লর্ডস টেস্ট হেরে ফের ছন্দপতন। চলতি ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টের যা গতিপ্রকৃতি, তাতে অ্যাডভান্টেজ ইংল্যান্ড। এই ম্যাচ হারলে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার পর ফের একটা সিরিজে পরাজয়ের সাক্ষী থাকবে ভারত।

সুনীল গাভাসকার
শেষ আপডেট: 27 July 2025 11:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় টেস্ট দলটা ঠিক কার হাতে? অধিনায়ক শুভমন গিলের (Shubman Gill)? নাকি ড্রেসিংরুমে তাঁকে দাবিয়ে রেখে মাথাচাড়া দিচ্ছেন হেড কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)? চতুর্থ টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টিম ইন্ডিয়া যখন কোণঠাসা, তখন এই মৌলিক প্রশ্ন ক্রিকেট মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
আর এই ইস্যুতেই এবার সরাসরি ময়দানে সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar)। ক্ষুব্ধ কিংবদন্তির সাফ কথা, ‘এটা শুভমানের দল, গম্ভীরের নয়। অধিনায়কই সব সিদ্ধান্ত নেবে। দোষারোপ হবে যখন, তখনও তো তাকেই সবকিছু শুনতে হবে!’
ভারতীয় ক্রিকেটে এখন যা চলছে, সেটা গাভাসকরের কাছে অনেকটাই অস্পষ্ট। কিন্তু তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘আমাদের সময়ে কোচ বলে কিছু ছিল না। একজন ম্যানেজার থাকতেন, খেলোয়াড়রা তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করলে তিনি পরামর্শ দিতেন। ইদানীং অধিনায়ক-কোচ যৌথ নিয়ন্ত্রণ আমি ঠিক বুঝতে পারি না!’
চলতি ইংল্যান্ড সফরেই অধিনায়ক হিসেবে গিলের অভিষেক হয়েছে গিলের। বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার প্রায় পিঠোপিঠি অবসরের পর জাতীয় দল যখন ছন্নছাড়া, সেভাবে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নেই, তখন সামনে দাঁড়িয়ে কতটা নেতৃত্ব দিতে পারবেন বছর পঁচিশের শুভমান, সেই নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা দানা বেঁধেছিল। প্রথম টেস্টে পরাজয়ের পর যা আরও ঘন হতে শুরু করে।
এজবাস্টনে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এবং ব্যাট হাতেও অনবদ্য পারফর্ম করে সংশয়ী ও সমালোচকদের মুখের উপর জবাব দেন শুভমান। পরপর সেঞ্চুরি, ডবল সেঞ্চুরি, আগ্রাসী ফিল্ডিং—সব মিলিয়ে নতুন নেতৃত্বে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে টিম ইন্ডিয়ায়।
কিন্তু লর্ডস টেস্ট হেরে ফের ছন্দপতন। চলতি ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টের যা গতিপ্রকৃতি, তাতে অ্যাডভান্টেজ ইংল্যান্ড। এই ম্যাচ হারলে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার পর ফের একটা সিরিজে পরাজয়ের সাক্ষী থাকবে ভারত।
কেন একের পর এক টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি? বিপর্যয়ের ময়নাতদন্তে অনেকেই দল নির্বাচনে গলদ ও তালমিলের অভাব লক্ষ করেছেন। চতুর্থ টেস্টেও বিশ্রামে রাখা হয় কুলদীপ যাদবকে (Kuldeep Yadav)। কিন্তু কেন? সিদ্ধান্তের দায় কি শুধুই অধিনায়কের? নাকি কোচের চেয়ারে বসা গম্ভীরই আসল চালক? শুভমান স্রেফ কাঠের পুতুলমাত্র?
এই প্রেক্ষিতে ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলের করা প্রশ্নে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন গাভাসকর। জানতে চাওয়া হয়েছিল, গিল কি সহজে কোচ গম্ভীরের কাছে গিয়ে বলতে পারেন, ‘এটা আমার দল?’ এর জবাবে গাভাসকরর সোজাসাপটা উত্তর, ‘নিশ্চয়ই বলতে হবে। অধিনায়কই দলের মাথা। তিনিই মাঠে নামেন, তিনিই সমালোচনার মুখে পড়েন। তাহলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও তো তাঁরই থাকা উচিত!’
গাভাসকরের বক্তব্য, সৌজন্য বজায় রাখতে অনেক সময় বাইরে থেকে সব কিছু ঠিকঠাক বলেই দেখানো হয়। কিন্তু ভিতরে ভিতরে বিস্তর গোলমাল রয়ে যায়। তাঁর কথায়, ‘সিদ্ধান্ত নেবেন অধিনায়ক। তিনিই মাঠে নামেন, তিনি জানেন তাঁর কী চাই!’
বিশ্বকাপ ফাইনালের পরে কোচ হিসাবে গম্ভীরকে নিয়োগ করে বোর্ড এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল। কিন্তু পরপর কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, কিছু চমকপ্রদ বাদ পড়া বা টিম কম্বিনেশনের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—গম্ভীর কি গিলের ঘাড়ে নিজের ইচ্ছে-অনিচ্ছে চাপিয়ে দিচ্ছেন?
এখানে গাভাসকরের বার্তা বেশ স্পষ্ট—জেতো বা হারো, মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে গিলকেই। তাহলে তাঁকেই ক্ষমতা দাও। দলটা তাঁর হাতে তুলে দাও। কোচ হোক সহায়ক। তিনি নিয়ন্ত্রক হতে পারেন না!