হায়দরের অতীত যদিও নিষ্কলঙ্ক নয়, এর আগেও বিতর্কে নাম জড়ানোর ইতিহাস রয়েছে। ২০২১ সালের পাকিস্তান সুপার লিগ চলাকালীন আবুধাবিতে কোভিড বিধিভঙ্গের দায়ে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।

হায়দর আলি
শেষ আপডেট: 8 August 2025 10:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তান ক্রিকেটে নয়া কলঙ্ক। ইংল্যান্ড সফররত 'এ' দলের (পাকিস্তান শাহিনস) ক্রিকেটার হায়দর আলিকে (Haider Ali) ধর্ষণের অভিযোগে (Rape Allegations) গ্রেফতার করল গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ (Greater Manchester Police)।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩ অগস্ট। সেদিন লন্ডনের বেকেনহ্যাম ময়দানে এমসিএসএসি-র (MCSAC) বিরুদ্ধে খেলতে নামে পাকিস্তান শাহিনস। আর ওইদিনই পুলিশ হায়দরকে আটক করে। জানা যায়, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক তরুণী তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। টেলিকম এশিয়া স্পোর্টস সূত্রে খবর, হায়দারকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জামিনে মুক্তি দেওয়া হলেও তদন্ত শেষ না-হওয়া পর্যন্ত তাঁর পাসপোর্ট জব্দ রাখা হবে।
একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ‘এটি ধর্ষণের মামলা। অভিযোগকারী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক তরুণী।’ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বক্তব্য, তদন্ত শেষ না-হওয়া পর্যন্ত হায়দর সাময়িকভাবে সাসপেন্ড। এক মুখপাত্রের কথায়, ‘ঘটনার কথা কানে এসেছে। আমরা নিজেরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’ যদিও হায়দরকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পিসিবি। সূত্রের দাবি, গ্রেফতারের সময় হায়দর চোখের জল ফেলছিলেন। তদন্তে তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান শাহিনস ১৭ জুলাই থেকে ৬ অগস্ট পর্যন্ত ইংল্যান্ড সফরে ছিল। ট্যুরে দুটি তিনদিনের ম্যাচ খেলে, যেগুলি ড্র হয়। এরপর তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় পাকিস্তান। বুধবার পাকিস্তান স্কোয়াডের অধিকাংশ সদস্য দেশে ফিরেছেন। তবে অধিনায়ক সৌদ শাকিল ফিরেছেন দুবাই হয়ে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে। হায়দরই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি অভিযুক্ত হওয়ার কারণে ব্রিটেনে রয়ে গিয়েছেন।
উল্লেখ্য, হায়দর আলির আন্তর্জাতিক কেরিয়ার খুব বড় না হলেও তিনি প্রতিভাবান ক্রিকেটার হিসেবেই পরিচিত। পাকিস্তানের হয়ে ২টি ওয়ান ডে এবং ৩৫টি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন। শেষবার দেশের জার্সিতে তাঁকে দেখা যায় ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের সদস্য ছিলেন হায়দর। ওই টুর্নামেন্টে ভারতের হয়ে খেলেন যশস্বী জয়সওয়াল।
হায়দরের অতীত যদিও নিষ্কলঙ্ক নয়, এর আগেও বিতর্কে নাম জড়ানোর ইতিহাস রয়েছে। ২০২১ সালের পাকিস্তান সুপার লিগ চলাকালীন আবুধাবিতে কোভিড বিধিভঙ্গের দায়ে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। ফলে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে বাদ পড়েন তিনি। যদিও বিতর্ক মুছে ফের জাতীয় দলে ফিরে আসেন। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া কোচ মাইক হেসনের পছন্দের খেলোয়াড়ও হয়ে উঠেছিলেন। শারজায় আসন্ন টি২০ ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য হায়দারের নাম বিবেচনা করছিলেন নির্বাচকরা। কিন্তু এখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ।
খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অপরাধের অভিযোগ পাকিস্তানের ক্রিকেটে নতুন নয়। ২০১০ সালের ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট অধিনায়ক সালমান বাট, পেসার মহম্মদ আসিফ ও মহম্মদ আমির স্পট-ফিক্সিংয়ে জড়ান। তিনজনকেই জেলে যেতে হয়। পরে পাঁচ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হন তাঁরা। এই প্রেক্ষাপটে হায়দারের এই ঘটনায় আরও একবার বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান ক্রিকেট। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে কেরিয়ার তো বটেই, ব্যক্তিগত জীবনেও বিপদের মুখে পড়বেন এই তরুণ ক্রিকেটার। যদিও এতকিছুর পরেও এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ পিসিবি। তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে ক্রিকেট মহল।