রোহিত দ্রুত আউট হওয়ায় ভারতের চাপ জমত, যদি এই জুটি ভেঙে যেত। কিন্তু আজ দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার—ঝুঁকি নয়, প্রয়োজনে অপেক্ষা, তারপর গিয়ার চেঞ্জ।
.jpeg.webp)
বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 3 December 2025 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাঁচিতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বুঝিয়েছিলেন ছন্দে রয়েছেন। রায়পুরে দু’নম্বর শতরানের পর (Virat Kohli Century) নিজের ক্যারিশমা আরও উজ্জ্বল করলেন বিরাট কোহলি। ঘরোয়া ময়দানে নামা-না নামা নিয়ে যখন বিতর্ক জমেছে, তখন এই সেঞ্চুরি বিরাটের বিশ্বকাপে জায়গা পাকা করার ক্ষেত্রে বড় মাইলেজ হতে পারে।
এদিনের আরেক শতকবীর রুতুরাজ গায়কোয়াড়। ১০৫ রানে আউট হলেও তার আগে দলের ভিত মজবুত করে দেন। বড় পার্টনারশিপ তৈরি করেন কোহলির সঙ্গে। গোড়ায় ধরে খেললেও পরে ঝাঁঝ বাড়ে। বিরাটের আগেই ছুঁয়ে ফেলেন মাইলস্টোন।
এদিন রায়পুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে-তে (IND vs SA 2nd ODI) শুরু থেকেই নাটক। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা প্রথম দু’ওভারে ১০-এর বেশি অতিরিক্ত রান উপহার দিলেন। কিন্তু ভারত ফায়দা নিতে পারল কই? মাত্র ১৪ রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলেন রোহিত শর্মা (Rohit Sharma)। লুঙ্গি এনগিডির (Lungi Ngidi) ওভারে টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার ঠিকমতো সেট হতে পারেননি। ক্যাচ আউট! ডিআরএসে স্নিকো স্পাইক দেখায়—রোহিতের মাথা নাড়ানোয় অসন্তোষও ধরা পড়ে।
শুরুতে ভারত এগোচ্ছিল দ্রুত। যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal) বাইরে বেরনো ডেলিভারিকে বাউন্ডারি বানিয়ে দেন, কিন্তু রোহিতের মতো একই ভুল—আত্মবিশ্বাস আর অধৈর্যের টানাপড়েনে শট বাছাইয়ে খামতি। মার্কো জানসেনের (Marco Jansen) বাউন্সারে ভুল টাইমিং, সহজ ক্যাচ স্কোয়ার লেগে। ভারত ৬২/২।
মাঠে তখন বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও রুতুরাজ গায়কোয়াড় (Ruturaj Gaikwad)। দু’জনের ব্যাটিং একেবারে হিসেবি। ‘অল-রিস্ক’নয়, ‘স্মার্ট-রিস্ক’। আপাতত আক্রমণাত্মক নন কোহলি—বাউন্ডারির বদলে স্ট্রাইক রোটেশনে জোর। খারাপ বল পেলেই ঠান্ডা মাথায় ফ্লিক করে চার, নয়তো সিঙ্গেল–ডাবল তুলে ইনিংস গড়ছেন। রাঁচি-র ১৩৫ রানের মাস্টারক্লাসের পর আজ তাঁর শরীরী ভাষা একই রকম আত্মবিশ্বাসী!
অন্যদিকে রুতুরাজও চনমনে। কেশব মহারাজ (Keshav Maharaj) লেংথ খুঁজে পাওয়ার আগেই তিনি পুল শটে কেরিয়ারের প্রথম ওয়ানডে ছক্কা মারেন। ৫০ রানের পার্টনারশিপ আসে ৫৫ বলে। প্রোটিয়াদের তরফে জানসেন দুর্দান্ত লাইন ধরে বল করছিলেন। প্রথম স্পেলে রান চেপে তিন ওভারে ১৪ রান, ১ উইকেট। কিন্তু বিরাট–রুতুরাজ সহজেই সেই চাপ কাটান। মহারাজ আঁটসাঁট স্পেল দিলেও ইনিংসের মোমেন্টাম পুরোটাই ভারতের হাতে।
রোহিত দ্রুত আউট হওয়ায় ভারতের চাপ জমত, যদি এই জুটি ভেঙে যেত। কিন্তু আজ দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার—ঝুঁকি নয়, প্রয়োজনে অপেক্ষা, তারপর গিয়ার চেঞ্জ। বড় স্কোর গড়তে হলে এখান থেকেই গতি বাড়ানো জরুরি। রায়পুরের পাটা পিচে সাড়ে তিনশোর টার্গেট জরুরি। যার টোন সেট করে দিয়েছে কোহলি-রুতুরাজ জুটি। কোহলির অভিজ্ঞতা, রুতুরাজের ফ্লো—দুজনেরই ব্যাট ঘুরেছে শান্ত, পরিমিত, ধারাবাহিক ছন্দে। আপাতত ক্রিজে রাহুল-বিরাট। দুজনে আরও ৫-৭ ওভার টিকে গেলে টার্গেট প্রোটিয়াদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেতে পারে।