এই হারের সঙ্গে ভারতীয় দলের সামনে উঠে এল একগুচ্ছ প্রশ্ন। আবারও ব্যর্থ হরমনপ্রীত-স্মৃতি মন্ধানারা। টপ অর্ডার ব্যাটাররা রান না করলে শুধু রিচার লড়াই যথেষ্ট নয়।

ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 10 October 2025 00:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশাখাপত্তনমের (India VS South Africa) মাটিতে কোনও কাজেই লাগল না বাংলার রিচা ঘোষের (Richa Ghosh) অনবদ্য ইনিংস। ৯৪ রানের দুরন্ত লড়াই সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa Women's) বিরুদ্ধে হেরে গেল ভারতীয় মহিলা দল (India Women's)। ২৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক সময় ৮১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকেই লরা উলভার্ট, ক্লোয়ি ট্রিয়ন এবং নাদিন ডি’ক্লার্কের ব্যাটে ঘুরে গেল ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ৭ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেটে জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা (Women’s ODI World Cup 2025)।
এই হারের সঙ্গে ভারতীয় দলের সামনে উঠে এল একগুচ্ছ প্রশ্ন। আবারও ব্যর্থ হরমনপ্রীত-স্মৃতি মন্ধানারা। টপ অর্ডার ব্যাটাররা রান না করলে শুধু রিচার লড়াই যথেষ্ট নয়। এই বাস্তব আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
রিচার আগুনঝরা ইনিংসেও হতাশার ছায়া
রিচা ঘোষ এ দিন নামেন আট নম্বরে। বলা ভাল, তাঁর ফর্ম ভাল না থাকার কারণ দেখিয়ে দল তাঁকে নীচে নামিয়ে দেয়। কিন্তু সেই অবস্থাতেই যেন নিজের জবাবটা ব্যাটের কেরামতিতে বুঝিয়ে দিলেন বঙ্গকন্যা। তিনি যখন মাঠে নামেন, ভারতের স্কোর ৬ উইকেটে ১০২। বাকি তখনও ২৪ ওভার। আমনজ্যোৎ কৌর ও পরে স্নেহ রানার সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েন রিচা। শুরুতে সাবধানী ইনিংস, পরে তুমুল খেলা।
৫৩ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর রিচা বদলে ফেলেন খেলার গতি। পরের ২৪ বলে তোলেন আরও ৪৪ রান। শেষ ১০ ওভারে ভারতের রান ৯৮। যার প্রায় পুরোটাই রিচার ব্যাটে। একের পর এক চার-ছয় মেরে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের দুরমুশ করলেন তিনি। যদিও ইনিংসের মধ্যে তাঁর ব্যাট থেকে দু’বার ক্যাচ উঠে যায়। পরে একবার রান আউট হতে হতে বাঁচেন।
শেষ ওভারে শতরানের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু কোমর সমান ফুলটসে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন রিচা। রিপ্লে-তে দেখা যায় বল মাত্র চার সেন্টিমিটার নীচে ছিল, ফলে নো-বল হয়নি। ৭৭ বলে ৯৪ রান করে থামতে হয় তাঁকে। তাঁর আউটের পরই থেমে যায় ভারতের ইনিংস।
বল হাতে ব্যর্থতা, নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন
২৫২ রান রক্ষার মতো স্কোর তেমন বড় নয়, কিন্তু বল হাতে শুরুটা দারুণ করেছিল ভারত। নতুন বলে ক্রান্তি গৌড় ফিরিয়ে দেন ওপেনার তাজমিন ব্রিটসকে শূন্য রানে। এক সময় ৮১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু সেই চাপ সামলে দেন অধিনায়ক লরা উলভার্ট ও ক্লোয়ি ট্রিয়ন।
উলভার্ট করেন ৭০ রান, ক্লোয়ির সঙ্গে তাঁর ৬১ রানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে ফেরায়। পরে ডি ক্লার্কের সঙ্গে ক্লোয়ির জুটি হয়ে ওঠে ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। চোট পেয়েও মাঠ না ছাড়ে ক্লোয়ি। এক সময় পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলেন। ৪৯ রানে আউট হওয়ার আগে দলের ভিত শক্ত করে দিয়ে যান।
এর পর একাই ম্যাচ শেষ করেন নাদিন ডি’ক্লার্ক। ৫৪ বলে ঝোড়ো ৮৮ রান, ৮টি চার ও ৫টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত দুটি ছয় মেরে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ভারতের কোনও বোলারই তাঁকে আটকাতে পারেননি।
কৌশলগত ভুলের খেসারত দিল ভারত
ম্যাচ হারের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে হরমনপ্রীত কৌরের সিদ্ধান্ত নিয়ে। নতুন বলে ভাল বল করা ক্রান্তি ও আমনজ্যোৎকে পুরনো বলে পর্যাপ্ত ওভার না দেওয়াই দলের বড় ভুল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেমন শুরুতে লম্বা স্পেল দিয়েছিলেন, সেই আস্থা দেখা গেল না দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
অন্যদিকে ব্যাট হাতে ব্যর্থতা চলছেই। স্মৃতি মন্ধানা ২৩ রানে থামেন, ৩২ বলে বিশেষ কিছু করতে পারেননি। অধিনায়ক হরমনপ্রীত করেন মাত্র ৯। জেমাইমা রদ্রিগেজ ফেরেন শূন্য রানে। টপ অর্ডার যখন ব্যর্থ, তখন বারবার নীচের সারির ব্যাটারদের ভরসায় ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়।
রবিবার নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশাখাপত্তনমের মাঠে এই হারে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুই হল ব্যর্থতার সুরে। পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। তার আগে হরমনপ্রীতদের দলকে দ্রুত নিজেদের ভুল শুধরে নিতে হবে। নইলে প্রতিযোগিতার প্রথম ধাক্কাতেই পিছিয়ে পড়বে ভারতীয় দল।