সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরে যায় ভারত। প্রোটিয়া ব্যাটার মিলার ৩৫ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

হুমকির মুখে ইনফ্লুয়েন্সার
শেষ আপডেট: 25 February 2026 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি ২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup) উত্তেজনার মাঝেই এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে ঘিরে তৈরি হল বড় বিতর্ক। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা (IND vs SA) ম্যাচে দলের হার মেনে নেওয়া কঠিন ছিল অনেক ভক্তের জন্য। কিন্তু সেই হতাশা যে এক তরুণীর ওপর এমন আক্রমণ ডেকে আনবে, তা কেউ হয়তো ভাবতেও পারেননি। ম্যাচ হারার পর দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ডেভিড মিলারের (David Miller) সঙ্গে রিল বানানোই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ইনফ্লুয়েন্সার প্রিন্সি পারিখের (social media influencer RJ Princy Parikh) জন্য। অভিযোগ, শুধুমাত্র সেই ভিডিওর কারণেই তাঁকে অনলাইনে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং বডিশেমিং করা হচ্ছে।
কীভাবে শুরু হল বিতর্ক?
সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরে যায় ভারত (India lost to South Africa)। প্রোটিয়া ব্যাটার মিলার ৩৫ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এই পারফরম্যান্সই ভারতীয় সমর্থকদের হতাশা বাড়ায়। ম্যাচ শেষে আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে (Narendra Modi Stadium) মিলারের সঙ্গে একটি মজার রিল করেছিলেন প্রিন্সি পারিখ। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রিন্সি হতাশা প্রকাশ করে মিলারের (David Miller) উদ্দেশে ‘স্লো ক্ল্যাপ’ করছেন। ক্যাপশন দেন, “আমি ভেবেছিলাম হয়তো আমরা বন্ধু?”
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে (David Miller reel controversy), ম্যাচের পর ইনফ্লুয়েন্সাররা কীভাবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে রিল বানানোর সুযোগ পান? তবে সমালোচনা সেখানেই থামেনি। কিছু ভক্ত রেগে গিয়ে প্রিন্সিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে শুরু করেন (viral reel backlash)।
ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ হামলা
প্রিন্সির অভিযোগ, ওই ভিডিও পোস্ট হওয়ার পর থেকেই তাঁকে ধর্ষণের হুমকি (disturbing rape threats), অশ্লীল বার্তা, এবং বডিশেমিং-এর শিকার হতে হচ্ছে (body shaming online abuse)। অনেকেই তাঁকে দায়ী করেছেন ভারতের হারের জন্য। কিছু ব্যক্তি তাঁর শরীর নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যও করেছেন বলে অভিযোগ।
পুলিশের দ্বারস্থ প্রিন্সি
ক্রমাগত হুমকি ও মানহানিকর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রিন্সি জানান, তিনি আর এই ধরনের হুমকি সহ্য করবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রিন্সি লিখেছেন যে, আইনি সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি ইতিমধ্যেই নিয়েছেন। হুমকি এবং অশালীন বার্তাগুলির স্ক্রিনশটও তিনি নিজের কাছে রেখেছেন বলে জানান।
এদিকে নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, কোনও খেলোয়াড় বা ম্যাচের ফলাফলকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত জীবনে আক্রমণ করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মহিলা ইনফ্লুয়েন্সারদের হুমকি ও হেনস্থার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, যা বড় একটা উদ্বেগের বিষয়।
কোথায় দাঁড়াল পরিস্থিতি?
প্রিন্সি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তদন্তের জন্য সাইবার সেল সক্রিয় হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ভিডিওটি একটি হালকা মেজাজের মজার রিল হলেও, তার জেরে এমন প্রতিক্রিয়া সমাজে বিদ্বেষ ও অনলাইন হিংসার চেহারা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।