বল এখন পুরোপুরি বিসিবির কোর্টে। ক্ষমা যদি ঘরের ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে অনিচ্ছুক ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
.jpeg.webp)
সংকটে বিপিএল
শেষ আপডেট: 16 January 2026 10:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের ক্রিকেটে অশান্তি যেন থামছেই না। একদিকে ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব, অন্যদিকে খেলোয়াড়দের অনড় অবস্থান। এই টানাপড়েনের মধ্যে বিপিএল (BPL) ২০২৬-এর ভবিষ্যৎ ঘিরে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। বিতর্কের কেন্দ্রে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) পরিচালক নাজমুল ইসলাম (Najmul Islam)।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
ঘটনার শুরু নাজমুল ইসলামের একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যে। প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবালকে (Tamim Iqbal) ‘ভারতীয় এজেন্ট’বলা থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রকাশ্যে তিরস্কার—সব মিলিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট মহল। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়, যে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL) ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (Dhaka Premier League) ম্যাচ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি। খেলোয়াড়দের সম্মিলিত বয়কটে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় ঘরোয়া ক্রিকেট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারবত্তা থাকুক না থাকুক, নাজমুলের বক্তব্য যথেষ্ট উসকানিমূলক। বিশ্বকাপ না জেতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, খেলোয়াড়রা ব্যর্থ হলে বোর্ডে খরচ ফেরত চাইতেই পারে। অনেক মন্তব্যের ভিড়ে এই বক্তব্যই আগুনে ঘি ঢালে।
ক্ষমা নয়, চাই প্রকাশ্য জবাবদিহি
চাপ বাড়ছে দেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাজমুল ইসলামকে আর্থিক কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু খেলোয়াড়দের মতে, এটুকু যথেষ্ট নয়। ক্রিকেটারদের সংগঠন সিডব্লিউএবির (Cricketers’ Welfare Association of Bangladesh) স্পষ্ট দাবি—নাজমুলকে পরিচালক পদে রাখা যাবে না। তা না হলে অন্তত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেই হবে।
এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন জট। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম (Aminul Islam) জানিয়ে দেন, ক্ষমা চাইতে হলে তা হবে ‘ক্লোজড ডোর’বৈঠকে। এই প্রস্তাবে মোটেই খুশি নন খেলোয়াড়রা। তাঁদের দাবি, অপমান যখন প্রকাশ্যে, ক্ষমাও চাইতে হবে সবার সামনে।
বিপিএলের সূচি বদলালেও সংকট কাটেনি
খেলোয়াড় বয়কটের জেরে বিপিএলের সূচি নতুন করে সাজাতে বাধ্য হয়েছে বোর্ড। ম্যাচ পিছিয়েছে, প্লে-অফের দিন বদলেছে। কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান হয়নি। মুস্তাফিজুর রহমান (Mustafizur Rahman), মেহেদি হাসান মিরাজ (Mehidy Hasan Miraz), নাজমুল হোসেন শান্তরা (Najmul Hossain Shanto) এখনও একই দাবিতে অনড়—নাজমুল ইসলামের প্রকাশ্য ক্ষমা ও বোর্ড থেকে অপসারণ।
সব মিলিয়ে বল এখন পুরোপুরি বিসিবির কোর্টে। ক্ষমা যদি ঘরের ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে অনিচ্ছুক ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাতে বিপিএল শুধু সূচির নয়, বিশ্বাসযোগ্যতাও সংকটে পড়তে পারে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই অচলাবস্থা কত দ্রুত কাটে, সেটাই এখন দেখার।