সবসময় যে আমি শিবুদের ছবিতে অভিনয় করি তা নয়। ওঁদের সবকিছু জুড়ে থাকি। আমি মনে করি ওঁরা আমার আপনজন।

শিবপ্রসাদের গল্পে ঋতুপর্ণা
শেষ আপডেট: 20 May 2025 19:44
চারাগাছ থেকে বটবৃক্ষ হতে রোজ জলসিঞ্চন করেন যিনি, তাঁর বড় ভূমিকা থাকে। ঠিক তেমন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shiboprasad Mukherjee) কেরিয়ারে টলিলক্ষ্মী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর (Rituparna Sengupta) ভূমিকা। 'দ্য ওয়াল'-এ আজ শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে তাঁর বন্ধু, পথপ্রদর্শক, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত জানালেন নানা সোনালি গল্প।
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-নন্দিতা রায়ের প্রথম সুপারহিট ছবি 'ইচ্ছে'-র নিবেদক ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। শুধু তাই নয়, সে সময়কার ইটিভি বাংলা চ্যানেলে রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য 'চণ্ডালিকা', 'শ্যামা', 'মায়ার খেলা' ইত্যাদি পরিচালনা করেছিলেন শিবপ্রসাদ, যেগুলির প্রযোজক ছিলেন ঋতুপর্ণা। শ্যামা, চণ্ডালিকার ভূমিকায় ছিলেন ঋতুপর্ণা স্বয়ং। শিবপ্রসাদ-নন্দিতার সেলিব্রিটি ডান্স শো 'ঋতুর মেলা, ঝুম তারা রারা'র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। শিবপ্রসাদের ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দার সফরে সবসময় হাতটা ধরে রেখেছেন ঋতুপর্ণা। শিবপ্রসাদের জীবনে সত্যিকারের লক্ষ্মী ঋতুপর্ণা।
শিবপ্রসাদের মা ঋতুপর্ণাকে খুব ভালবাসেন, ঋতুপর্ণার মা'ও শিবপ্রসাদকে খুবই ভালবাসতেন। সম্পর্ক একেবারেই পারিবারিক।

আজ শিবপ্রসাদের জন্মদিনে দ্য ওয়ালকে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বললেন 'শিবু আমার ভীষণ কাছের বন্ধু। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভীষণ আন্তরিক। আমি শুরু থেকেই শিবুর সব কাজে রয়েছি। ওর ব্যাপারে আমি ভীষণ ইমোশানাল। সবসময় মনে হয় শিবুর প্রত্যেকটা সাকসেস, আমার সাকসেস। শিবু শিবপ্রসাদ হবার আগে থেকে ওকে আমি চিনি। যেদিন শিবুর মাথায় সবকিছু ছিল, কিন্তু ওর হাতের কাছে কিছু ছিল না। শিবুর স্বপ্নগুলোকে সত্যি করার সুযোগ ছিল না। শিবুর মাথায় দুর্দান্ত সব আইডিয়া আর প্লট ছিল। সেগুলো শিবু আমাকে বলত। শুনে আমার মনে হত, এই অপূর্ব আইডিয়াগুলোকে বাস্তবায়িত করা গেলে, আমরা দারুণ দারুণ ছবি পাব ,এই টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির জন্য। চিরদিন মনে হত শিবুর কাজগুলো মানুষ দেখুক, উপভোগ করুক, পরিচালক হিসেবে শিবু স্বীকৃতি পাক।'
![]()
সাল ২০১১। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-নন্দিতা রায়ের জুটি পরিচালক হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি পেয়েছিলেন 'ইচ্ছে' ছবি থেকে। তাঁদের তৈরি ছবিও যে ছবিঘর হাউসফুল করতে পারে তা প্রমাণ করেছিল 'ইচ্ছে'। স্টারকাস্ট বিহীন শুধুমাত্র মা-ছেলের সম্পর্কে অস্তিত্ব লড়াইয়ের গল্প। নবাগত পরিচালক জুটির ছবি রমরমিয়ে চলেছিল। সেই ছবি হতে পেরেছিল যাঁর সাহচর্যে তিনি টলিকুইন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। স্বয়ং ঋতুপর্ণা বললেন দ্য ওয়ালকে 'আমার মনে হয়েছিল 'ইচ্ছে' ছবিটা হওয়া উচিত। তাই এই ছবিটির নিবেদক ছিলাম আমি। 'ইচ্ছে'র মতো গল্প ঘরে ঘরে ঘটে। মনে হয়েছিল সে ছবি দেখে মানুষের বোঝা উচিত। শিবুর উপর এবং উইন্ডোজ প্রোডাকশনে নন্দিতাদিরও বিশাল অবদান। আমি ওঁদের সব কাজের মধ্যে ছিলাম, আছি, থাকব। সবসময় যে আমি শিবুদের ছবিতে অভিনয় করি তা নয়। ওঁদের সবকিছু জুড়ে থাকি। আমি মনে করি ওঁরা আমার আপনজন।'

শিবুর এই সফলতা আমি খুব উপভোগ করি। কারণ আমিই তো চেয়েছিলাম শিবুর সবথেকে ভাল হোক। শিবুর কথা আমি অনেকের কাছে গিয়ে পৌঁছেছিলাম। 'মুক্তধারা' ছবিটা আমি রাষ্ট্রপতি ভবনেও দেখিয়েছিলাম। আমি আমার দিক থেকে যতটা পারি শিবুর ছবিগুলোকে বিরাট বিরাট জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।'
![]()
শিবপ্রসাদ-নন্দিতার হাত ধরেই আবার পর্দায় ফিরেছিল প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার জুটি। বহু বছর পর নতুন প্রজন্মের কাছেও এই জুটিকে নিয়ে উন্মাদনা এতটুকু কমেনি। ঋতুপর্ণা বলছেন 'এটাই তো আমাদের জুটির ম্যাজিক। শিবু-নন্দিতাদির কাজের প্রতি বিশ্বাস ছিল বলেই আমাদের প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার জুটি আবার ফেরে। আর কোন রান্নায় কোন মশলাটা কত পরিমাণে লাগবে সেই জাদুটা শিবু-নন্দিতাদি জানে। আসল তো ওঁদের ছবির কনটেন্ট। যা মানুষ দেখতে চায় সবসময়। শিবুর প্রতিটি ছবির সফলতায় আমি ভিতর থেকে খুব গর্ব অনুভব করি।
আজকে শিবুকে জন্মদিনে অনেক ভালবাসা, অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আমি চাই এভাবেই শিবু আরও বড় হোক। 'উইন্ডোজ' বড় হোক। আমি আর শিবু যেন আরও অনেক ভাল কাজ দর্শকদের উপহার দিতে পারি। আমাদের কম্বিনেশন কিন্তু সব দিক থেকে বেস্ট। আমরা যে যে ছবি করেছি, সবগুলো ল্যান্ডমার্ক হয়ে আছে।'