ভারতীয় শিবির থেকেও ইঙ্গিত স্পষ্ট—পরীক্ষা চলবে। স্থিরতা চাইছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য বার্তা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ আপডেট: 14 December 2025 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেটে এই মুহূর্তে একটাই শব্দ সবচেয়ে বেশি ঘুরে ফিরে আসছে—‘পরীক্ষা’। ব্যাটিং অর্ডার থেকে বোলিং কম্বিনেশন, শিশিরের হিসেব থেকে ম্যাচ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া—সব মিলিয়ে ঝুঁকি নিয়েই এগোচ্ছে ভারত। লক্ষ্য একটাই, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে যত বেশি সম্ভাব্য পরিস্থিতির অনুশীলন সেরে ফেলা। সেই পথে রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ঠান্ডা ধর্মশালায় (Dharamshala) দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে নামছে টিম ইন্ডিয়া (India)।
কিন্তু পরীক্ষা মানেই যে সাফল্য—এর কোনও নিশ্চয়তা নেই। গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) কোচিংয়ে চলতি বছরে ১৭ ম্যাচে ভারতের তৃতীয় হার সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কাগজে-কলমে হারটা খুব বড় কিছু নয়। টস জিতে ম্যাচ হেরে যাওয়া—জানুয়ারির পর এই প্রথম। সাধারণত এমন ফল নিয়ে বিশেষ আলোচনার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে প্রশ্ন উঠছে, কারণ সমস্যাগুলোর বড় অংশই ভারতের নিজের সিদ্ধান্ত থেকে তৈরি।
মুল্লানপুরে (Mullanpur) শিশির নামার পর দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণের সামনে ভারতের বোলিংয়ের কোনও ‘প্ল্যান বি’বা ‘প্ল্যান সি’চোখে পড়েনি। তার উপর নম্বর তিনে অক্ষর পটেলকে (Axar Patel) পাঠানোর সিদ্ধান্ত—বিপদ আরও বাড়িয়েছে। ফলাফল, ম্যাচ হাতছাড়া।
এবার ধর্মশালা। এই মাঠ দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বরাবরই পয়মন্ত। রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) শতরানের পরেও এখানে ২০০-র বেশি রান তাড়া করে জেতার স্মৃতি রয়েছে প্রোটিয়াদের। তবে কোচ শুকরি কনরাড (Shukri Conrad) আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, ইতিহাস দেখে টার্গেট বেঁধে খেলতে চান না। তাঁর কথায়, ‘কোনও মাঠে বেশি রান ওঠে বলেই নির্দিষ্ট একটা সংখ্যার পিছনে ছোটা বিপজ্জনক হতে পারে। আমরা নিজেদের অলরাউন্ড খেলায় আত্মবিশ্বাসী।’
ভারতীয় শিবির থেকেও ইঙ্গিত স্পষ্ট—পরীক্ষা চলবে। স্থিরতা চাইছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য বার্তা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। তিলক বর্মা (Tilak Varma) পরিষ্কার জানিয়েছেন, ওপেনিং বাদে সমস্ত পজিশনে তিনি ফ্লেক্সিবল। নম্বর তিন, চার, পাঁচ বা ছয়—যেখানে দল চাইবে, সেখানেই ব্যাট করতে প্রস্তুত। অর্থাৎ, ধর্মশালাতেও ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে চমক অস্বাভাবিক কিছু নয়।
এর মধ্যে চাপ বাড়ছে সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) ও শুভমান গিলের (Shubman Gill) উপর। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অস্বস্তিকর। গিল ১৪ ম্যাচে ২৬৩ রান করেছেন। গড় ২৩.৯, স্ট্রাইক রেট ১৪২.৯৩। সূর্যকুমার ১৯ ম্যাচে মাত্র ২০১ রান, গড় ১৪.৩৫। দলের দুই স্তম্ভ এমন ফর্মে থাকলে প্রশ্ন উঠবেই। গিল নেটে দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটকের (Sitanshu Kotak) সঙ্গে কাজ করেছেন। সূর্যর প্রয়োজন পুরনো মানসিকতা ফিরিয়ে আনা—যা তাঁকে একসময় বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার বানিয়েছিল।
পিচ ও পরিস্থিতির কথা বললে, ধর্মশালায় রান ওঠার সম্ভাবনাই বেশি। এখনও পর্যন্ত এখানে হওয়া পাঁচটি টি-টোয়েন্টির চারটিই জিতেছে রান তাড়া করা দল। সাম্প্রতিক আইপিএল ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২৩৬ তুলেছিল পাঞ্জাব। তাপমাত্রা নামবে এক অঙ্কে, কিন্তু তা বলে ব্যাটে-বলে কট্টর লড়াইয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভারত আগের একাদশেই নামতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকা রোটেশন ভাবলেও, পরীক্ষিত কম্বিনেশন ভাঙতে চাইবে না। টস আবারও বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।