মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভারতীয় দলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আর্শাদের এই উদ্যোগ যেন প্রমাণ করে দিল, ক্রিকেটের মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মানবতার কোনো সীমারেখা নেই।

জন গণ মন গাইলেন পাকিস্তানি ভক্ত
শেষ আপডেট: 4 November 2025 09:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেটের আবেগে মিশে গেল দুই দেশের সীমারেখা। রবিবার মেয়েদের বিশ্বকাপের (Women's World Cup Final) ফাইনালে এক পাকিস্তানি সমর্থকের (Pakistani Singing National Anthem) উষ্ণ মানবিক আচরণ জয় করে নিল নেটদুনিয়ার মন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে, পাকিস্তানের জার্সি গায়ে সেই ভক্ত আর্শাদ মোহাম্মদ হানিফ গাইতে শুরু করলেন ভারতের জাতীয় (India National Anthem) সঙ্গীত 'জন গণ মন'!
মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভারতীয় দলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আর্শাদের এই উদ্যোগ যেন প্রমাণ করে দিল, ক্রিকেটের মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মানবতার কোনো সীমারেখা নেই।
নিজের ইনস্টাগ্রামে আর্শাদ লিখেছেন, “গর্বের মুহূর্ত যখন সুনিধি চৌহান ভারতের জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলাদের বিশ্বকাপ ফাইনালে! চারিদিকে কাঁটা দেওয়া উত্তেজনা। চলুন একসঙ্গে আওয়াজ তুলি, ‘উইমেন ইন ব্লু’ কাপ নিয়ে আসুক ঘরে।”
বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ এসেছে ভারতের ঘরে। ২০০৫ ও ২০১৭ সালের ব্যর্থতার পর প্রথমবারের মতো মহিলাদের বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর সোমবার বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) ঘোষণা করেছে ৫১ কোটি টাকার পুরস্কার। এই অর্থ ভাগ করে দেওয়া হবে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং নির্বাচক কমিটির সদস্যদের মধ্যে।
বিসিসিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই নজিরবিহীন সাফল্যকে সম্মান জানিয়ে বোর্ড ৫১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করছে। নারী ক্রিকেটারদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং দেশের ক্রীড়া গৌরবে তাঁদের অবদান অবিস্মরণীয়।”
বোর্ড উল্লেখ করেছে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও। বিসিসিআই-এর সম্মানীয় সচিব হিসেবে তিনি দেশের নারী ক্রিকেটের কাঠামো ও পরিসর বাড়াতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে আইসিসি নারী ক্রিকেটারদের জন্য পুরুষদের সমান পুরস্কারমূল্য ঘোষণা করেছে— যা বিশ্ব ক্রিকেটে লিঙ্গসমতার পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
বিসিসিআই সচিব জয় শাহ এক্স-হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘ভারতীয় মহিলা দলের এই অভিযান অসাধারণ। তাদের দক্ষতা ও লড়াইয়ের মনোভাব যেমন অনুপ্রেরণা, তেমনই এই সাফল্যের পেছনে আছে বোর্ডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতি—সম বেতন, বড় টুর্নামেন্টে সুযোগ, উন্নত কোচিং ব্যবস্থা এবং ডব্লিউপিএল (WPL)-এর মতো লিগে খেলোয়াড় তৈরির মঞ্চ।’