শুধুমাত্র উইকেট তোলাই নয়, তারকা বোলারের পাশাপাশি বিপক্ষ শিবিরের রান নিয়ন্ত্রণেও যে বাকিদের এগিয়ে আসতে হয়, সে কথা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন অশ্বিন। একেই তিনি ‘মর্কেল রোল’ বলেছেন।

আর অশ্বিন ও সিরাজ
শেষ আপডেট: 27 June 2025 10:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধুমাত্র জসপ্রীত বুমরাহর কাঁধে ভর দিয়ে থাকলে চলবে না। বাকিদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। অকাতরে রান বিলিয়ে দিলে বিপদ, তাতে বুমরাহর চাপ আরও বাড়বে।
আগামী টেস্ট, যা দোসরা জুলাই এজবাস্টনে শুরু হতে চলেছে, সেখানে বল হাতে জসপ্রীত বুমরাহকে ছুটতে দেখা যাবে না। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের জন্য নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন দলের এক নম্বর পেসার। বদলি কে? তাই নিয়ে এখনও সমাধানে পৌঁছয়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই বিকল্প অর্শদীপ ও আকাশদীপের মধ্যে প্রথমজনের পাল্লা ভারী।
যদিও সেক্ষেত্রে তুলনায় অভিজ্ঞ সিরাজের ঘাড়ে আরও দায়িত্ব পড়তে চলেছে। তিনিই বুমরাহর অবর্তমানে বোলিং ইউনিটের প্রধান বোলার। কিন্তু কীভাবে ছন্দে ফিরবেন সিরাজ? হেডিংলেতে প্রথম ইনিংসে ২৭ ওভার বল করে ১২২ রান দিয়েছেন। দু’উইকেট নিলেও ইকোনমি রেট চারের উপর! যা টেস্টের নিরিখে মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের প্রয়োজন ছিল। জিততে গেলে স্টোকসদের ৩৭১ রান তুলতে হত। নিজেও ঘুরে দাঁড়াতে পারতেন। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন সিরাজ। ১৪ ওভার বল করে ৫১ রান দেন। কোনও উইকেট জোটেনি।
আর এই নিয়েই সরাসরি পেসারের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন অশ্বিন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের পডকাস্টে একটি আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আমার সিরাজের কাছে একটাই প্রশ্ন… দয়া করে রান দেওয়ার গতি আটকাবে? তোমায় উইকেট তুলতে হবে না। কিন্তু ওভারপিছু ৪-৫ রান করে দেওয়া বন্ধ করবে? যদি এভাবে রান খরচ হয়, তাহলে বুমরাহকে ফের ডেকে পাঠাতে হবে। এভাবে একা হাতে আর কত ফাটল মেরামত করবে ও?’
যদিও শুধু সিরাজ নন। আরেক পেসার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণও হাত খুলে রান দিয়েছেন। ইকোনমি রেট ৬.৪০। ৩ উইকেট নিলেও এই পরিসংখ্যান মোটেও স্বস্তিতে রাখবে না ভারতীয় শিবিরকে। যদিও তাঁকে কিছুটা হলেও ছাড় দিয়েছেন অশ্বিন। তাঁর কথায়, ‘প্রসিদ্ধ প্রথমবারের জন্য নেমেছে। অনভিজ্ঞ। তাই সিরাজকেই দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে। মনে আছে, মর্নি মর্কেলের (দক্ষিণ আফ্রিকার সিমার, এখন ভারতীয় দলের বোলিং কোচ) কথা? কীভাবে ২০ ওভারে ৪৩ রানে ২ উইকেট তুলে নিত? এই ভূমিকাই ওকে পালন করতে হবে।’
শুধুমাত্র উইকেট তোলাই নয়, তারকা বোলারের পাশাপাশি বিপক্ষ শিবিরের রান নিয়ন্ত্রণেও যে বাকিদের এগিয়ে আসতে হয়, সে কথা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন অশ্বিন। একেই তিনি ‘মর্কেল রোল’ বলেছেন। তাঁর জমানায় ইশান্ত শর্মা রান আটকে রেখে প্রতিপক্ষদের চাপে রাখতেন। প্রসিদ্ধ ও বিশেষ করে সিরাজকে এই কাজ বুঝে নিতে হবে—নিদান অশ্বিনের।