ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এই চুক্তির সবচেয়ে বড় রেভিনিউ ড্রাইভার। যদি পাকিস্তান ম্যাচ না খেলে বা বয়কট করে, তাহলে সম্প্রচারকারী আইসিসির বিরুদ্ধে আদালতে যেতে পারে।

মহসিন নকভি
শেষ আপডেট: 28 January 2026 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি–২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট—এই প্রশ্নে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan Cricket Board)। পুরো টুর্নামেন্ট নয়, আপাতত আলোচনার কেন্দ্রে শুধু ১৫ ফেব্রুয়ারির গ্রুপ ‘এ’ ম্যাচ। রাজনৈতিক চাপ, আইনি ঝুঁকি ও আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা—সব দিক খতিয়ে দেখে এগতে চাইছে পিসিবি (PCB)।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে
টেলিকম এশিয়া স্পোর্টের (Telecom Asia Sport) রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর (Prime Minister of Pakistan) সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। ভারত ম্যাচ নিয়ে কী করা হবে, সেই বিষয়ে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক স্তর থেকে নির্দেশ চাইছেন নকভি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে শুক্রবার অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে।
রিপোর্টমতে, নকভি আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (United Arab Emirates) রয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির (Asif Ali Zardari) সফরসঙ্গী হিসেবে। সেখানেও এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, আগামী কয়েক দিনে কয়েকজন প্রাক্তন পিসিবি চেয়ারম্যানের (Former PCB Chairmen) মতামত নেওয়া হবে।
ভারত ম্যাচ নিয়ে ধীরে চলো নীতি
রিপোর্ট অনুযায়ী, পিসিবির অন্দরমহলে ভারত ম্যাচ বয়কট সংক্রান্ত বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তবে পাকিস্তান যদি টুর্নামেন্টে অংশ নেয়, তাহলে সূর্যকুমারদের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দলের প্রথম দু’টি ম্যাচের ফল দেখার পর। ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডস (Netherlands) এবং ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের (USA) বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান। সূত্রের দাবি, যদি এই দু’টি ম্যাচেই পাকিস্তান জেতে, তাহলে ভারত ম্যাচ বয়কটের সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যাবে।
আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি: ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন
তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে বড় আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি। পিসিবির আইনি উপদেষ্টারা নকভিকে জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় সম্প্রচারকারী জিওস্টার স্পোর্টসের (JioStar Sports) সঙ্গে আইসিসির (International Cricket Council) ২০২৭ সাল পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলারের সম্প্রচার চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির আয় সব সদস্য বোর্ডের মধ্যে বণ্টিত হয়ে থাকে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এই চুক্তির সবচেয়ে বড় রেভিনিউ ড্রাইভার। যদি পাকিস্তান ম্যাচ না খেলে বা বয়কট করে, তাহলে সম্প্রচারকারী আইসিসির বিরুদ্ধে আদালতে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আইসিসি পিসিবিকে নোটিস দেবে। আর তার প্রভাব পড়বে সব সদস্য দেশের বার্ষিক ফান্ডিংয়ে। একটি ম্যাচ না খেললে ক্ষতি শুধু পাকিস্তানের নয়—বিশ্ব ক্রিকেটব্যবস্থা তার ধাক্কা খেতে পারে।