গ্লেন ফিলিপসের এই বাঁ-হাতি অবতার নিছক কৌতুক বা শো-অফ নয়। ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখা এক কৌশলও বটে। টি-২০ বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে, যেখানে প্রতিটা ওভার গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এমন অপ্রত্যাশিত অস্ত্র গড়ে দিতে পারে বড় পার্থক্য।

গ্লেন ফিলিপস
শেষ আপডেট: 7 January 2026 11:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্লেন ফিলিপস এক আশ্চর্য প্রতিভা। তিনি উইকেটকিপিং করেন৷ দারুণ ব্যাটার। বোলিংয়েও দুর্দান্ত৷ ফিল্ডিং নজরকাড়া। বিশেষত বাউন্ডারির ধারে দাঁড়িয়ে উড়ন্ত পাখির স্টাইলে ক্যাচ কিংবা অনবদ্য ক্ষিপ্রতায় রান আউট—সবেতেই দড়।
এবার অলরাউন্ড প্রতিভার নতুন নজির মেলে ধরলেন নিউজিল্যান্ডের এই ক্রিকেটার৷ ডানহাঁতি ব্যাটার বলে প্রসিদ্ধ ফিলিপস ব্যাট ধরলেন বাঁ-হাতে। বিশ্বকাপের আগে এমনতর স্টান্সবদলে ঘুরতে শুরু করেছে প্রশ্ন: টি-২০ মহাযুদ্ধের আগে কি ফিলিপসের এই কারসাজিই হতে চলেছে নিউজিল্যান্ডের গোপন অস্ত্র?
বাঁ-হাতি স্টান্স—হঠাৎ নয়, পরিকল্পিত
নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) ঘরোয়া টি-২০ প্রতিযোগিতা সুপার স্ম্যাশে (Super Smash) আচমকাই বাঁ-হাতে ব্যাট করতে দেখা যায় গ্লেন ফিলিপসকে (Glenn Phillips)। ডানহাতি অফ-স্পিনারের বিরুদ্ধে স্ট্রাইক নেওয়ার সময় হঠাৎ স্টান্স বদল। ফিল্ড সেট ছিল ডানহাতি ব্যাটারের হিসেবে। আর সেই সুযোগেই একেবারে ফাঁকা এক্সট্রা কভারের দিক দিয়ে নিখুঁত শট।
দেখতে যতটা বিস্ময়কর, বাস্তবে ততটা তাৎক্ষণিক নয়। ফিলিপস নিজেই জানিয়েছেন, বাঁ-হাতে ব্যাটিং নিয়ে তিনি অন্তত দু’বছর ধরে কাজ করছেন। টি-২০ ক্রিকেটে নির্দিষ্ট ‘ম্যাচ-আপ’ভাঙা মূল লক্ষ্য। বাঁ-হাতি স্পিনারের বিরুদ্ধে ডানহাতি হিসেবে খেলতে গিয়ে যে সমস্যা হয়—বল ঘুরে দূরে চলে যাওয়া—তা কাটাতেই এই বিকল্প।
ফিলিপসের কথায়, বাঁ-হাতে ব্যাট করা শুধু প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার কৌশল নয়। বরং, এটা এক ধরনের মস্তিষ্ক-চর্চা। দুই দিকেই ব্যাটিং অনুশীলন করলে রিঅ্যাকশন টাইম, হ্যান্ড-আই কো-অর্ডিনেশন—সবই আরও শানিত হয়।
টি-২০ বিশ্বকাপের আগে কৌশলগত বার্তা
২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) বসতে চলেছে ভারত (India) ও শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka)। স্পিন-সহায়ক উইকেট, বিশেষ করে বাঁ-হাতি স্পিনারদের প্রভাব—এই কথা মাথায় রেখেই ফিলিপসের পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
নিউজিল্যান্ড দল জানে, বড় মঞ্চে প্রতিপক্ষরা ফিলিপসের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে নামবে। মাঝের ওভারে স্পিন চেপে ধরাই হবে মূল অস্ত্র। সেখানে বাঁ-হাতি স্টান্স হঠাৎ বের করলে ফিল্ড নতুন করে সাজাতে হবে, বোলারকে ভাবতে হবে নতুন লাইন-লেংথ। টি-২০-র মতো ছোট ফরম্যাটে কয়েকটা বলই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।

ফিলিপস অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এটা নিয়মিত কৌশল হয়ে যাবে—এমন নয়। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত। সাধারণত যখন হারানোর কিছু নেই, শেষ কয়েক ওভারে ঝুঁকি নেওয়ার সময়—তখনই এই স্টান্স কাজে লাগতে পারে।
ভারতের মাটিতে নজর থাকবে ফিলিপসের দিকেই
বিশ্বকাপের আগে ভারতের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের আসন্ন সাদা বলের সিরিজে ফিলিপসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ভারতের স্পিন আক্রমণে বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy), কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav), অক্ষর প্যাটেল (Axar Patel)—তিনজনের সামনেই আলাদা আলাদা চ্যালেঞ্জ। এই স্পিন-ভিত্তিক আক্রমণের বিরুদ্ধে ফিলিপস যদি মাঝেমধ্যে বাঁ-হাতে ব্যাট ধরেন, শুধু স্কোরবোর্ডে নয়, মানসিক যুদ্ধেও তা প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিপক্ষের পরিকল্পনায় ফাটল ধরানোই আধুনিক টি-২০ ক্রিকেটের আসল চাবিকাঠি।
সব মিলিয়ে গ্লেন ফিলিপসের এই বাঁ-হাতি অবতার নিছক কৌতুক বা শো-অফ নয়। ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখা এক কৌশলও বটে। টি-২০ বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে, যেখানে প্রতিটা ওভার গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এমন অপ্রত্যাশিত অস্ত্র গড়ে দিতে পারে বড় পার্থক্য।