তাঁর সেই অবিস্মরণীয় স্পেল দেখে মুগ্ধ ম্যাকালাম তো বলেই দিয়েছেন, সিরাজের রয়েছে সিংহহৃদয়। ভারতই ম্যাচটি জয়ের যোগ্য ছিল।

গ্রাফিক্স- দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 6 August 2025 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেট-বিশ্ব এখন মহম্মদ সিরাজকে (Mohammed Siraj) নিয়ে মাতোয়ারা। ওভাল টেস্টে তাঁর বোলিং নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র। সিরিজে ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ওভালে নেমেছিল গিল ব্রিগেড। শেষ দিন জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল চারটি উইকেট তুলে নেওয়া। আর ইংল্যান্ডের দরকার ছিল মাত্র ৩৫ রান। কিন্তু মহম্মদ সিরাজ নামে এক অসম সাহসী যুবকের ধাক্কায় ইংল্যান্ড হেরে যায় ৫ রানে। শেষ দিন সিরাজ নেন চার উইকেট। আর ওভাল টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর শিকার ৯ (৫+৪) উইকেট।
গোটা সিরিজ জুড়েই দুরন্ত ছিলেন মহম্মদ সিরাজ। সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট (২৩) শিকারিও তিনি। জসপ্রীত বুমরাহ পাঁচ টেস্টের সিরিজে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন। যে দু’টিতে খেলেননি, সেই দুই টেস্টেই জিতেছে ভারত। বলতে গেলে এবারের ইংল্যান্ড সফরে ভারতের বোলিংকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সিরাজ।
সিরাজের এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম (Brendon McCullum)। তিনি ভারতীয় দলের লড়াকু মনোভাবের প্রশংসা করে বলেছেন, ভারত যেভাবে সিরিজে সমতায় ফিরল, তা এক কথায় অসাধারণ। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, সিরাজ পঞ্চম দিন যে স্পেলটি করেছেন, তার জবাব ছিল না ইংল্যান্ড ব্যাটারদের কাছে।
ইংল্যান্ড-ভারত সিরিজে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু গোটা সিরিজ জুড়ে সিরাজ যে ওয়ার্কলোড নিয়েছে, তা তুলনাহীন। ২ মাসের সফরের শেষ দিনে সিরাজের আগুনে বোলিং ইংল্যান্ডের সব প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর সেই অবিস্মরণীয় স্পেল দেখে মুগ্ধ ম্যাকালাম তো বলেই দিয়েছেন, সিরাজের রয়েছে সিংহহৃদয়। ভারতই ম্যাচটি জয়ের যোগ্য ছিল।
ইএসপিএনক্রিকইনফো-কে ইংল্যান্ডের হেডস্যার বলেছেন, “এই টেস্টে ভারত পিছিয়ে থেকেও যেভাবে সমতায় ফিরেছে, তাতে সিরাজের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ওর মধ্যে সিংহের মতো হৃদয় আছে। সিরাজ পঞ্চম টেস্টের ৩০তম ওভারে ৯০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে বল করেছে। এটি ছিল অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টা। আমার মনে হয়, ভারত জয়ের যোগ্য ছিল। তারা আরও ভাল ক্রিকেট খেলেছে।”
সিরাজের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ভারতের প্রাক্তন কোচ গ্রেগ চ্যাপেলও (Greg Chappell)। ইএসপিএনক্রিকইনফো-তে তাঁর কলামে চ্যাপেল লিখেছেন, “সত্যি বলতে, সিরাজ এর আগেও অনেক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। এমসিজি, গাব্বা, পার্থ, লর্ডস, কেপটাউন এবং বার্মিংহামে ওর দুরন্ত বোলিং দেখেছি। কিন্তু ওভালে সিরাজ যা করল তা অসাধারণ। বুমরাহ থাকুক বা না থাকুক, সিরাজ গিলের বোলিং আক্রমণের প্রকৃত নেতা হয়ে উঠতে প্রস্তুত। এটা বলা ভুল হবে না যে, ভারত সিরিজে ভাল ব্যাটিং করলেও সিরাজের কারণেই সমতা রেখে সফর শেষ করেছে।”
চ্যাপেল বলেন, “সিরাজের প্রচেষ্টার চেয়েও আমি তার বোলার হিসাবে পরিবর্তন দেখে বেশি মুগ্ধ। ও একজন উৎসাহী বোলার হিসাবে শুরু করেছিল, কিন্তু এখন সিরাজ এমন একজন উৎসাহী বোলার যার একটি উদ্দেশ্যও রয়েছে। একজন খেলোয়াড় এবং একজন নেতার মধ্যে এটাই পার্থক্য।”