ক্রিকেট মহলের ধারণা, রাজনৈতিক সবুজ সংকেত মিললেই বয়কটের খাঁড়া নামবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে—বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি শেষমেশ আয়োজিত হবে কি না।

গতকালের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক
শেষ আপডেট: 9 February 2026 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-পাক লড়াই ছাড়া আইসিসি টুর্নামেন্ট কল্পনা করা মুশকিল। কিন্তু এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে এর অন্যথা হয়েছে। ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। যদিও পরিস্থিতি পাল্টানোর উদ্যোগও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। লাহোরে রবিবার বসা বৈঠকের পর বহু প্রতীক্ষিত লড়াই ঘিরে আশার আলো স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় ইঙ্গিত মিলেছে—২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপাতত পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) হাতে।
গতকালের আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা (Imran Khawaja), পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল (Aminul Islam Bulbul)। মূল বিষয় একটাই প্রশ্ন—ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে কি পাকিস্তান সরে আসবে?
পিসিবির অবস্থান: তিন দফা শর্ত
লাহোরের বৈঠকে সবচেয়ে কড়া অবস্থান নেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের ক্ষেত্রে আইসিসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে দ্বিচারিতা স্পষ্ট। বাংলাদেশের ক্রিকেট টিম ভারতে খেলতে না চাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে—একে তিনি ‘অন্যায়’ বলে আখ্যা দেন।
তবে দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি নকভি। তাঁর বক্তব্য, তিনটি নির্দিষ্ট শর্ত মানা হলে পাকিস্তান তাদের বয়কট সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে। সেই তিন দাবি হল—
এক, বাংলাদেশের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ বাড়ানো।
দুই, টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়লেও মুস্তাফিজুরদের অংশগ্রহণ ফি দেওয়া।
তিন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হাতে কোনও আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব তুলে দেওয়া।
পিসিবির বক্তব্যে স্পষ্ট, এই ইস্যুতে শুধু ভারত-পাক ম্যাচ নয়, বরং, আঞ্চলিক রাজনীতি ও বোর্ডগুলোর ন্যায্যতার প্রশ্নও জড়িয়ে।
বাংলাদেশের ভূমিকা: সমাধানের পথে হাঁটা
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল (Aminul Islam Bulbul) লাহোরে হাজির ছিলেন মূলত পাকিস্তানের প্রতি সংহতি জানাতে। টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া নিয়ে তাঁদের ক্ষোভ আর গোপন নেই। তবে বৈঠকে তিনি আইসিসি ও পিসিবির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন সমাধানের লক্ষ্যে।
সূত্রের খবর, বুলবুল বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—নিরাপত্তা প্রশ্নে তারা আপস করেনি, কিন্তু তার ফল হিসেবে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা অহেতুকভাবে কঠোর। বাংলাদেশের এই অবস্থান পিসিবির দাবিকে খানিকটা জোরালো করেছে।
আইসিসির বার্তা: ম্যাচ বাঁচানোই লক্ষ্য?
আইসিসির তরফে ইমরান খোয়াজা (Imran Khawaja) স্পষ্ট বার্তা দেন—ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছাড়া টি-২০ বিশ্বকাপের আর্থিক কাঠামো বড়সড় ধাক্কা খাবে। সেই কারণে তিনি নিজে লাহোরে এসে মধ্যস্থতার দায়িত্ব নিয়েছেন। বৈঠকে আইসিসি প্রতিনিধিরা পিসিবির কাছে জানতে চান, ঠিক কোন যুক্তিতে ‘ফোর্স ম্যাজিউরে'র ধারা প্রয়োগ করে বয়কটের কথা বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে বোঝানো হয়, এই ধারা প্রয়োগের নির্দিষ্ট শর্ত ও আইনি ফলাফল কী হতে পারে। সব মিলিয়ে বৈঠকের সুর ইতিবাচক। আইসিসির লক্ষ্য পরিষ্কার—যেভাবেই হোক, ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে নিয়ে যাওয়া।
শেষ কথা
এখন সব চোখ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) সিদ্ধান্তের দিকে। সোমবার পিসিবি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। ক্রিকেট মহলের ধারণা, রাজনৈতিক সবুজ সংকেত মিললেই বয়কটের খাঁড়া নামবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে—বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি শেষমেশ আয়োজিত হবে কি না।