মিরাজ–হৃদয় জুটি চতুর্থ উইকেটে ১০১ রান তুলে দলকে সামলালেও দু’জনেই অর্ধশতক ছুঁয়েই সাজঘরের পথে হাঁটা দেন।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 9 October 2025 11:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবুধাবির (Abu Dhabi) তীব্র গরমেও গর্জে উঠল আফগানিস্তান (Afghanistan)! রশিদ খানের (Rashid Khan) ঘূর্ণিতে, আজমাতুল্লাহ ওমরজাইয়ের (Azmatullah Omarzai) অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের (Bangladesh) বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেই ৫ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নিল হাশমতুল্লাহ শাহিদির (Hashmatullah Shahidi) দল। তিন ম্যাচের সিরিজে ১–০ এগিয়ে গেল আফগানরা।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ থেমে যায় ২২১ রানে (৪৮.৫ ওভার)। অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের (Mehidy Hasan Miraz) ৬০ আর তৌহিদ হৃদয়ের (Towhid Hridoy) ৫৬ রান কিছুটা প্রতিরোধ গড়া তুললেও দলের বাকিদের ব্যর্থতায় স্কোরবোর্ড বেশি দূর এগোয়নি। আফগান বোলারদের মধ্যে রশিদ খান (৩/৩৮) তিন উইকেট তুলে নেন। তিনটিই ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে—মিরাজ, জাকার আলি আর নুরুল হাসানকে ফেরান এই তারকা স্পিনার।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরু থেকেই ছন্দপতন। ঝটতি তিন উইকেট পড়ে যায় মাত্র ১২ ওভারেই। এরপর মিরাজ–হৃদয় জুটি চতুর্থ উইকেটে ১০১ রান তুলে দলকে সামলালেও দু’জনেই অর্ধশতক ছুঁয়েই সাজঘরের পথে হাঁটা দেন। এরপর ফের ব্যাটিং ধস। শেষপর্যন্ত ২২১ রানে গুটিয়ে যায় ব্যাটিং লাইনআপ।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করে আফগানিস্তান। রহমানউল্লাহ গুরবাজ (Rahmanullah Gurbaz) আর ইব্রাহিম জাদরানের (Ibrahim Zadran) ৫০ রানের ওপেনিং জুটি আত্মবিশ্বাস আনে। দু’জনেই খেলেন দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোক। গুরবাজ (৫০) ও রাহমত শাহ (Rahmat Shah, ৫০) আউট হয়ে ফেরার পর খানিকটা চাপ তৈরি হলেও ঠিক তখনই হাল ধরেন আজমাতুল্লাহ ওমরজাই। বল হাতে তিন উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ঝড়। ৪৪ বলে ৪০ রান—ছয়টি চার আর এক ছক্কা! তাঁর ইনিংসেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। অধিনায়ক শাহিদি (৩৪*) ও অভিজ্ঞ মহম্মদ নবির (Mohammad Nabi) অপরাজিত জুটিতে ১৭ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত আফগানদের। শেষ শট? নবির ব্যাট থেকে দাপুটে ছক্কা!
এমন দিনে আফগানিস্তান শিবির সাক্ষী থাকল একাধিক ব্যক্তিগত সাফল্যের:
১. রশিদ খান হলেন দেশের প্রথম বোলার যিনি ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট শিকার করলেন (মাত্র ১১৫ ম্যাচে)।
২. রহমত শাহ প্রথম আফগান ব্যাটার যাঁর একই ফরম্যাটে ৪ হাজার রান পূর্ণ হল।
আবুধাবির মরু হাওয়া তাই আবারও এক আফগান-উত্থানের সাক্ষী থাকল। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য চিন্তার কারণ—হারের থেকেও বড়, দলীয় ছন্দে ক্রমাগত ভাটা পড়া।