দিনের শেষে পাকিস্তানের মুখ ভার, অস্ট্রেলিয়ার মুখে হাসি। আর কলম্বোর মাঠে লেখা রইল নতুন অধ্যায়—যেদিন এক মহিলার একার জেদেই বদলে গেল পুরো ম্যাচের চালচিত্র!

বেথ মুনি
শেষ আপডেট: 9 October 2025 11:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একসময় স্কোরবোর্ড বলছে ৭ উইকেটে ৭৬। মুখ থুবড়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া (Australia)। তখনও কে ভেবেছিল এই ম্যাচটাই এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের গল্প হয়ে উঠবে? তখন ক্রিজে বেথ মুনি (Beth Mooney)। সাধারণ ক্রিকেটার তো নন! দিনের শেষে তাঁর ব্যাটেই চূর্ণ হল পাকিস্তান (Pakistan)। নিভল জয়ের আশাটুকুও। প্রথম বিশ্বকাপ শতরানের সুবাদে (১০৯) মুনি একাই দাঁড় করালেন ম্যাচ-বদলানো ইনিংস। আর তাতেই কলম্বোতে ১০৭ রানে স্মরণীয় জয় অস্ট্রেলিয়ার। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক পরিত্যক্ত ম্যাচে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এখন অজি-বাহিনী।
ক্রিকেটের নিরিখে মুনির ইনিংসটা নিখুঁত পাঠ্যবইয়ের মতো। টার্নিং উইকেটে যখন একে একে সাজঘরে ফিরছেন সতীর্থরা, তখন একাই রুখে দাঁড়ান তিনি। খেলার গতি ধীরে বাড়িয়ে ১১টি চার ও অসংখ্য সিঙ্গল–ডাবলে গড়েন ১০৯ রানের অনবদ্য ইনিংস। পাশে ছিলেন দশম ব্যাটার আলানা কিং (Alana King)। দু’জনে মিলে নবম উইকেটে যোগ করেন ১০৬ রান—যা মহিলাদের ওয়ানডে ক্রিকেটে নম্বর ১০ বা তার নিচের ব্যাটারের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ! কিং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫১*। মুনির সঙ্গে তিনিই গড়ে দেন সেই মঞ্চ, যেখান থেকে পাকিস্তান আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
অথচ এক সময় অস্ট্রেলিয়া ছিল ৭৬/৭! যে ধ্বংসস্তূপের কাণ্ডারী পাকিস্তানের স্পিন-ত্রয়ী: নাশরা সান্ধু (Nashra Sandhu), রামিন শামিম (Rameen Shamim) ও সাদিয়া ইকবাল (Sadia Iqbal)। সান্ধু একাই নেন ৩ উইকেট (৩/৩৭)। তাঁর স্পেলেই কেঁপে ওঠে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুনি–কিংয়ের ব্যাটিং মাস্টারক্লাসে সব পরিশ্রম বিফলে গেল। অন্তিম ১০ ওভারে ঝোড় মেজাজে ৮১ রান তোলে অজিরা। ইনিংস খতম হয় ২২১ রানে (৯ উইকেটে)।
পাকিস্তানের ব্যাটিং কার্যত ধসে পড়া দুর্গ। সিমার অরবিনা গার্থ (Orbina Garth) ৩ উইকেট (৩/১৪), অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড (Annabel Sutherland) ২ উইকেট (২/১৫), মেগান শুট (Megan Schutt) ২ উইকেট (২/২৫)—সব মিলিয়ে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পুরো পাক ব্রিগেড! কেবল সিদরা আমিন (Sidra Amin) কিছুটা প্রতিরোধ দেন ৩৫ রানে!
ফতিমা সানার (Fatima Sana) দল শুরুতে ঠিক পথে থাকলেও মুনির অটল ধৈর্য, মাপা আগ্রাসন আর নিখুঁত ফিনিশিং পাকিস্তানের হাত থেকে কেড়ে নেয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জেতার ‘ঐতিহাসিক’ সুযোগ। তাই দিনের শেষে পাকিস্তানের মুখ ভার, অস্ট্রেলিয়ার মুখে হাসি। আর কলম্বোর মাঠে লেখা রইল নতুন অধ্যায়—যেদিন এক মহিলার একার জেদেই বদলে গেল পুরো ম্যাচের চালচিত্র!