বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও সেদিকুল্লাহ আতাল এবং আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের অর্ধশতকের সুবাদে আফগানিস্তান মসৃণ ভাবেই নিজেদের যাত্রা শুরু করেছে।

আজমতুল্লাহ ওমরজাই
শেষ আপডেট: 10 September 2025 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এশিয়া কাপ ২০২৫ (Asia Cup 2025)। প্রথম ম্যাচেই প্রত্যাশামতো জয় পেয়েছে রশিদ খানের আফগানিস্তান (Afghanistan vs Hong Kong)। হংকংকে তারা হারিয়েছে ৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে।
বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও সেদিকুল্লাহ আতাল এবং আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের অর্ধশতকের সুবাদে আফগানিস্তান মসৃণ ভাবেই নিজেদের যাত্রা শুরু করেছে। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ১৮৮ রান করে আফগানিস্তান। জবাবে হংকংয় ১০০ রানও করতে পারেনি। ২০ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে মাত্র ৯৪ রান করতে পারে তারা। এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে রানের দিক থেকে এটি যেকোনও দলের তৃতীয় বৃহত্তম জয়।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খান। আফগানিস্তানের হয়ে ইনিংস শুরু করেন সিদিকুল্লাহ আতাল এবং রহমানউল্লাহ গুরবাজ। তবে আফগানিস্তানের শুরুটা ভাল হয়নি এবং ২৬ রানে দু’টি উইকেট হারায় তারা। আফগানিস্তানের প্রথম ধাক্কা আসে রহমানউল্লাহ গুরবাজ আউট হলে। এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার পাঁচ বলে আট রান করে আউট হন। এরপর ইব্রাহিম জাদরানও এক রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। আয়ুশ শুক্লা হংকংকে প্রাথমিক সাফল্য এনে দেন।
প্রাথমিক ব্যর্থতার পর দলের ইনিংসের দায়িত্ব নেন সিদিকুল্লাহ ও মহম্মদ নবি। তৃতীয় উইকেটে নবি ও সিদিকুল্লাহ ৫১ রানের জুটি গড়েন। ২৬ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৩৩ রান করে নবি আউট হন। গুলবাদিন নায়েব পাঁচ রান করার পর আউট হন। এদিকে, সিদিকুল্লাহ ৫১ বলে তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন।
এরপর ওমরজাইয়ের ইনিংস আফগানিস্তানকে বড় রানের পথে নিয়ে যায়। ওমরজাই ২০ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই অলরাউন্ডার এখন আফগানিস্তানের হয়ে দ্রুততম অর্ধ-শতকের মালিক। ৫৩ রান করে আউট হন তিনি। পঞ্চম উইকেটে ওমরাজই- সেদিকুল্লাহ জুটিতে ওঠে ৮২ রান। ওমরজাই ২১ বলে দুই চার ও পাঁচটি ছক্কার সাহায্যে ৫৩ রান করে আউট হন। সেদিকুল্লাহ ৫২ বলে ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে ৭৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। হংকংয়ের হয়ে আয়ুশ ও কিনচিন্ত দু’টি করে উইকেট নেন, আতিক ইকবাল ও এহসান খান একটি করে উইকেট পান।
জয়ের জন্য ১৮৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে হংকং শুরুতেই ওপেনার অংশুমান রথের উইকেট হারায়, যিনি খাতা না খুলেই আউট হয়ে যান। এরপর আজমতুল্লাহ জিশান আলিকে (৫ রান) আউট করেন। নিজাকাত খান রান আউট হলে ১৩ রানেই তিন উইকেট হারায় হংকং। নিজাকাতও খাতাও খুলতে পারেননি। কালহান চাল্লু আউট হন মাত্র চার রান করে।
বাবর হায়াত ও কিনচিন্ত শাহের পঞ্চম উইকেটের জুটিতে ওঠে ২১ রান। কিন্তু নূর আহমেদ কিনচিন্তকে (৬ রান) আউট করে হংকংকে ফের ধাক্কা দেন। হংকং ষষ্ঠ ধাক্কা পায় বাবর হায়াতের আউটে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন বাবর। ৪৩ বলে তিনটি ছক্কার সাহায্যে ৩৯ রান করেন তিনি। এর পর দল নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। আফগানিস্তানের হয়ে ফজলহক ফারুকি এবং গুলবাদিন নায়েব দু’টি করে উইকেট নেন, আর আজমতুল্লাহ ওমরজাই, রশিদ খান এবং নূর আহমেদ একটি করে উইকেট পান। ব্যাট ও বলে দুরন্ত পারফর্ম করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ওমরজাই।