তাপমাত্রাও এবার বড় ফ্যাক্টর। সকাল সকাল বা বিকেলের শেষ ভাগে ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বলের ‘ল্যাটারাল মুভমেন্ট’ বাড়বে, ফলে টসে জেতা তেমন বড় সুবিধা দেবে না।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 11 November 2025 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছ’বছর পর ফের ইডেনে ফিরছে টেস্ট ক্রিকেট। কিন্তু এবার বাইশ গজ একদম আলাদা। মাঠে তাজা ঘাস প্রায় নেই, কালো মাটির উইকেট শুকিয়ে শক্ত। যে কারণে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টে (India vs South Africa Test) বড় ভূমিকা নিতে পারে রিভার্স স্যুইং (Reverse Swing)।
১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যাচের চার দিন আগেই পিচে কার্যত কোনও ‘লাইভ গ্রাস’ নেই। খেলা শুরু হওয়ার সময় ঘাসের উচ্চতা থাকবে দুই মিলিমিটারেরও কম। ফলে ম্যাচের মাঝামাঝি সময় থেকেই বল পুরনো হয়ে যেতে শুরু করবে, যা সিমারদের কাজে দেবে।
ইডেনের উইকেট কালো মাটির, ফলে প্রথম দিকে কিছুটা বাউন্স মিললেও তৃতীয়-চতুর্থ দিনে তা ধীরে ধীরে মন্থর হওয়ার সম্ভাবনা। ফলে নতুন বলে সুবিধা পাবেন ফাস্ট বোলাররা, পুরনো বলে রিভার্স স্যুইং হবে আরও মারাত্মক। পরিসংখ্যানও বলছে, গত ১৫ বছরে ভারতে ফাস্ট বোলারদের জন্য সবচেয়ে সফল মাঠ ইডেনই—এই সময়কালে ৬টি টেস্টে ৯৭টি উইকেট নিয়েছেন পেসাররা, যা মোটের ৬১ শতাংশ।
তাপমাত্রাও এবার বড় ফ্যাক্টর। সকাল সকাল বা বিকেলের শেষ ভাগে ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বলের ‘ল্যাটারাল মুভমেন্ট’ বাড়বে, ফলে টসে জেতা তেমন বড় সুবিধা দেবে না। প্রথম দিনে ব্যাটসম্যানদের কিছুটা সহজ সুযোগ থাকলেও ম্যাচ গড়ালে বোলারদের দাপট ফের ফিরে আসবে বলে ধারণা।
এর আগে দিল্লিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও কালো মাটির পিচ ব্যবহার হয়েছিল, তবে ইডেনের পিচ তেমন ‘ডেড ট্র্যাক’ হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। ঠারেঠোরে, গুয়াহাটির অনুরূপ স্বভাবের পিচ রাখার কথা ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট, যাতে ব্যাট-বল দুই বিভাগই ভারসাম্য পায়।
দক্ষিণ আফ্রিকা দল ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে শেষ টেস্ট জিতে (Rawalpindi Test) আত্মবিশ্বাসে ভরপুর প্রোটিয়া শিবির। সেই সিরিজে স্পিন ত্রয়ী—সেনুরান মুথুসামি, কেশব মহারাজ ও সাইমন হারমা মেলে ধরেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। তবে ইডেনে তাঁদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে ভারতীয় পেস আক্রমণ ও রিভার্স স্যুইং সামলানো।
কলকাতার ময়দানে দক্ষিণ আফ্রিকার এটাই চতুর্থ টেস্ট। ১৯৯৬ সালে প্রথম সফরে তারা জিতেছিল, কিন্তু শেষ দু’বার (২০০৪ ও ২০১০) হেরেছে। সর্বশেষ টেস্ট হয়েছিল ২০১৯ সালে, বাংলাদেশর বিরুদ্ধে পিঙ্ক বলে।