দিল্লি সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, শিশুদের উপর কুকুরের হামলা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রেবিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে।

কপিল দেব
শেষ আপডেট: 15 August 2025 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথকুকুরদের (Stray dogs) নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে মুখ খুললেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার কপিল দেব (Kapil Dev)। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে রাজধানী দিল্লি থেকে রাস্তার কুকুরদের সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে পশুপ্রেমীদের একাংশ তীব্র আপত্তি জানান। এই আবহে প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের আর্জি: কুকুরদের তাড়িয়ে না দিয়ে তাদের জন্য ভাল জীবনের ব্যবস্থা করা হোক।
প্রাণীকল্যাণ-সংস্থা ‘পেটফ্যামিলিয়া’র জন্য এক ভিডিও বার্তায় কপিল বলেন, ‘আমি জানি কুকুর নিয়ে এখন অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে আমার চোখে ওরা সবচেয়ে সুন্দর প্রাণী। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে আমার অনুরোধ, দয়া করে ওদের খেয়াল রাখুন। আরেকটু ভাল জীবন উপহার দিন। কুকুরদের এভাবে ছুড়ে ফেলবেন না!’
গত ১১ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি জেবি পরদিবালা ও আর মহাদেবনের বেঞ্চ পথকুকুরদের আবাসিক এলাকা থেকে সরানোর নির্দেশ দেন। সেই আদেশ প্রকাশ্যে আসার আগেই দিল্লি ও কয়েকটি জায়গায় কুকুর ধরপাকড় অভিযান শুরু হয়। কেন এভাবে তাড়াহুড়ো করা হল—প্রশ্ন তোলে আরেকটি বেঞ্চ। বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ শুনানিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তীব্র ভর্ৎসনা করে জানায়, প্রাণী নিয়ন্ত্রণে যে নির্দেশিকা আগে থেকেই রয়েছে, তা কার্যকর না করায় এহেন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে দিল্লি সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, শিশুদের উপর কুকুরের হামলা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রেবিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘শিশুরা মারা যাচ্ছে। কেবল স্টেরিলাইজেশন করলে রেবিস প্রতিরোধ করা যায় না!’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ পশুপ্রাণীদের ঘৃণা করে না। ১০০ প্রজাতির মধ্যে ৪টি বিষাক্ত। আমরা তো আর তাদের বাড়িতে রাখতে পারি না। কুকুরদের মেরে ফেলার কথা হচ্ছে না, ওদের অন্যত্র সরিয়ে রাখতে হবে!’ সরকারি তথ্য তুলে ধরে তুষার মেহতা জানান, গত বছর দেশে ৩৭ লাখ কুকুর কামড়ের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর বক্তব্য, 'অভিভাবকরা সন্তানদের বাইরে খেলতে পাঠাতে পারছেন না। সমাধান নিয়মের মধ্যে নেই, আদালতকে হস্তক্ষেপ করতেই হবে।’