
মাধুরী দীক্ষিত, তাঁর হাসিতে, চাহনিতে মুগ্ধ আসমুদ্রহিমাচল।
শেষ আপডেট: 15 May 2025 16:03
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য ... । বাঙালি বলিউডের যে নায়িকার মুখে পায় সুচিত্রা সেনের প্রতিচ্ছবি, তিনি মাধুরী দীক্ষিত। আজ তাঁর জন্মদিন। আজও তাঁর হাসিতে, চাহনিতে মুগ্ধ আসমুদ্রহিমাচল। বলিউডের বহু অভিনেত্রী টালিগঞ্জ পাড়ায় এসে বাংলা ছবি করেছেন। কিন্তু মাধুরী দীক্ষিত কখনও বাংলা ছবি করেননি। তবে নয়ের দশকের শেষ ভাগে বড় খবর হয়েছিল, মাধুরী দীক্ষিত কলকাতা আসছেন বাংলা ছবি করতে।
মাধুরী রাজিও ছিলেন এই বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে। সেই ছবি পরে মুক্তি পেলেও শেষ অবধি নায়িকা আর মাধুরী দীক্ষিত ছিলেন না।

নয়ের দশকের শেষে প্রায় ঠিক হয়ে গিয়েছিল বাংলা ছবিতে আসছেন ধক ধক গার্ল। বম্বের বাঙালি পরিচালক পার্থ ঘোষের 'সিঁদুর খেলা' ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করার কথা পাকা হয়ে গিয়েছিল মাধুরীর। সেই সময় সমস্ত সংবাদপত্রে বড় খবর ছিল মাধুরী আসছেন কলকাতায়। দর্শক ছিল উচ্ছ্বসিত। কেউ আবার বলল, বম্বের বাজার পড়ে যেতেই নাকি মাধুরী বাংলা ছবি করতে আসছেন। তবে সবাই খুব উদগ্রীব ছিলেন মাধুরীর ভুবন ভোলানো হাসি বাংলা ছবিতেও দেখতে পাবেন ভেবে।
পার্থ ঘোষের 'হান্ড্রেড ডেজ' ছবির নায়িকা ছিলেন মাধুরী। মাধুরীর চরিত্রের নাম দেবী। মুনমুন সেন ছিলেন মাধুরীর প্রয়াত দিদির ভূমিকায়, যিনি খুন হন ছবির শুরুতেই। দিদির আত্মা মাধুরীকে ডাকত প্রতি রাত্রে। রহস্য রোমাঞ্চ ছবির লিস্টে আজও সবার পছন্দের ফিল্ম 'হান্ড্রেড ডেজ' ( 100 Days)।

যেহেতু আগেই মাধুরীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন পার্থ ঘোষ, তাই তিনি তাঁর বাংলা ছবিতেও মাধুরীকেই নায়িকা করতে চেয়েছিলেন। ছবির নাম 'সিঁদুর খেলা'।
মাধুরীর বিপরীতে নায়ক কে থাকবেন তখনও তা ঠিক হয়নি। তবে কলকাতা এসে টালিগঞ্জ পাড়ার কলাকুশলীদের সঙ্গে কাজ করতেন মাধুরী। আর্ট ছবি নয়, একদম মেনস্ট্রিম বাংলা ছবি করতেই রাজি ছিলেন মাধুরী। কারণ পরিচালকের সঙ্গে আগেই তাঁর সখ্যতা ছিল।
কিন্তু বড় খবরের পর আর বড় কাজ হল না। নানা সমস্যায় বেশ কিছুদিন মুলতুবি ছিল ছবির কাজ। এরপর 'সিঁদুর খেলা' ছবি থেকে সরে দাঁড়ান মাধুরী। তিনি আর ডেট দিতে পারেননি পার্থ ঘোষকে। মাধুরী সরে যাওয়াতে ছবির মান, বাজেট এমনকী পরিচালনার মানেও আপস করেছিলেন পরিচালক।

'সিঁদুর খেলা' ছবি ১৯৯৯ সালে রিলিজ করলেও বদলে গেলেন নায়িকা। মাধুরীর জুতোতে পা গলালেন টলিলক্ষ্মী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা-চিরঞ্জিতের ছবি হয়ে গেল 'সিঁদুর খেলা'। রঞ্জিত মল্লিক আর সুপ্রিয়া দেবী ছিলেন দুটি বিশেষ চরিত্রে। মাধুরী বম্বে থেকে এ ছবি করতে না এলেও, বলিউডের কমেডিয়ান জনি লিভার ছিলেন 'সিঁদুর খেলা' বাংলা ছবিতে। একান্নবর্তী পরিবারের পরিচারকের মজার রোলে অভিনয় করেন জনি। জনি লিভার আর বাড়ির গিন্নি মা সুপ্রিয়া দেবীর অনেক দৃশ্য ছিল ছবিতে। ঋতুপর্ণার চরিত্রের নাম ছিল শিবানী। এই চরিত্র আদতে মাধুরীকে ভেবেই লেখা।

তবে 'সিঁদুর খেলা' যে মানের ছবি হয়েছিল, তা কখনও মাধুরী দীক্ষিতের আদর্শ বাংলা ছবি হতে পারত না। ছবিটি ফ্লপ করলে মাধুরীর ব্যর্থ সফর হত টলিউডে। যদিও প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার 'সিঁদুর খেলা' মেনস্ট্রিম দর্শকদের কাছে হিট করেছিল। বুম্বা-ঋতুর কেরিয়ারে সফল ছবি এটা।
'সিঁদুর খেলা' ছবিতে মাধুরী দীক্ষিত নায়িকা না হলেও, এই ছবির ইতিহাসে তাঁর নাম রয়েই যাবে। যদিও এই গল্প আজ বিস্মৃতির আড়ালে।