চিকিৎসকদের অনুমান, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে প্লীহার কমপক্ষে ছ’থেকে বারো সপ্তাহ সময় লাগে। এই সময়ে কোনও রকম শারীরিক পরিশ্রম বা ধাক্কাধাক্কি নিষিদ্ধ।
.jpeg.webp)
শ্রেয়স আইয়ার
শেষ আপডেট: 28 October 2025 10:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে স্বস্তির খবর। সিডনিতে (Sydney) ভয়াবহ চোট পাওয়া শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) এখন স্থিতিশীল। টিম ইন্ডিয়ার (India) টি–২০ অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) জানালেন, আইসিইউতে (ICU) চিকিৎসাধীন শ্রেয়স মেসেজের উত্তর দিচ্ছেন। অর্থাৎ, আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার (Australia) বিরুদ্ধে শেষ একদিনের ম্যাচে ক্যাচ নিতে গিয়ে মাঠেই চোট পান শ্রেয়স। অ্যালেক্স ক্যারির (Alex Carey) শট ধরতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট থেকে দৌড়ে পড়ে যান। বল হাতে রাখলেও আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি। দ্রুত টিম ডাক্তারেরা তাঁকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যান। পরে সিডনির হাসপাতালে ভর্তি করা হলে স্ক্যান রিপোর্টে দেখা যায়, তাঁর প্লীহায় (Spleen) রক্তক্ষরণ।
বোর্ডের (BCCI) নির্দেশে শ্রেয়সকে সঙ্গে সঙ্গে আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়। এই ধরনের আঘাত প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। সেই সময়টুকু পার হওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। তবে এখনও তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে সূর্যকুমার যাদব বলেন, ‘প্রথম দিন যখন শুনলাম শ্রেয়স আহত, তখনই কল করেছিলাম। কিন্তু জানতে পারলাম, ফোনটা ওর কাছে নেই। তারপর টিম ফিজিওর সঙ্গে কথা বলি—তিনিই জানান, অবস্থা স্থিতিশীল। প্রথম দিন কিছু নিশ্চিত বলা যাচ্ছিল না। কিন্তু গত দু’দিন ধরে ওর সঙ্গে মেসেজে কথা হচ্ছে। ও এখন উত্তর দিচ্ছে, মানে অবস্থা ভালো।’সূর্যের সংযোজন, ‘চিকিৎসকেরা পাশে আছেন। পর্যবেক্ষণে থাকলেও ও এখন ঠিক আছে। আমি যেভাবে কথা বলেছি, শুনে মনে হচ্ছে, দ্রুত সেরে উঠবে!’
মেডিক্যাল টিম সূত্রে খবর, শ্রেয়সকে অন্তত আরও কয়েক দিন সিডনির হাসপাতালে রাখা হবে। নিয়মিত স্ক্যান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁর শারীরিক অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। এখন সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা না থাকায় অবস্থার উন্নতি স্পষ্ট!
কী ধরনের চোট পেয়েছেন শ্রেয়স আইয়ার?
প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, পাঁজরে (Rib Cage) চোট লেগেছে। কিন্তু পরে দেখা যায়, আঘাত আসলে প্লীহায়। যা শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গ, যা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও রক্ত ফিল্টার করার কাজ করে। এই অঙ্গে ক্ষত হলে গভীর রক্তক্ষরণ পর্যন্ত হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন হয়।
শ্রেয়সের ক্ষেত্রে ক্ষতটিকে ‘সেল্ফ–কন্টেইনড’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আঘাত গভীর নয় এবং রক্তপাত বন্ধ রয়েছে। ফলে অস্ত্রোপচারের দরকার পড়েনি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে শরীরের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করেই তাঁকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কতদিন লাগবে মাঠে ফিরতে?
চিকিৎসকদের অনুমান, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে প্লীহার কমপক্ষে ছ’থেকে বারো সপ্তাহ সময় লাগে। এই সময়ে কোনও রকম শারীরিক পরিশ্রম বা ধাক্কাধাক্কি নিষিদ্ধ। চিকিৎসা সম্পূর্ণ সফল হলে শ্রেয়সের তিন মাসের মধ্যে মাঠে ফেরার সম্ভাবনা। তার পরেই শুরু হবে ধীরে ধীরে ফিটনেস ট্রেনিং ও রিহ্যাব (Rehabilitation Process)।