
রাম তেরি গঙ্গা মইলি
শেষ আপডেট: 22 June 2024 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ কাপুর বলেই বোধহয় সম্ভব হয়েছিল! নইলে আটের দশকের শেষে অমন সাহসী ছবি কে আর বানাতে পারতেন!
নবাগতা অ
ভিনেত্রী মন্দাকিনীর যৌবন তখন বর্ষার জলধারার মতই স্রোতস্বিনী। শরীরে জড়িয়ে থাকা সাদা কাপড়, পাহাড়ি লাজুক মেয়ের শহর কলকাতার আধুনিক যুবকের সঙ্গে প্রেম, তার উদ্দামতা সে সময়ে ফ্রেমে ধরে সিলভার স্ক্রিনে দেখানো চ্যালেঞ্জ ছিল বইকি।
রাজ কাপুরের জন্য যেন সে সব কোনও চ্যালেঞ্জই ছিল না। রাম তেরি গঙ্গা মইলি—পরিচালক হিসাবে জীবনের শেষ ছবি ছিল তাঁর। ভাই রনধীর কাপুর ছিলেন প্রযোজক। মুম্বইতে কাপুর পরিবারের টাকার অভাব ছিল না। ছবিতে অঢেল টাকা ঢালার ক্ষমতা ছিল তাঁদের। ছেলে রাজীব কাপুরকে নায়ক করেছিলেন। অনেকগুলো অডিশন নিয়ে বেছে নিয়েছিলেন মন্দাকিনীকে। ওই এক ছবিতেই মন্দাকিনী আসমুদ্র ভারতের কত বুকে যে ঢেউ তুলেছিল তা সেনসাস করার মতই ব্যাপার ছিল।
অথচ ঘটনা হল, মন্দাকিনী রাজ কাপুরের প্রথম পছন্দ ছিলেনই না। তাঁর প্রথম পছন্দ ছিলেন পদ্মিনী কোলাপুরী। তিন বছর আগেই ঋষি কাপুর আর পদ্মিনী কোলাপুরীকে নিয়ে বলিউডে হিট ছবি দিয়েছিলেন রাজ কাপুর। ছবির নাম ছিল প্রেম রোগ। আরও বড় কথা মাত্র ১৫ বছর বয়সে গেহরাই নামে একটি হিন্দি ছবিতে পদ্মিনী খুবই সাহসী অভিনয় করেছিলেন। অর্থাৎ রাম তেরি গঙ্গা মইলিতে রাজ কাপুর নায়িকাকে যেভাবে চেয়েছিলেন তা পদ্মিনীর কাছ থেকে পাবেন বলে আশা করেছিলেন।
পরে পদ্মিনীই এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে ৪৫ দিন শ্যুট করার পরেও মন্দাকিনীকে বাতিল করে তাঁকে চেয়েছিলেন রাজ কাপুর। কিন্তু পদ্মিনী রাজীবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য করতে সহজ ছিলেন না। রাজকে না করে দেন তিনি।
রাম তেরি গঙ্গা মইলিতে একটি দৃশ্যে দেখা যায় কোলের সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন মন্দাকিনী। তাতে তাঁর অনাবৃত বুকেরও অংশও দেখা যায় ছবিতে। পদ্মিনী অবশ্য দাবি করেছেন, সেই দৃশ্য করতেও তাঁর আপত্তি ছিল না। কিন্তু রাজ গোটা ছবিতে তাঁকে যেভাবে চেয়েছিলেন, রাজীবের সঙ্গে যতটা ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত ফ্রেমে ধরতে চেয়েছিলেন, তাতে আড়ষ্ঠ বোধ করেন পদ্মিনী।
অনেকে অবশ্য বলেন, ভগবান যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। মন্দাকিনীর মধ্যে যে ফ্রেশনেস ছিল তা পদ্মিনীর মধ্যে ছিল না। পাহাড়ি মেয়ের সহজ সাধাসিধে চরিত্র ভালই ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি।
সে ছবি অমর করে রাখার জন্য আরও একজনের অবদান ভোলার নয়। সেই তিনি ছিলেন রবীন্দ্র জৈন। তাঁর দেওয়া অসামান্য সুরে যে গানগুলি গেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর ও সুরেশ ওয়াদেকর তা আজও অমলিন।