হাতে রজনীকান্তের পাঞ্চলাইন, মাথায় চেন্নাইয়ের পাঠ, আর মনে দাদুর স্মৃতি—এই তিন শক্তি বুকে নিয়েই ময়দানে নামবেন আদিত্য অশোক।

আদিত্য অশোক
শেষ আপডেট: 9 January 2026 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাদুকে বড় ভালবাসত আদিত্য। যখন খুব অসুস্থ, বিছানায় শুয়ে, তাঁর সঙ্গে দেখেছিল রজনীকান্তের সিনেমা। একের পর এক পাঞ্চলাইনে ভরা ছায়াছবি দেখে মন ভরেছিল। স্মৃতিও।
এরপর হাত ছেড়েছেন দাদু। চলে গেছেন অন্য দুনিয়ায়। দেশ ছেড়েছে আদিত্যও। ভেলোর থেকে সেই সুদূর নিউজিল্যান্ড! কিন্তু নিজের তামিল জাতিসত্তা ভোলেনি। আচারে, বিচারে মেনে চলে জন্মদত্ত পরিচয়, পূর্বজদের সংস্কৃতি। দাদুর ঠান্ডা হাতের স্পর্শও। আর তাই তাঁকে নিয়ত স্মরণে রাখতে হাতে খোদাই করা ট্যাটুতে আদিত্য লিখে রেখেছে রজনীকান্তের সেই ছায়াছবির বিখ্যাত উক্তি—‘আমার পন্থাই বিশেষ পন্থা!’ (‘En vazhi thani vazhi’)
পুরো নাম আদিত্য অশোক (Adithya Ashok)—নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) উঠতি লেগ-স্পিনার, যাঁকে ঘিরে ভারত সফরের আগে কিউয়ি ড্রেসিংরুমে আলাদা কৌতূহল।
ভেলোর থেকে ব্ল্যাক ক্যাপস: শিকড় ছেঁড়া নয়, বয়ে আনা
চার বছর বয়সে পরিবার নিয়ে ভেলোর (Vellore, Tamil Nadu) ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি দেন আদিত্য। ছোটবেলা কেটেছে অন্য পরিবেশে, অন্য মাঠে। তবু তামিল পরিচয় কখনও মুছে যায়নি। দাদুর হাত ধরে সিনেমা দেখা, ভাষা, খাবার—সবই রয়ে গেছে নিজের মতো। সেই উত্তরাধিকারই আজ তাঁর পরিচয়ের অঙ্গ। নিউজিল্যান্ডের (New Zealand Cricket) হয়ে খেললেও, এ দেশের মাঠ-ঘ্রাণ আদিত্যর কাছে অচেনা নয়। নিয়মিত ভারত যাতায়াত, আত্মীয়স্বজন, সর্বোপরি ক্রিকেটের টান—সব মিলিয়ে উপমহাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির সঙ্গে যোগ খুব গভীর।
চেন্নাইয়ের পাঠশালা: সিএসকে অ্যাকাডেমিতে হাতেখড়ি
২০২৫ সালে চেন্নাই সুপার কিংস অ্যাকাডেমিতে (CSK Academy, Chennai) কয়েক সপ্তাহের ট্রেনিং বদলে দিয়েছে আদিত্যর ক্রিকেট-ভাবনা। লাল মাটি, কালো মাটির উইকেট—দুটোর চরিত্র আলাদা। কোথায় কতটা ফ্লাইট দিতে হবে, কোথায় গতি কমাতে হবে, কীভাবে ব্যাটারকে সেট আপ করতে হবে—এই সব ‘ফাইন প্রিন্টে’র হাতেকলমে শিক্ষালাভ!
ট্রেনিংয়ে বড় ভূমিকা নেন যিনি, তাঁর নাম শ্রীরাম কৃষ্ণমূর্তি (Sriram Krishnamurthy)। আদিত্য নিজেই জানিয়েছেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে ‘রেডি মেড’ করে দেয়নি, ক্রিকেট-লাইব্রেরিকেও সমৃদ্ধ করেছে। আধুনিক ক্রিকেটে যা আসল—অভিজ্ঞতার ডেটাবেস। ভারতের (India) বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এই চেন্নাই অধ্যায় কাজে লাগাতে চান আদিত্য। বিশেষ করে বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) মতো ব্যাটারদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা সাজাতে উদগ্রীব।
‘ওয়ার্ন আমার আইডল, ঈশ বড়দার মতো’
লেগ-স্পিন মানেই শেন ওয়ার্ন (Shane Warne)। আদিত্যর চোখেও তিনিই সর্বকালের সেরা। তবে নিউজিল্যান্ডে বেড়ে ওঠার সুবাদে তাঁর সবচেয়ে কাছের প্রেরণা ঈশ সোধি (Ish Sodhi)। আদিত্যর কথায়, ‘ও আমার কাছে বড়দার মতো।’ কেরিয়ারের নানা বাঁকে পরামর্শ, মানসিক সাপোর্ট—সবই পেয়েছেন তাঁর থেকে। আরও এক ভারতীয়-মূলের স্পিনার তরুণ নেথুলা (Tarun Nethula) আদিত্যর মেন্টর। কঠিন সময়েও পাশে ছিলেন প্রাক্তন কিউয়ি ক্রিকেটার পল উইজম্যান (Paul Wiseman)। বিশেষ করে সেই সময়, যখন বিরল এক পিঠের চোটের জন্য অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল—একজন স্পিনারের কাছে যা ভয়ঙ্কর ধাক্কা।
জন্মভূমিতে অগ্নিপরীক্ষা
ভেলোরে জন্ম, কিন্তু কেরিয়ার গড়া নিউজিল্যান্ডে। এবার ভারতের মাটিতে, জন্মভূমির মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ। বারোদা (Baroda) থেকে শুরু হওয়া সিরিজ আদিত্যর কাছে শুধু আরেকটা আন্তর্জাতিক সুযোগ নয়—পরিচয়ের দ্বন্দ্ব, আবেগ আর পেশাদার লড়াইয়ের মিশেল।
হাতে রজনীকান্তের পাঞ্চলাইন, মাথায় চেন্নাইয়ের পাঠ, আর মনে দাদুর স্মৃতি—এই তিন শক্তি বুকে নিয়েই ময়দানে নামবেন আদিত্য অশোক। কিউয়িদের ভাঁড়ারে তিনি ‘গোপন অস্ত্র’! সত্যিই কি সত্যিই ঘুম কেড়ে নিতে পারবেন বিরাটদের? মাঠেই মিলবে সমস্ত উত্তর।