ঝাড়খণ্ডের এই বড় ঘরোয়া ট্রফি জয়ের পিছনে একাধিক মুখ। কিন্তু আড়ালের সবচেয়ে বড় নামটা সেই পুরনোই—ধোনি।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 25 December 2025 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রফিটা হাতে তুললেন ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan)। গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস, ড্রেসিংরুমে উল্লাস। কিন্তু ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) ঐতিহাসিক সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি (Syed Mushtaq Ali Trophy) জয়ের গল্পটা শুধু মাঠের নয়। সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন এমন একজন, যাঁকে মাঠে দেখা যায়নি, স্কোরকার্ডেও নেই—তবু যাঁর ছাপ সর্বত্র। তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni)।
প্রশাসনিক রদবদল থেকে পরিকল্পনার নকশা
২০২৪ সালে ঝাড়খণ্ড রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার (Jharkhand State Cricket Association) অন্দরে বড়সড় রদবদল হয়। সেই সময় থেকেই রাজ্যের ক্রিকেটকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ শুরু। প্রাক্তন স্পিনার শাহবাজ নাদিম (Shahbaz Nadeem) যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। কোচ হিসেবে আসেন রতন কুমার (Ratan Kumar)। কিন্তু এই নিয়োগ এবং সামগ্রিক পরিকল্পনার পিছনে নিয়মিত পরামর্শদাতা হিসেবে ছিলেন ধোনি।
নাদিম নিজেই জানিয়েছেন, কোচিং স্টাফ নিয়োগ থেকে শুরু করে লং-টার্ম পরিকল্পনা—সব ক্ষেত্রেই ধোনির মতামত নেওয়া হত। শুধু ‘নামজাদা প্রাক্তন ক্রিকেটারে’র ভূমিকা নয়, একেবারে হাতেকলমে পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন তিনি।
মাহির ট্যাকটিক্যাল নজর, ডেটার গভীর পাঠ
ধোনির অবদান সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে টি-২০ কৌশলে। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির পুরো টুর্নামেন্টটাই তিনি নিয়মিত ফলো করেছেন। কোন ব্যাটার কোন পরিস্থিতিতে কার্যকর, কোন বোলারের কোন ওভারে শক্তি—সবই তাঁর নোটবুকে। নাদিমের কথায়, ‘ধোনি প্রত্যেক ঝাড়খণ্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটারের পরিসংখ্যান জানেন। কার শক্তি কী, দুর্বলতা কোথায়—সব তাঁর মাথায় থাকে।’এই ডেটা-নির্ভর বিশ্লেষণই দল নির্বাচন ও ম্যাচ-টু-ম্যাচ কৌশলে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
মাঠে ঈশান, আড়ালে ধোনি
ফলাফলটা এনে দিয়েছেন অধিনায়ক ঈশান কিষাণ। ১০ ইনিংসে ৫১৭ রান, স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৯৭—টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটারদের একজন। সঙ্গে কুমার কুশাগ্র (Kumar Kushagra) ফিনিশার হিসেবে কার্যকর। অলরাউন্ডার অনুকুল রায় (Anukul Roy) হয়েছেন প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট—৩০৩ রান ও ১৯ উইকেট। ফাইনালে হরিয়ানার (Haryana) বিরুদ্ধে ২৬২ রান তুলে লড়াই কার্যত একপেশে করে দেয় ঝাড়খণ্ড। সেই জয়ের পর রাজ্যজুড়ে উৎসব। কিন্তু দলের ভিতরে সবাই জানে—সাফল্য হঠাৎ আসেনি।
উত্তরাধিকার থামে না
ধোনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়েছেন ২০১৯-এ। কিন্তু ক্রিকেট ছাড়েননি। আইপিএলের (IPL) বাইরে থেকেও ঝাড়খণ্ড ক্রিকেটে তাঁর উপস্থিতি প্রমাণ করে, নেতৃত্ব মানে শুধু মাঠে থাকা নয়। সিস্টেম তৈরি করাও নেতৃত্বের অংশ।
ঝাড়খণ্ডের এই বড় ঘরোয়া ট্রফি জয়ের পিছনে একাধিক মুখ। কিন্তু আড়ালের সবচেয়ে বড় নামটা সেই পুরনোই—ধোনি। ট্রফিটা কিষাণের হাতে উঠেছে ঠিকই, কিন্তু নীল নকশাটা আঁকা হয়েছিল অনেক আগেই—রাঁচির এক শান্ত মাথার মানুষের হাতে।