খবরের কাগজের পাতায় বড় বড় বিজ্ঞাপনে থাকত 'ইন্দ্রাণী' নাটকের পোস্টার। হারিয়ে যাওয়া পেশাদার রঙ্গমঞ্চে উল্লেখযোগ্য নাটক ছিল 'ইন্দ্রাণী'।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 17 June 2025 20:01
অভিনেতা দিলীপ রায় বলেছিলেন 'অনুপ মাপে ছোট, কিন্তু অভিনয়ের নিরিখে দীর্ঘকায়'। অভিনেতা অনুপ কুমার আমাদের সকলের চেনা। কিন্তু পরিচালক অনুপকুমার আজ বিস্মৃত। অথচ পেশাদার রঙ্গমঞ্চে পরিচালক হিসেবে অনুপ কুমার একাধিক সুপারহিট নাটক করেছেন। বহু রজনী পার করেছিল সেসব নাটক।
অনুপ কুমারের পরিচালনায় বিখ্যাত নাটক ছিল 'ইন্দ্রাণী'। সন্ধ্যা রায় নামভূমিকায় অভিনয় করতেন। 'কাশী বিশ্বনাথ মঞ্চ'তে রমরমিয়ে চলত এই নাটক।

তরুণ মজুমদারের প্রতিটি ছবির অপরিহার্য মুখ ছিলেন সন্ধ্যা রায় ও অনুপ কুমার। আবার হিরো-হিরোইন জুটি রূপেও সন্ধ্যা-অনুপ বিশাল হিট জুটি ছিলেন। নাটক করতে এসে অনুপকুমারের পরিচালনায় কাজ করলেন সন্ধ্যা রায়।
তখন কিন্তু সন্ধ্যা রায় রুপোলি পর্দার বড় নায়িকা। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি 'ইন্দ্রাণী' নাটক করতেন। সন্ধ্যার সুন্দর মুখের স্টারডম আর অনুপ কুমারের চিত্রনাট্য পরিচালনার যুগলবন্দীতে ঐতিহাসিক হয়েছিল 'ইন্দ্রাণী' নাটক। খবরের কাগজের পাতায় বড় বড় বিজ্ঞাপনে থাকত 'ইন্দ্রাণী' নাটকের পোস্টার। হারিয়ে যাওয়া পেশাদার রঙ্গমঞ্চে উল্লেখযোগ্য নাটক ছিল 'ইন্দ্রাণী'।
তবে সন্ধ্যা রায় এমন সুপারহিট নাটক ছেড়ে দিয়েছিলেন। কেন 'ইন্দ্রাণী' নাটক থেকে সরে দাঁড়ালেন সন্ধ্যা রায়! অনুপ কুমারের সঙ্গে মতবিরোধে? না একদম নয়।

আসলে বাংলাদেশে ছবি করতে যাবার কারণে বাধ্য হয়েই 'ইন্দ্রাণী' নাটক ছেড়ে দেন সন্ধ্যা রায়। অনুপ কুমার তখন সন্ধ্যার পরিবর্ত হিসেবে একটা নামই ভাবেন। তিনি মঞ্চ চলচ্চিত্রের রানি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়।
কিন্তু কোনও নায়িকার পরিবর্ত হিসেবে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় কখনও কাজ করেননি। অনুপ কুমারও ভেবেছিলেন সাবিত্রী এমন প্রস্তাবে রাজি হবেন না। কারণ যে নাটক সন্ধ্যার নামেই বহু রজনী হিট। সেখানে সাবিত্রী কাজ করবেন কেন?

সাবিত্রী কিন্তু অনুপের অনুরোধে রাজি হয়ে যান। সাবিত্রী বলেছিলেন ' মঞ্চে লোকে আমাদের লক্ষ্মী-নারায়ণ বলতেন। অনুপদার সঙ্গে অভিনয় করে মজা ছিল। সন্ধ্যা রায়ের পরিবর্ত হিসেবে অনুপদার একান্ত অনুরোধেই রাজি হই। ডিরেক্টর অনুপদার সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল। তবে কোনও নায়িকার পরিবর্ত হিসেবে ঐ আমার প্রথম আর শেষ অভিনয়। অমন পরিবর্ত হিসেবে আর কখনও কাজ করিনি।'