এখন দীর্ঘ টেস্ট-বিরতি। পরের সিরিজ শ্রীলঙ্কায়, তারপর নিউজিল্যান্ড সফর। তার আগে টিম ম্যানেজমেন্টকে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে—নইলে টেস্ট মরসুম আরও কঠিন হয়ে উঠতে চলেছে।
.jpeg.webp)
প্রশ্নের মুখে গিল-গম্ভীর জুটি
শেষ আপডেট: 26 November 2025 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ০–২ ব্যবধানে সিরিজ হারের ধাক্কা এক লহমায় ভারতকে ঠেলে দিল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) টেবিলের পাঁচ নম্বরে। পাকিস্তানের নীচে। গুয়াহাটিতে ৪০৮ রানে লজ্জার হার—যা ভারতের ঘরের মাঠে সর্বকালের সবচেয়ে বড় ব্যবধান—এখন টিম ইন্ডিয়ার গঠনতন্ত্রকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। স্ট্যান্ড ইন অধিনায়ক ঋষভ পন্থের (Rishabh Pant) নেতৃত্বে দল দ্বিতীয় টেস্টে কার্যত আত্মসমর্পণ করতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ল।
বর্তমান চক্রে টিম ইন্ডিয়া ৯টি টেস্ট খেলেছে—৪টি জিতেছে, ৪টিতে হেরেছে, ১টি ড্র। টেবিলের শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া (Australia), তারপর দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa) ও শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)। চতুর্থ স্থানে পাকিস্তান (Pakistan)। তাদের নীচে আপাতত ভারত। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যাক-টু-ব্যাক হার পয়েন্টের ফারাক আরও বাড়িয়ে দিল।
গত বছর নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) কাছে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশে ভারতের টেস্ট দলের ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ নিয়ে প্রথমবার গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। সেই সিরিজেই স্পিন সামলাতে ব্যাটারদের অক্ষমতা সামনে আসে। পরে গৌতম গম্ভীরকে (Gautam Gambhir) কোচ করে আনা হলে রবি অশ্বিন, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার মতো সিনিয়ররা টেস্ট থেকে সরে যান। দলটা নতুন করে গড়া হচ্ছিল। শুভমান গিলের (Shubman Gill) নেতৃত্বে ইংল্যান্ডে ২–২ সিরিজ ড্র মোটামুটি আশার আলো দেখালেও, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আবার পুরোনো সমস্যাই মাথাচাড়া দিল।
গুয়াহাটিতে শেষ দিনের খেলা দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার আসল ছবি। ৫৪৯ রানের টার্গেট দুরূহ ছিল ঠিকই, কিন্তু লড়াই কিংবা জেদের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। পিচে টার্ন ও বাউন্স বাড়তেই মার্কো জানসেন (Marco Jansen) ও সাইমন হার্মার (Simon Harmer) এমনভাবে ভারতীয় ব্যাটারদের নাচালেন, যেন এটাই তাঁদের হোম গ্রাউন্ড! পন্থ ১৩ রানে অতিরিক্ত বাউন্সে ব্যাকফুটে সরতে গিয়ে আউট। সেই উইকেট থেকেই ধস শুরু। ১৪০ রানে ডুবল ভারত।
টেস্ট শেষে পন্থও যেন বাক্যহারা। বললেন, ‘ক্রিকেটকে কখনও হালকা ভাবে নেওয়া যায় না। ঘরে খেললেও আপনাকে মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে হবে। আমরা তা পারিনি!’ তাঁর কথায় হতাশা স্পষ্ট।
যদিও হতাশার কারণ শুধু ব্যাটিং নয়। বোলিংও এলোমেলো। একই পিচে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনাররা যেখানে ধারাবাহিকভাবে বিপদ তৈরি করেছেন, সেখানে ভারতের স্পিন-আটাক নিষ্প্রভ। নতুন মিডল অর্ডারের—সুদর্শন (Sai Sudharsan), সুন্দর (Washington Sundar), জুরেল (Dhruv Jurel), রেড্ডি (Nitish Reddy)—কারও মধ্যেই পাঁচ দিনের চাপ সামলানোর প্রস্তুতির ছাপ নেই। ১৩৯ বল খেলে ১৪ রান করা সুদর্শনের ইনিংসে বাঁচা-মরার অজস্র মুহূর্ত ছিল, যা দলের টেম্পারামেন্ট সমস্যাকে প্রকট করে তুলেছে।
এই হারের জেরে গম্ভীরের কৌশল, দলের রোল-ডিফিনিশন, স্কোয়াড বাছাই—সবকিছু প্রশ্নের মুখে। এক সময় ঘরের মাঠেই অপরাজেয় ছিল ভারত। এখন সেই গরিমা অস্তাচলে। সমস্ত অহং, গুমর কর্পূরের মতো উবে গেছে বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামের শেষ দিনের রোদে।
এখন দীর্ঘ টেস্ট-বিরতি। পরের সিরিজ শ্রীলঙ্কায়, তারপর নিউজিল্যান্ড সফর। তার আগে টিম ম্যানেজমেন্টকে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে—নইলে টেস্ট মরসুম আরও কঠিন হয়ে উঠতে চলেছে।