আমি আমরেকে গিয়ে বলতে পারিনি, তুমি কথা দিয়েছিলে, এবার আমাকে এক জোড়া জুতো দিয়ে নিজের প্রতিশ্রুতি পালন কর। কিন্তু প্রবীনই আমার কাছে এগিয়ে আসে।

প্রবীণ আমরে ও সচিন তেন্ডুলকর
শেষ আপডেট: 14 October 2025 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ভারতীয় ক্রিকেটের ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar) তাঁর স্পোর্টস অ্যাথলেটিক ব্র্যান্ড ‘টেন এক্স ইউ’ (Ten X U) চালু করেন। মুম্বইয়ের বান্দ্রার মেহবুব স্টুডিওতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাস্টার-ব্লাস্টারের স্ত্রী অঞ্জলি এবং মেয়ে সারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার প্রবীণ আমরে (Pravin Amre) এবং বর্তমান বিসিসিআই প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকর। ব্র্যান্ডটি স্পোর্টস জুতো, টি-শার্ট এবং অন্যান্য নানা পণ্য বিক্রি করবে বলে জানিয়েছেন সচিন।
সচিন ব্র্যান্ড লঞ্চের সময় বলেছিলেন, "আজ আমরা 'টেন এক্স ইউ' ব্র্যান্ডটি লঞ্চ করেছি, এবং আমি এটি নিয়ে খুবই উত্তেজিত।" পাশাপাশি তিনি জানান, ব্র্যান্ডটি তৈরি করতে প্রায় ১৮ মাস সময় লেগেছে। তিনি ডিজাইনে তাঁর নিজস্ব কেরিয়ারের অভিজ্ঞতাও অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
সচিন বলেন, "এই ব্র্যান্ডের মাধ্যমে আমরা আমার কেরিয়ারে যে শূন্যতা অনুভব করেছি তা পূরণ করার চেষ্টা করেছি। ক্রিকেট জুতার পাশাপাশি, আমরা এমন অনেক পণ্য তৈরি করেছি যা সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারে। এটি ব্যবহার করার জন্য আপনাকে ক্রীড়াবিদ হতে হবে না। আমার লক্ষ্য হল, আমাদের দেশকে একটি উন্নত ক্রীড়াপ্রেমী দেশে রূপান্তর করা। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।"
মুম্বই ময়দান থেকে উঠে এসে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা সচিন তেন্ডুলকরের কেরিয়ারের পরতে পরতে রয়েছে নানা গল্প। দাদা অজিত তেন্ডুলকরের হাত ধরে সচিন এসেছিলেন বিখ্যাত কোচ রামকান্ত আচরেকরের কাছে। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে উত্থান পর্ব। আচরেকর অনেক শিষ্যই তখন মুম্বই ক্রিকেটার প্রতিষ্ঠিত নাম। প্রবীন আমরে তখন ছিলেন সচিনের সতীর্থ। যদিও তিনি তেন্ডুলকরের থেকে বয়সে কিছুটা বড় ছিলেন।
নিজের ব্র্যান্ড শুরু করার পর সচিন স্মরণ করেছেন তাঁর ছোটবেলার কথা। সচিন জানিয়েছেন, কীভাবে তিনি আমরের কাছ থেকে পেয়েছিলেন নিজের জীবনের প্রথম ক্রিকেটের উপযোগী বিশেষ জুতো (Specialised Cricket Shoes)। পরবর্তী কালে প্রবীন আমরে শুধুমাত্র সচিনের মুম্বই সতীর্থই ছিলেন না, একসঙ্গে খেলেছেন ভারতীয় দলের জার্সিতেও।
আমরে ছিলেন সচিনের থেকে চার বছরের সিনিয়র। দুজনেরই স্কুল ছিল সারদাশ্রম বিদ্যামন্দির। সচিন স্মরণ করেছেন সেই ঘটনা, যখন ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরের পর দেশে ফিরেছিলেন আমরে। সচিন টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, "আমরে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার পর আচরেকর স্যার আমাদের বলেন ‘ওর ব্যাটিং দেখ।’ এরপর আমরা খুব কাছ থেকে ওকে (প্রবীণ আমরে) দেখতে শুরু করি। আমরা তার ব্যাটিং দেখার সময় সে কী ধরনের ক্রিকেট সরঞ্জাম ব্যবহার করে, তার দিকেও নজর দেওয়ার চেষ্টা করি। কী ধরনের ব্যাট, কী ধরনের জুতো সবেতেই আমাদের নজর ছিল। আমরা দেখতে পাই আমরের কিট ব্যাগে কিছু ফ্যান্সি ক্রিকেট জুতো রয়েছে। যা দেখে আমরা মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। প্রবীণ এরপর আমাকে এসে বলে, ‘আগে সেঞ্চুরি হাঁকাও, তারপর এগুলি নিও।’ এরপর আমি সেঞ্চুরি করি। কিন্তু আমার তার কাছে গিয়ে জুতো চাওয়ার মতো সাহস ছিল না।"
সচিন এরপর বলেন, "আমি আমরেকে গিয়ে বলতে পারিনি, তুমি কথা দিয়েছিলে, এবার আমাকে এক জোড়া জুতো দিয়ে নিজের প্রতিশ্রুতি পালন কর। কিন্তু প্রবীনই আমার কাছে এগিয়ে আসে। সেই প্রথম আমি পেলাম ভাল কোয়ালিটির এক জোড়া জুতো। আমি এই ঘটনা কখনওই ভুলব না।"
সচিনের এই বক্তব্যের পর নিজের প্রতিক্রিয়াও দ্রুত দিয়েছেন প্রবীণ আমরে। নিজের প্রথম টেস্টেই শতক হাঁকানো আমরে বলেন, "আমি আশা করিনি, সেই ঘটনার কথা সচিন সর্বসমক্ষে আনবে। আমি বাস্তবিকই অবাক হয়ে গিয়েছি যে, ও সেই ঘটনার কথা এত বছর পরও মনে রেখেছে। এই জন্যই সচিন আজ বিশ্ব-ক্রিকেটের কিংবদন্তি। এটা ওর মহত্বের পরিচয়। আমার মনে আছে জুতোগুলি ছিল ইমপোর্টেড। ওই ধরনের জুতো তখন ভারতে পাওয়া যেত না। আমি খুবই গর্বিত যে, সঠিক লোকের হাতেই আমি জুতো তুলে দিয়েছিলাম, যে পরবর্তীতে ক্রিকেট-বিশ্বের সর্বকালের সেরা হয়ে উঠেছিল। অনুষ্ঠান শেষে আমি সচিনকে বলি, বিষয়টি খুবই ক্ষুদ্র ছিল। সচিন সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে, এটি তার কাছে ছিল বিশেষ ব্যাপার।"