রেকর্ড বুকের পাতাভরা অজস্র সোনালি মুহূর্ত। ১০৩ টেস্টে ৭ হাজারের বেশি রান। ১৯টি সেঞ্চুরি, ৩৫টি অর্ধশতরান। বিদেশের মাঠে অসংখ্য সফল ইনিংস।

চেতেশ্বর পূজারা
শেষ আপডেট: 25 August 2025 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে ব্যাট নামিয়ে রাখলেন চেতেশ্বর পূজারা (Cheteshwar Pujara Retirement)। ভারতীয় ক্রিকেটে টেস্টের এক অটল স্তম্ভ, যিনি প্রায় দেড় দশক ধরে ওয়ান ডাউন পজিশনে দলের ভরসা হয়ে থেকেছেন। তবু বিদায়টা এল নিঃশব্দে। প্রথমে ভেবেছিলেন, আরও একটা মরশুম রঞ্জি ট্রফি খেলবেন। পরে মত পাল্টালেন। কারণ, তাঁর নিজের কথায়—‘এখন সময় তরুণদের’।
‘এটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ভেবে দেখলাম, এটাই সঠিক সময়। বিশেষ করে যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে তরুণদের সুযোগ পাওয়া দরকার!’ রবিবার, অবসরের দিনে বললেন পূজারা। তারপর যোগ করলেন, ‘আগে ভেবেছিলাম হয়তো এই রঞ্জি মরশুম খেলব। কিন্তু মনে হল, যদি তরুণরা সুযোগ পায়, তারা আরও দ্রুত প্রস্তুত হয়ে উঠবে। তাই এই সিদ্ধান্ত নিলাম। গত কয়েক বছরে আমি জাতীয় দলে ছিলাম না, সে নিয়ে খুব একটা কিছু বলতে চাই না!’
বিদায়ের ঘোষণা তিনি ভেবেচিন্তেই নিয়েছেন। নিভৃতযাপনে মাথায় ঠিক কী ঘুরেছে? ‘প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভেবেছি, হয়তো এটাই সঠিক সময়। তাই আজ যখন এই সিদ্ধান্ত নিলাম, সেটা আমার জন্য আর আমার পরিবারের জন্য গর্বের মুহূর্ত। এমন দিনে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই সতীর্থ, কোচ আর সাপোর্ট স্টাফদের। ছোটবেলা থেকে আমার স্বপ্ন ছিল ভারতের হয়ে খেলা। তা পূর্ণ হয়েছে। এতগুলো বছর আমরা একসঙ্গে অনেক স্মৃতি তৈরি করেছি। আমার কেরিয়ারে অজস্র গর্বের মুহূর্ত!’ জবাব পূজারার।
রেকর্ড বুকের পাতাভরা অজস্র সোনালি মুহূর্ত। ১০৩ টেস্টে ৭ হাজারের বেশি রান। ১৯টি সেঞ্চুরি, ৩৫টি অর্ধশতরান। বিদেশের মাঠে অসংখ্য সফল ইনিংস। ২০১৮-১৯ অস্ট্রেলিয়া সফরে তাঁর ব্যাটেই এসেছিল ইতিহাস বদলে দেওয়া সিরিজ-জয়। ওয়ান ডে-তে সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র পাঁচ ম্যাচে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দেশের হয়ে অভিষেকের দরজা কখনও খোলেনি।
তবু পূজারাকে শুধুই পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা যায় না। মাঠে দাঁড়িয়ে শরীরকে ঢাল বানিয়ে আঘাত সহ্য করে খেলে যাওয়ার দৃশ্যই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। গাব্বায় প্যাট কামিন্স-হ্যাজলউড-স্টার্কের একের পর এক বাউন্সার গায়ে নেওয়া, মাথায় আঘাত পেয়েও সরে না দাঁড়ানোর জেদ—এই টুকরো টুকরো দৃশ্যকল্পই পূজারার আসল অভিজ্ঞান।
এবার থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ময়দানে তাঁকে দেখা যাবে না। বিদায়বাসরে নেই কোনও বিদায়ী ম্যাচ, নেই করতালির আবহ। আছে কেবল একখানা মিতায়তন বিবৃতি আর অগণন স্মৃতি। পূজারার নাম চিরকাল মনে পড়বে ভারতের টেস্ট ব্যাটিংয়ের সেই নিঃশব্দ প্রহরী হিসেবে, যিনি শিখিয়েছিলেন—ক্রিকেট শুধু ছক্কা-চারের উৎসব নয়… ক্রিকেট মানে ধৈর্য, প্রতিরোধ আর অবিচল বিশ্বাস।