বৃহস্পতিবারের বৈঠক বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের মতামত, সরকারের অবস্থান এবং আইসিসির চাপ—এই তিনের সমন্বয়েই ঠিক হবে, টি–২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ভবিষ্যৎ।

বাংলাদেশ টিম
শেষ আপডেট: 22 January 2026 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি–২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) বাংলাদেশের (Bangladesh) অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটাতে বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। ঢাকার প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উঠবে এবং একই সঙ্গে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল (Asif Nazrul)। খেলোয়াড়দের মতামত শোনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বাংলাদেশ সরকার।
গত কয়েক দিন ধরে বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (International Cricket Council—ICC) পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা আসার পর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে।
আইসিসির কড়া অবস্থান, সময় বেঁধে দিল বোর্ড
বুধবার, ২১ জানুয়ারি আইসিসি (ICC) বাংলাদেশকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টি–২০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশকে খেলতে হবে ভারতেই (India)—ভেন্যু বদলের কোনও প্রশ্ন নেই। নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board—BCB) উদ্বেগ খারিজ করে আইসিসি জানায়, ভারতের কোনও ময়দানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‘বিশ্বাসযোগ্য’ হুমকির ইস্যু নেই। সূত্রের খবর, আইসিসি বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত জানাতে মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় দেয়। অর্থাৎ, বিশ্বকাপে মুস্তাফিজুররা খেলবেন কি না—এই প্রশ্নে ঢিলেমির আর জায়গা নেই। আইসিসি আরও ইঙ্গিত, বাংলাদেশ যদি সরে দাঁড়ায়, তাহলে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে (Scotland) টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
এবারের টুর্নামেন্ট যৌথভাবে আয়োজন করছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)। যা শুরু হওয়ার কথা ৭ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের চারটি লিগ ম্যাচের মধ্যে তিনটি কলকাতায় (Kolkata) এবং একটি মুম্বইয়ে (Mumbai) নির্ধারিত।
ঢাকায় তৎপরতা, ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বোর্ডের বৈঠক
আইসিসির অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর ঢাকায় শুরু হয় দফায় দফায় আলোচনা। বুধবার রাতে বিসিবি সভাপতি আনিমুল ইসলাম (Animul Islam) ও একাধিক বোর্ড কর্তা ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের (Asif Nazrul) সঙ্গে দেখা করেন। মূল আলোচ্য—সরকারি অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা।
জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে খেলতে কতটা প্রস্তুত, নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত-ই বা কী—সমস্ত দিক শোনার পর মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেশ করা হবে।
সরে দাঁড়ালে বড় ক্ষতি, খেলাই কি একমাত্র পথ?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো মানে শুধু একটি টুর্নামেন্ট মিস করা নয়। এতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং আইসিসির সঙ্গে সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়বে।
এর আগে ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ থেকে (Indian Premier League—IPL) পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের (Mustafizur Rahman) সরে দাঁড়ানো নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পরই বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন জানায়। কিন্তু আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে—নিরাপত্তা মূল্যায়নে ঘাটতি নেই।
সব মিলিয়ে, বৃহস্পতিবারের বৈঠক বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের মতামত, সরকারের অবস্থান এবং আইসিসির চাপ—এই তিনের সমন্বয়েই ঠিক হবে, টি–২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ভবিষ্যৎ। আপাতত যাবতীয় নজর ঢাকার দিকে।