আমাকে গৃহবধূ হয়ে থাকতে বাধ্য করেছিল ও। কিন্তু সামিকে খুব ভালবাসতাম, তাই সব মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমার কোনও উপার্জন নেই। আমাদের যাবতীয় খরচের দায়িত্ব সামিকে নিতেই হবে। তাই ও যখন দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করল, বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হই।

মহম্মদ সামি ও হাসিন জাহান
শেষ আপডেট: 2 July 2025 19:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টিম ইন্ডিয়া এখন রয়েছে ইংল্যান্ড সফরে। সেখানে পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলছে শুভমান গিল-গৌতম গম্ভীরের ভারত। আজ থেকে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় টেস্ট। কিন্তু এবারের সফরে নেই ভারতের অন্যতম সেরা স্পিড স্টার মহম্মদ সামি (Mohammed Shami)। বিসিসিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে পুরোপুরি চোটমুক্ত নন বাংলার এই পেসার, তাই তাঁকে দলে রাখা হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ সফরে যেতে না পেরে এমনিতেই মন খারাপ সামির। পাশাপাশি ৭ বছর আগের ঘটনা এখনও তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
সামি তখন ছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের সদস্য। সেই সময় দলের অন্যতম চিয়াল লিডার ছিলেন হাসিন জাহান (Hasin Jahan)। মাঠেই এই দুই জনের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক শুরু হয়, যা গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত।
কিন্তু দাম্পত্য জীবন মোটেও সুখের হয়নি এই স্পিডস্টারের। বিয়ের চার বছর পর ২০১৮ সালের মার্চ মাসে যাদবপুর থানায় সামি এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার মামলা দায়ের করেন হাসিন জাহান। পারিবারিক সহিংসতা ছাড়াও, হাসিন সামির বিরুদ্ধে যৌতুক, নির্যাতন এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগও করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, সামি তাঁর পরিবারের খরচ চালানোর আর্থিক দায়িত্ব নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
সেই মামলা এখনও চলছে। হাসিন জাহানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অজয় মুখোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, মহম্মদ সামিকে মাসিক ৪ লক্ষ টাকা খোরপোশ বাবদ দিতে হবে হাসিনকে। এর মধ্যে রয়েছে হাসিনের মাসিক খরচ বাবদ দেড় লক্ষ টাকা ও নাবালিকা মেয়ের খরচের জন্যে আড়াই লক্ষ টাকা।
এর আগে ২০১৮ সালে সামির কাছ থেকে খোরপোশ বাবদ ৭ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন হাসিন। আরও ৩ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন মেয়ের পড়াশোনার খরচ বাবদ। অবশ্য তাঁর সেই দাবি অবশ্য মেনে নেয়নি আদালত।
আদালতের সোমবারের রায়ের পর হাসিন জানিয়ে দিয়েছেন, এই রায়ে তিনি খুশি। তবে প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে ফের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হাসিন। বলেছেন, মডেলিং দুনিয়ায় তাঁর কেরিয়ার শেষ করে দিয়েছেন জাতীয় দলের এই তারকা পেসার। পাশাপাশি জানিয়েছেন, আপাতত তাঁর কোনও রোজগার নেই।
সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের হাসিন বলেছেন, “বিয়ের আগে আমি মডেলিং করতাম। তাতে আমার খরচ দিব্যি চলে যেত। কিন্তু আমার মডেলিং বন্ধ করে দেয় সামি। আমাকে গৃহবধূ হয়ে থাকতে বাধ্য করেছিল ও। কিন্তু সামিকে খুব ভালবাসতাম, তাই সব মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমার কোনও উপার্জন নেই। আমাদের যাবতীয় খরচের দায়িত্ব সামিকে নিতেই হবে। তাই ও যখন দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করল, বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হই। ঈশ্বরকে অশেষ ধন্যবাদ, আমাদের দেশে এখনও আইন রয়েছে যা সকলকে নিজেদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়।”