কিংবদন্তি আম্পায়ার ডিকি বার্ডকে খেলার অন্যতম প্রতীকী এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসাবে মনে করা হতো। তিনি এদিন নিজ বাসভবনেই প্রয়াত হয়েছেন।
.png.webp)
ডিকি বার্ড
শেষ আপডেট: 23 September 2025 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৮৩ ওডিআই বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। সেবারের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ম্যাচের আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন ইংল্যান্ডের ডিকি বার্ড। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তিনি প্রয়াত হয়েছেন ৯২ বছর বয়েসে (Umpire Dickie Bird died on Tuesday)।
কিংবদন্তি আম্পায়ার ডিকি বার্ডকে খেলার অন্যতম প্রতীকী এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসাবে মনে করা হয়। তিনি এদিন নিজ বাসভবনেই প্রয়াত হয়েছেন। ইয়র্কশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব গভীর শোকের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর খবর ঘোষণা করে বলেছে, তাঁকে কেবল ইয়র্কশায়ার ক্রিকেটের প্রতীকই নয় বরং খেলার অন্যতম সেরা চরিত্র হিসাবেও মনে করা হয়।
১৯ এপ্রিল ১৯৩৩ সালে ইয়র্কশায়ারের বার্নসলেতে জন্ম হয় এই প্রবাদপ্রতিম আম্পায়ারের। ক্রিকেটের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা হয়ে উঠেছিল বিরল দৃষ্টান্ত। প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান ব্যাটার। তিনি ইয়র্কশায়ার এবং লিসেস্টারশায়ারের হয়ে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছিলেন, কিন্তু চোটের কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন থেমে যায়। একজন আম্পায়ার হিসাবেই তিনি ক্রিকেট ইতিহাসে স্থায়ীভাবে নিজের নাম লিখে গিয়েছেন।
১৯৭৩ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে বার্ড ৬৬টি টেস্ট ম্যাচ এবং ৬৯টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে তিনটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনালও ছিল। উষ্ণতা এবং রসবোধ বজায় রেখে শ্রদ্ধা অর্জনের ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষমতা তাঁকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। তাঁর ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, যা আজও ক্রিকেটের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। তাঁর ক্রিকেটের প্রতি ঐতিহ্যবাহী আচরণ, তাঁর সাদা টুপি থেকে শুরু করে সবকিছুই তাঁকে দর্শকদের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল।
১৯৯৬ সালে লর্ডসে তাঁর শেষ টেস্টে ইংল্যান্ড এবং ভারত উভয় দলের খেলোয়াড়রা গার্ড অফ অনার প্রদান করেন এবং দর্শকরা তাঁকে উঠে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানান, যা আম্পায়ারের প্রতি এক বিরল এবং স্পষ্ট শ্রদ্ধাঞ্জলি। সেই টেস্ট ম্যাচে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং রাহুল দ্রাবিড়ের অভিষেকও ঘটে।
তাঁর আত্মজীবনী ‘সীমানার বাইরে’র দশ লক্ষেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল, যা জাতীয় সম্পদ হিসাবে তাঁর মর্যাদাকে আরও দৃঢ় করে তুলেছিল। এই বই ক্রিকেটপ্রেমীদের বাইরেও জনপ্রিয় হয়েছিল।
ক্রিকেট এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানে সেবার জন্য বার্ডের অবদান ১৯৮৬ সালে এমবিই এবং ২০১২ সালে ওবিই দিয়ে স্বীকৃত হয়েছিল। ২০১৪ সালে, তাঁকে ইয়র্কশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি হিসাবে মনোনীত করা হয়।তাঁর মেয়াদকালে দুটি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাব জিতেছিল ইয়র্কশায়ার।
তাঁর জনপ্রিয়তা কেবল আম্পায়ারিংয়ে শ্রেষ্ঠত্বের কারণে নয়, তাঁর মানবতা ও রসবোধ ছিল অন্যতম কারণ। ক্রিকেটারদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, শিশুদের জন্য অটোগ্রাফ দেওয়া এবং আবেগ প্রকাশে কখনও পিছপা না হওয়ার জন্য পরিচিত বার্ড খেলায় ব্যক্তিত্ব এবং উষ্ণতা এনেছিলেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, ক্রিকেটই তাঁর জীবন, এবং তিনি ইয়র্কশায়ারের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সমর্থকদের একজন ছিলেন।
ডিকি বার্ডের আম্পায়ারিং কেরিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলির মধ্যে একটি ছিল ১৯৭৩ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে টেস্ট। সেই টেস্টের তৃতীয় দিনে বোমার আতঙ্কে খেলা ব্যাহত হয়। কর্তৃপক্ষ একটি হুমকি পেয়েছিল এবং স্টেডিয়াম খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যখন স্টেডিয়াম প্রায় শূন্য, দর্শক ও ক্রিকেটাররা নিরাপদ স্থানে চলে গিয়েছেন, বার্ড তখনও শান্তভাবে মাঠেই থেকে যান। মাঠের মাঝখানেই তিনি বসে থাকেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বেশ কয়েকজন দর্শক। পরে তিনি স্বভাবসুলভ সরলতার সঙ্গে যুক্তি ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, "আমি ভেবেছিলাম মাঝখানেই সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা, তাই আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সমর্থকদের নিয়ে মাঠে বসে ছিলাম।"
সেদিন তাঁর সঙ্গে থাকা দর্শকদের রসিকতায় ডিকি বার্ডের মানসিক অবস্থা আরও হালকা হয়ে ওঠে, যাঁরা তাঁকে রসিকতা করে আশ্বস্ত করেছিলেন, "চিন্তা করবেন না, মিস্টার ডিকি বার্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইতিমধ্যেই বোমা ফেলেছে, স্কোরটা দেখুন।" সেসময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ৬৫২ রান।