গুয়াহাটিতে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচ। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডার কীভাবে সাজানো হবে—তা নির্ভর করছে গিলের ফিটনেস এবং সুদর্শন–রেড্ডিদের প্রস্তুতির উপর।

সাই সুদর্শন
শেষ আপডেট: 18 November 2025 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুয়াহাটি টেস্টের আগে একেবারে ভিন্নধারার প্রস্তুতিই নজর কাড়ল টিম ইন্ডিয়ার (Team India) অনুশীলনে। সোমবার ইডেনে ঐচ্ছিক নেট সেশনে সাই সুদর্শন (Sai Sudharsan) এবং ধ্রুব জুরেল (Dhruv Jurel) নামলেন এক পায়ে প্যাড বেঁধে। উদ্দেশ্য—স্পিনারদের বিরুদ্ধে সামনের পায়ে বাড়তি স্ট্রাইড নেওয়ার অভ্যাস তৈরি আর প্যাড না থাকায় ব্যাট ব্যবহারে বাধ্য হওয়া।
এই ড্রিল পুরনো দিনের। যার মূল কথা—ফুট–ওয়ার্ক সংশোধন। ব্যাটারদের অনেক সময় সামনের প্যাড রেখেই বল ব্লক করার প্রবণতা দেখা যায়। তখনই ঘনিয়ে ওঠে এলবিডব্লিউয়ের বিপদ। সামনের প্যাড খুলে দিলে সে রাস্তা বন্ধ। ব্যাট ছাড়া রক্ষা নেই।
বাঁ–হাতি সুদর্শন ডান প্যাড খুলে ব্যাট করছিলেন। ফলে সামনের পায়ে লম্বা স্ট্রাইড নিতে হচ্ছিল পুরোদস্তুর ঝুঁকিতে—কোনও ভুল হলে শিন বোনে সরাসরি আঘাত লাগার সম্ভাবনা। এই অনুশীলন আসলে স্পিন ‘পড়া’র ক্ষমতা বাড়ানোরই প্রচেষ্টা মাত্র। সাম্প্রতিক সময়ে বাঁ–হাতি ব্যাটারদের স্পিনের ব্যাকরণ বুঝতে সমস্যা এবং ব্যাকফুটে আটকে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে কোচিং গ্রুপ উদ্বিগ্ন। তাই তাদের বার্তা—ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে খেলো, ঘূর্ণিকে চেপে ধরো।
জুরেলও এক প্যাড খুলে রিভার্স সুইপে ব্যস্ত। ডান–হাতির ক্ষেত্রে ডান পায়ে বড় স্ট্রাইড জরুরি। তাই ওই পায়ে প্যাড না থাকলে মুভমেন্ট ঠিক হচ্ছে কি না তা স্পষ্ট বোঝা যায়। ঝুঁকি থাকলেও কোচিং স্টাফ এই অনুশীলনকে কার্যকর বলে মনে করছে।
ঐচ্ছিক সেশনে ছ’জন খেলোয়াড় হাজির ছিলেন। সবচেয়ে বেশি সময় ব্যাট করলেন রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja)। সুদর্শনের দিকে আলাদা নজর ছিল হেড কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) ও ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাকের (Sitanshu Kotak)। নেট সেশনে পেসার আকাশ দীপ (Akash Deep) বারবার তাঁর আউটসাইড এজ খুঁজে পান, নেট বোলারদের সামনেও নড়বড়ে দেখায়। তাই তাঁকে নিয়ে আলাদা আলোচনা চলে বহুবার।
এতকিছুর মধ্যে, শুভমান গিলের (Shubman Gill) দ্বিতীয় টেস্টে নামা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। ঘাড়ের চোট এখনও পুরো সারেনি। বিসিসিআই সূত্র বলছে, শুভমান দলে যোগ দেবেন ঠিকই, তবে গুয়াহাটিতে টস করতে মাঠে নামা অনিশ্চিত। গিল না খেললে বিকল্প মুখ অলরাউন্ডার নীতীশ রেড্ডি (Nitish Kumar Reddy)। তাঁকে ইতিমধ্যে রাজকোটে ‘এ’ দলের ক্যাম্প থেকে সরিয়ে সোমবারই কলকাতায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। বুধবার রাজকোটে ম্যাচ খেলে পরদিন গুয়াহাটি পৌঁছনোর অপশন দল মেনে নেয়নি। তিনি আগেই স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন।
গুয়াহাটিতে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচ। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডার কীভাবে সাজানো হবে—তা নির্ভর করছে গিলের ফিটনেস এবং সুদর্শন–রেড্ডিদের প্রস্তুতির উপর। এক পায়ে প্যাড বেঁধে ঘাম ঝরানোর ভিন্নধারার অনুশীলন সেই লড়াইয়েরই অংশ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।