ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের কৃতিত্ব দিতে নারাজ সুনীল। তাঁর যুক্তি, অনেক ক্ষেত্রেই ভাগ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। লাগলে তুক, না লাগলে তাক!

সুনীল গাভাসকার
শেষ আপডেট: 6 June 2025 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিনে বঞ্চনা, অন্যদিকে বৈভব!
বঞ্চিত তাঁরা, যাঁরা বছরের পর বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রঞ্জি খেলেছেন। অথচ না পেয়েছেন যোগ্য সমাদর, না জুটেছে অর্থ!
অথচ অন্যদিকে ধারেভারে অনেক খাটো একজন ক্রিকেটার আইপিএলের সৌজন্যে কয়েক কোটি টাকা হেসেখেলে রোজগার করছেন!
চাঁচাছোলা ভাষায়, ক্রিকেটারদের নাম করে তুলনা টেনে বিসিসিআইয়ের বেতন-বৈষম্য নিয়ে সরব হলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকার। নিজের মন্তব্যকে মান্যতা দিতে তুলে ধরলেন প্রিয়াঙ্ক পাঞ্চালের দৃষ্টান্ত। যিনি সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে করেছেন ৯ হাজারের উপর রান। সেঞ্চুরি ২৯টি। অথচ ৩৭ বছরের কেরিয়ারে একবারও টিম ইন্ডিয়ার জার্সি গায়ে দেওয়ার সুযোগ জোটেনি। খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন বারকয়েক। প্রাথমিক দলে সুযোগ পান। কিন্তু মাঠে নামেননি। ভারতীয় এ দলের হয়ে খেলেছেন। জাতীয় দলের শিকে ছেঁড়েনি।
ক্রিকেটের ব্যাকরণ মেনে খেলেছেন। আইপিএল নজর দেয়নি। সেখানে মারকাটারি খেলাই সারসত্য। টেকনিক, স্কিলের কোনও গুরুত্ব নেই। অথচ তাঁর চেয়ে মানে কয়েক কদম পিছিয়ে থাকা ক্রিকেটাররা চুটিয়ে খেলেছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট। আর রোজগার করেছেন দু’হাত ভরে।
প্রিয়াঙ্কের দৃষ্টান্তকে সামনে রেখে গাভাসকার বলেন, ‘জাতীয় দলে সুযোগ তো পায়ইনি। তার উপর ওর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও নিশ্চিতভাবে দেখানোর মতো কিছু নয়। অথচ যৌবনের বেশিরভাগ সময়ই চুটিয়ে পরিশ্রম করে ক্রিকেট খেলেছে। আর এখানেই দেশের আর সমস্ত ঘরোয়া টুর্নামেন্টের সঙ্গে আইপিএলের ফারাক।‘
বছরভর ঘরোয়া প্রতিযোগিতা খেলেন যারা, তাদের কেমন পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে হয়? আবগপ্রবণ গাভাসকারের মন্তব্য, ‘প্রায় দু’দশক বিভিন্ন ধরনের আবহাওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে খেলেছে পাঞ্চাল। একদিকে উত্তর ভারতের তীব্র শীত। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভয়াবহ গরম। কোথাও কোথাও বৃষ্টিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে। এতকিছুর পরেও রঞ্জি থেকে হয়তো ৩ কোটি টাকা রোজগার হয়েছে। অন্যদিকে আইপিএলে একজন আনক্যাপড ক্রিকেটার কোনও মরশুমে তার ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে একটিও ম্যাচ না খেলে ৩ কোটি উপার্জন করে।‘
কিন্তু আইপিএল তো নিছক ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট নয়, অনেক তরুণ, সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের উঠে আসার মঞ্চও বটে। বৈভব সূর্যবংশী, সাই সুদর্শন, অভিষেক শর্মা, প্রভসিমরন সিংয়ের মতো উদীয়মান তারকাদের তো আইপিএল থেকেই পেয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট!
যদিও এর জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের কৃতিত্ব দিতে নারাজ সুনীল। তাঁর যুক্তি, অনেক ক্ষেত্রেই ভাগ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। লাগলে তুক, না লাগলে তাক! রীতিমতো চ্যালেঞ্জের ঢঙে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন সুনীল। বলেছেন, ‘আইপিএলের আনক্যাপড কোটিপতিদের দিকে তাকান। দেখতে পাবেন, খুব অল্প ক্রিকেটারই এখান থেকে উঠে এসে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে খুব বড় কিছু করেছে। আসলে সৌভাগ্যের জোরেই কোটি কোটি টাকা রোজগার। এর যোগ্য দাবিদার কেউ নন।‘
তাহলে সমাধান কোথায়? গাভাসকারের একটাই পরামর্শ: বিসিসিআইকে অবিলম্বে ঘরোয়া ক্রিকেটে উপার্জনের স্তর বেঁধে দিতে হবে। যারা বেশি ম্যাচ খেলবেন কিংবা টুর্নামেন্টের নক আউটে উঠবেন, তাঁদের আলাদা করে আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করতে হবে। টাকা তো অগাধ রয়েছে। গাভাসকারের প্রশ্ন: সেই অর্থ কি ঠিকভাবে কাজে লাগাবে বিসিসিআই? সেই সঙ্গে দুর্মর আশা: হয়তো আগামী মরশুম শুরুর আগে তাঁর প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখা হবে।