কে এই মুকুল চৌধুরি? ইডেনে কেকেআর-বধের নায়ককে খুঁজে বের করেছিলেন লখনউয়ের ডেটা অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাস। জাস্টিন ল্যাঙ্গারের কোচিংয়ে কীভাবে তৈরি হলেন প্রতিভাবান ‘ফিনিশার’? বিরাট-ধোনির সাথে কেন তুলনা হচ্ছে তাঁর? বিস্তারিত পড়ুন।

মুকুল চৌধুরি
শেষ আপডেট: 10 April 2026 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ চার ওভারে দরকার ৫৪ রান। উইকেটে একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার, যাঁর বয়স কিনা মাত্র ২২ বছর (Mukul Choudhary)! কেকেআরের (Kolkata Knight Riders) বিরুদ্ধে ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হতে বসেছে। কিন্তু মুকুল চৌধুরি হাল ছাড়লেন না। ২৭ বলে ৫৪ রান করে কার্যত একা হাতে জিতিয়ে দিলেন লখনউ সুপার জায়ান্টসকে (Lucknow Super Giants)। শেষ দুই বলে দরকার সাত রান—পেনাল্টিমেট ডেলিভারিতে হাঁকালেন ছয়, তারপর সিঙ্গেল। খেল খতম!
গতকালের আগে পর্যন্ত তিনি অচেনা-অজানা! অর্জুন তেন্ডুলকর অতিসম্প্রতি একটি পডকাস্টে উঠতি তারকা হিসেবে নাম করেছিলেন বটে। কিন্তু তাতেও আমজনতার নেকনজরে আসেননি। তাই স্বাভাবিকভাবে নাইট-নিধনের পর কৌতুহল জেগেছে: এই অনামা অথচ তুমুল প্রতিভাবান মুকুল চৌধুরিকে আইপিএলের মঞ্চে আনল কে?
ডেটা অ্যানালিস্টের চোখ, স্কাউটের নজর
লখনউয়ের কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার (Justin Langer) ম্যাচের পর ফাফ ডু প্লেসিকে (Faf du Plessis) জানালেন আসল কিস্যা। তাঁর কথায়, 'মাসকয়েক আগে একটা ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রথম দেখি মুকুলকে। ভারতে প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু এই ছেলেকে খুঁজে বের করার কৃতিত্ব আমাদের ডেটা অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাসের (Shrinivas)। সে এসে বলল—কোচ, এই ছেলেকে নিতেই হবে। ওর কথা শুনে নিয়ে নিলাম। আর ভাগ্যও আমাদের সহায় হল।'
শ্রীনিবাস দলের সঙ্গে অনেকদিন ধরে জড়িয়ে। ডাগআউটেও ল্যাঙ্গারের পাশে বসেন। পরামর্শ দেন: কী হতে পারে, কোন বলে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। স্কাউটদের পরিশ্রম সাধারণত আড়ালে থাকে—ল্যাঙ্গার এবার সেটা প্রকাশ্যে আনলেন।
'বিরাটের মতো দৌড়, ধোনির মতো ফিনিশিং'
মুকুলকে নিয়ে মূল্যায়ন শুনলে বোঝা যায়, কোচ তাঁকে নিয়ে কতটা মুগ্ধ। ল্যাঙ্গার বলেন, 'সবচেয়ে ভাল লাগে ওর অ্যাথলেটিসিজম। দৌড় বিরাট কোহলির (Virat Kohli) মতো—এলিট। আর গেম সেন্স? নেটে ও যেভাবে ক্রিকেটের কথা বলে, মনে হয় ৩০০ ম্যাচের অভিজ্ঞতা! শক্তি আছে, গ্রেস আছে, অ্যাথলেটিসিজম আছে।'
ফিনিশার হিসেবে মুকুলের তুলনা টানলেন মহেন্দ্র সিং ধোনির (MS Dhoni) সঙ্গে। সরাসরি নাম না নিয়ে বললেন—'টিম ডেভিড (Tim David), আন্দ্রে রাসেলের (Andre Russell) মতো কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা গেম ফিনিশ করার জন্য পরিচিত। মুকুল ছোট থেকে সেভাবেই খেলেছে, সেভাবেই ভাবে।'
কোচের উদ্বেগ থেকে উদযাপন
শেষ চার ওভারে ৫৪ দরকার—ওই মুহূর্তে মনে কী ঘুরপাক খাচ্ছিল? ল্যাঙ্গারের অকপট মন্তব্য, 'সত্যি বলতে, হেরে খেলোয়াড়দের কী বলব, সেটাই ভাবছিলাম। আমাদের বোলিং দুর্দান্ত হয়েছিল। কিন্তু তারপর এক ২২ বছরের ছেলে দায়িত্ব তুলে নিল।'
অন্তিম বলে রুদ্ধশ্বাস জয়৷ কতটা জরুরি ছিল এই দু'পয়েন্ট? ল্যাঙ্গারের কথায়, 'এই ধরনের টানটান লড়াই শেষে জয় ম্যাজিক টনিকের মতো। এতে বিশ্বাস জন্মায়।'
গত চার সপ্তাহ ধরে মুকুলের সঙ্গে প্রতিদিন নেটে লেগেছিলেন ল্যাঙ্গার। দুর্বলতা চিহ্নিত করেছেন, ঘামঝরানো অনুশীলন চালিয়েছেন। ল্যাঙ্গারের চোখে, মুকুল প্রতিদিন শেখার চেষ্টা করেন, নতুন প্রশ্ন তোলেন। যা দেখে আপ্লুত অস্ট্রেলীয় কোচ।
আরও কেউ অপেক্ষায়
ল্যাঙ্গার একেবারে শেষে যে কথাটা বললেন, তা সাম্প্রতিক ভারতীয় ক্রিকেটের সত্যিকারের ছবি—'ভারতে প্রতিভা অবিশ্বাস্য। মুকুলের মতো আরও তিন-চারজন অপেক্ষায় রয়েছে। এই স্তরে আসতে পারলেই বোঝা যায়, খেলোয়াড় কতটা ভালো। কারণ আইপিএলে টিমে জায়গা পাওয়াই ভীষণ কঠিন।'
ইডেনে বৃহস্পতিবার রাতের এক ইনিংসে মুকুল চৌধুরি সেই দরজা খুলে দিলেন৷