নিজের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন শ্রেয়স। দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই খেলেছেন ঝরঝরে ইনিংস—৪৭ বলে ৪৯ রান। চারটি চার ও একটি ছক্কা। আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং। ওই ম্যাচে তৃতীয় উইকেটে বিরাট কোহলির সঙ্গে ৭৭ রানের জুটি গড়েন শ্রেয়স। যা ৩০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ম্যাচের রাশ ভারতের হাতে তুলে দেয়। দলের প্রয়োজনে কীভাবে ইনিংস গুছিয়ে খেলতে হয়, তার নমুনা আবারও পেশ করেছেন শ্রেয়স।
এই সিরিজে ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ফলে দায়িত্ব আরও বেশি। ব্যাট হাতে রান করা তো বটেই, মাঝের ওভারে চাপ সামলানো, পার্টনারশিপ গড়া—সব দিকেই তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ফিটনেসের প্রশ্নচিহ্ন পেরিয়ে নতুন লক্ষ্য
ক্যাচ ধরতে গিয়ে প্লীহায় চোট পাওয়ার পর শ্রেয়সের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে মাঠে নেমে সেই সংশয় অনেকটাই মিটিয়েছেন তিনি। বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের (Mumbai) হয়ে খেলেছেন একাধিক কার্যকর ইনিংস। হিমাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে চার নম্বরে নেমে ৫৩ বলে ৮২ রান। ম্যাচ শেষে বিসিসিআইয়ের (BCCI) সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের মেডিক্যাল টিম তাঁর ফিটনেসে আপাতত সন্তুষ্ট। নির্ধারিত সময়ের আগেই পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের ছাড়পত্র। এখন সামনে লক্ষ্য—দলকে জেতানো, রাজকোটে ব্যাট হাতে ইতিহাস লেখা, কোহলি-ধাওয়ানদের পাশে নিজের নাম বসানো।