ভারতের ভিসা নীতিতে একটি স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। পাকিস্তানে জন্মানো কোনও ব্যক্তি, তিনি বর্তমানে যে দেশের নাগরিকই হন না কেন, তাঁকে ভিসার জন্য জন্মভূমির পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য দিয়েই আবেদন করতে হবে।

আলি খান
শেষ আপডেট: 14 January 2026 11:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন টি–২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) আগে নতুন করে বিতর্ক। এবার কেন্দ্রে ভারতীয় ভিসা। আমেরিকান (USA) দলে থাকা পাকিস্তান–বংশোদ্ভুত কয়েকজন ক্রিকেটার নাকি ভারতে আসার অনুমতি পাননি—এই দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট থেকে শুরু করে পরস্পরবিরোধী রিপোর্ট—সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই, সত্যিটা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে?
বিতর্কের শুরু: সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আগুন
এই বিতর্কের সূত্রপাত যুক্তরাষ্ট্রের পেসার আলি খানের (Ali Khan) একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি থেকে। সেখানে তিনি এক সতীর্থের সঙ্গে খাবার টেবিলে বসে থাকা ছবি পোস্ট করে লেখেন—‘ভারতীয় ভিসা নাকচ হলেও জয়ের জন্য কেএফসি!’ এই একটি লাইনের পরই ধরে নেওয়া হয়, ভারতের পক্ষ থেকে ভিসার আবেদন সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২৬ টি–২০ বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, ৭ ফেব্রুয়ারি। হাতে সময় এক মাসেরও কম। ফলে আলি খানের পোস্ট দ্রুতই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
রিপোর্ট কী বলছে?
খানিক বাদেই যদিও গোটা ছবিটা বদলে যায়। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের (Cricbuzz) একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিসা আদৌ ‘ডিনায়েড’ হয়নি। বরং, প্রক্রিয়া চলছে। জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র দলের চার পাকিস্তান–বংশোদ্ভুত ক্রিকেটার—আলি খান (Ali Khan), শায়ান জাহাঙ্গির (Shayan Jahangir), মহম্মদ মহসিন (Mohammad Mohsin) ও এহসান আদিল (Ehsan Adil)—সকলেই শ্রীলঙ্কার (Sri Lanka) কলম্বোয় ভারতীয় হাই কমিশনে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে হাজির হন।
আইসিসি (ICC) সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগেই প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়া হয়েছিল। সাক্ষাৎকারের সময় জানানো হয়, এই মুহূর্তে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়, কারণ বিদেশ মন্ত্রকের (Foreign Ministry) তরফে কিছু অতিরিক্ত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। সেই তথ্য এলে আবেদনকারীদের ফের যোগাযোগ করা হবে। অর্থাৎ, সরকারি স্তরে কোথাও ‘না’ বলা হয়নি। আর এটাই মূল কথা।
কেন এত জটিলতা?
ভারতের ভিসা নীতিতে একটি স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। পাকিস্তানে জন্মানো কোনও ব্যক্তি, তিনি বর্তমানে যে দেশের নাগরিকই হন না কেন, তাঁকে ভিসার জন্য জন্মভূমির (country of birth) পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য দিয়েই আবেদন করতে হবে। যে কারণে পাকিস্তান–বংশোদ্ভুত খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া তুলনায় বেশি সময় নিচ্ছে। এই সমস্যা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), কানাডা (Canada), ওমান (Oman), ইতালি (Italy)–সহ একাধিক দেশের দলে থাকা পাকিস্তান–বংশোদ্ভুত ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে।
অতীতেও এমন নজির রয়েছে। ২০১৯ সালে জুলফিকার ভাইরা—সিকন্দর (Sikander) ও সাকিব (Saqib)—ভিসা পাননি। ২০২৩ বিশ্বকাপে শিরাজ আহমেদের (Shiraz Ahmed) ভিসা দেরিতে মেলে। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার উসমান খোয়াজা (Usman Khawaja), ইংল্যান্ডের রেহান আহমেদ (Rehan Ahmed) ও শোয়েব বশিরের (Shoaib Bashir) ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে বড় প্রশ্ন
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—সময়। আমেরিকান ক্রিকেট টিমের শ্রীলঙ্কায় প্রস্তুতি শিবিরে রয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বকাপের সূচিতে প্রভাব পড়তে পারে। আইসিসি জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলিকে ভিসা সংক্রান্ত সবরকম সাহায্য করছে। তবে একাধিক দেশে পাকিস্তান–বংশোদ্ভুত ক্রিকেটার থাকায় কাজের চাপ যে বেড়েছে, তা আইসিসি–র কর্মকর্তারাও মানতে বাধ্য হয়েছেন।
সব মিলিয়ে, আপাতত ‘ভিসা বাতিল’নয়, বরং ‘ভিসা ঝুলে আছে’—এই হচ্ছে সঠিন বয়ান। যদিও বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের আগে এমন অনিশ্চয়তা যে অস্বস্তির, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।