সার্বিকভাবে শ্রীকান্তের বক্তব্য—নির্বাচন, ব্যাটিং, বোলিং—সবেতেই গলদ স্পষ্ট। গম্ভীরের পরিকল্পনা আর মাঠের পারফরম্যান্স একদম মেলে না।

গম্ভীর ও শ্রীকান্ত
শেষ আপডেট: 25 November 2025 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুয়াহাটির সার্বিক বিপর্যয়ে ভারতীয় দলের ব্যাটিং, বোলিং, নির্বাচনী নীতিই একসঙ্গে স্ক্যানের মুখে। আর সেই সমালোচনার ঢেউয়ের গা ভাসিয়ে সরাসরি হুঙ্কার দিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার ও নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত (Kris Srikkanth)। তাঁর দাবি, দলের পারফরম্যান্স যেমন হতাশাজনক, তেমনই ভুলে ভরা খেলোয়াড় বাছাইয়ের নীতি। কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন গম্ভীরকে। জানালেন, হেডকোচের কোনও ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়াকে তিনি পাত্তা দিতে নারাজ।
নিজস্ব ইউটিউব শো-য় ছেলে অনিরুদ্ধকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীকান্ত সোজাসাপ্টা বলেন, ‘অক্ষর পটেল (Axar Patel) খেলছে না কেন? ও কি এই টেস্টের জন্য অনফিট ছিল? সব স্তরে ভালো পারফর্ম করেছে। তা হলে এত পরিবর্তন কেন? প্রতি ম্যাচে নতুন মুখ! গম্ভীর যা খুশি বলুক, তাতে কিছু আসে-যায় না। আমি নির্বাচন কমিটি চালিয়েছি, কী বলছি জানি!’
তিনি আরও বলেন, পিচ নিয়ে দলের মন্তব্য আর মাঠের বাস্তবতা একে অপরের সঙ্গে মেলে না। শ্রীকান্তের কথায়, ‘কাল কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) বলল—পিচটা নাকি একেবারে ‘রাস্তা’! কিছুই হচ্ছে না। আর আজ দেখি আমাদের ব্যাটাররা কেশব মহারাজ (Keshav Maharaj) আর সাইমন হার্মারের (Simon Harmer) বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরছে। আবার মার্কো জানসেনের (Marco Jansen) বাউন্সারে পাঁচ জন আউট! স্পিনাররা লুপ দিয়ে বল তুলছে, আমাদের স্পিনাররা দিচ্ছে ফ্ল্যাট ডার্ট।’
যদিও সবচেয়ে তীব্র সমালোচনা বর্ষাপাড়া টেস্টে অধিনায়ক ঋষভ পন্থকে (Rishabh Pant) ঘিরে। ‘ক্যাপ্টেন হয়ে কি ও ম্যাচ সিচুয়েশন দেখে? নাকি শুধু ওর ‘ন্যাচারাল গেম’ চলছে? এমন অবস্থায় দৌড়ে এসে স্লগ মারতে যায়—এটা দায়িত্বজ্ঞানহীন!’ বলেন শ্রীকান্ত।
এরপর নিশানায় নীতীশ রেড্ডি (Nitish Kumar Reddy)। প্রাক্তন ব্যাটারের কটাক্ষ: ‘নীতীশকে দেখে কেউ বলবে ও অলরাউন্ডার? মেলবোর্নে (MCG) একটা সেঞ্চুরি করলেই কি অলরাউন্ডার? বল দেখে বোঝে আদৌ কোনও মুভমেন্ট আছে কি না? কোনও পেস আছে? ব্যাটিংয়েও ‘মারাত্মক’ কিছু নয়। যদি নীতীশ অলরাউন্ডার হয়, তা হলে আমিও গ্রেট অলরাউন্ডার! হার্দিক পাণ্ডিয়ার (Hardik Pandya) জায়গায় নীতীশ? অক্ষর পটেল তাহলে কোথায়?’
টার্গেটে ধ্রুব জুরেলও (Dhruv Jurel)। শ্রীকান্ত বলেন, ‘ওকে নিয়ে যত হাইপ… ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এক ইনিংস মানেই কি দুরন্ত ব্যাটসম্যান? আট নম্বরে খেললে ২০১ করে, সাত নম্বরে ১৮৯–এ গুটিয়ে যায় টিম—এটাই তো পার্থক্য!’ প্রাক্তন ক্রিকেটার মনে করেন, সাফররাজ খানকে (Sarfaraz Khan) না খেলানো ম্যানেজমেন্টের বড় ভুল। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াতেও খেলানো হয়নি। এবার অন্তত একটা সুযোগ দিতেই পারত।’
অন্যদিকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন সেনুরান মুথুস্বামী (Senuran Muthusamy) এবং মার্কো জানসেনকে। শ্রীকান্তের মন্তব্য, ‘জানসেন যেভাবে ব্যাট করল, মনে হচ্ছিল ব্রহ্মপুত্র কোথায়, আসাম টি-গার্ডেন কোথায়—সব দেখিয়ে দেবে! আমাদের কেউ ওকে বাউন্সার দিল? একটাও শট বল? ও নিশ্চিন্তে মারল বুমরাহকে (Jasprit Bumrah) স্পিনারদেরও। আর মুথুস্বামী—কী দারুণ অ্যাপ্লিকেশন!’
সার্বিকভাবে শ্রীকান্তের বক্তব্য—নির্বাচন, ব্যাটিং, বোলিং—সবেতেই গলদ স্পষ্ট। গম্ভীরের পরিকল্পনা আর মাঠের পারফরম্যান্স একদম মেলে না। দলের পারফরম্যান্স আপাদমস্তক ‘লজ্জাজনক’ বলেই মনে করছেন তিনি। একদিকে ভারত দ্বিতীয় টেস্টে ধুঁকছে। আর বাইরে বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়।