অস্ট্রেলিয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল। বিষুবরেখার কাছে অবস্থান, প্রবল অতিবেগুনি রশ্মি আর ফর্সা চামড়ার বিপুল জনসংখ্যার কারণে সারা দুনিয়ায় স্কিন ক্যানসারে আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ এ দেশের বাসিন্দা।

মাইকেল ক্লার্ক
শেষ আপডেট: 27 August 2025 11:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমবার আক্রান্ত হন ২০০৬ সালে। তখন তিনি পুরোদস্তুর ফর্মে। বাইশ গজে অজিদের হয়ে রীতিমতো দাপিয়ে খেলছেন। পাশাপাশি মাঠের বাইরে ক্যানসার, স্কিন ক্যানসারের বিরুদ্ধেও লড়াই চালিয়ে যান মাইকেল ক্লার্ক (Micahel Clarke)। ২০১০-এ ‘ক্যানসার কাউন্সিলে’র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার নির্বাচিত হন। ন’বছর বাদে জানান, সার্জারির কথা; কপাল থেকে ক্যানসার কেটে বাদ দিতে হয়েছে।
আজ, ফের একবার ত্বকের ক্যানসার নিয়ে (Skin Cancer) সতর্কবার্তা দিলেন অস্ট্রেলিয়ার (Australia) প্রাক্তন অধিনায়ক। এবার নিজের শরীরের উদাহরণ টেনে। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে জানালেন, কপালের মতো নাক থেকে একটি ক্ষত কেটে ফেলা হয়েছে (Michael Clarke Diagnosed With Skin Cancer)। সেই সঙ্গে সবাইকে সচেতন করে বললেন, ‘ত্বকের ক্যানসার ভয়ংকর। নিয়মিত চেক-আপ করান। আগেভাগে ধরা পড়াটাই জীবন বাঁচানোর মূল চাবিকাঠি!’
পোস্টে ক্লার্ক লেখেন, ‘ত্বকের ক্যানসার বাস্তব! বিশেষত অস্ট্রেলিয়ায়। আজ আবারও নাক থেকে কেটে বাদ দিতে হল একটি ক্ষত। আপনাদের কাছে অনুরোধ—নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করান। প্রতিরোধ চিকিৎসার থেকে ভালো। বারবার চেক-আপ আর আগেভাগে ধরা পড়াটাই আমায় বাঁচিয়ে দিয়েছে। ধন্যবাদ ডাঃ বিশ সোলিমানকে, যিনি একেবারে শুরুতেই রোগ ধরে ফেলেছিলেন।’
ত্বকের ক্যানসার মূলত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV radiation) বা ট্যানিং বেড থেকে আসা রশ্মির কারণে হয়। এতে অস্বাভাবিক ত্বককোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে চলে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো ধরা পড়লে, পৃথিবীর সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসার থেকে নিরাময়লাভ সম্ভব। কিন্তু দেরি করলে, সময় নিলে বিপদ ভয়াবহ হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল। বিষুবরেখার কাছে অবস্থান, প্রবল অতিবেগুনি রশ্মি আর ফর্সা চামড়ার বিপুল জনসংখ্যার কারণে সারা দুনিয়ায় স্কিন ক্যানসারে আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ এ দেশের বাসিন্দা। পরিসংখ্যান বলছে, ৭০ বছর বয়সের আগে অন্তত তিনজন অস্ট্রেলীয়র মধ্যে দু’জনের শরীরেই এর কোনও না কোনও রূপ ধরা পড়ে। এরই শিকার মাইকেল ক্লার্ক।
২০০৪ থেকে ২০১৫—এই সময়পর্বে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। ব্যাট হাতে ১১৫ টেস্টে ৮,৬৪৩ রান, ২৪৫ ওয়ান ডে-তে ৭,৯৮১ রান করেছেন। খেলেছেন ৩৪ টি-টোয়েন্টি। অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৭৪ টেস্ট (৪৭ জয়, ১৬ হার) ও ১৩৯ ওয়ান ডে-তে। তাঁর অধীনে অস্ট্রেলিয়া ২০১৩-১৪ সিজনের অ্যাশেজে ৫-০ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দেয়, ২০১৫ সালে জিতে নেয় বিশ্বকাপ ট্রফি। আক্রমণাত্মক কৌশল, চাপের মধ্যে মাথা ঠান্ডা রাখা আর অভিজাত স্ট্রোক প্লে-ই তাঁকে ইতিহাসের সেরাদের তালিকায় বসিয়েছে।