তোমার মুখের সঙ্গে কণিকা মজুমদারের মুখের ভীষণ মিল আছে। তাহলে কণিকা মজুমদার আর তোমাকে নিয়ে একসঙ্গে কোনও একটা ছবি করতে পারতাম।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 24 June 2025 19:47
একসূত্রে বাঁধা ৩ গল্প নিয়ে একটিই ছবি। সত্যজিৎ রায় বানিয়েছিলেন 'তিন কন্যা', চিদানন্দ দাশগুপ্ত বানিয়েছিলেন 'বিলেত ফেরত' ছবি। সেই ধারা আবার টালিগঞ্জে ফিরে এল 'ভূতপূর্ব' ছবির হাত ধরে। শুক্রবার ২৭ জুন রথযাত্রার দিন সাড়ম্বরে মুক্তি পাচ্ছে 'ভূতপূর্ব'। রিলিজের প্রাক্কালে সেই ছবির প্রথম গল্প 'মণিহারা'র নায়িকা অমৃতা চট্টোপাধ্যায় অকপটে গল্প করলেন দ্য ওয়াল আড্ডায়।
ছবির নাম 'ভূতপূর্ব'। পরিচালনায় কাকলি ঘোষ ও অভিনব মুখোপাধ্যায়। শুধু ভূতের গল্প নয়, সঙ্গে আছে রহস্য, রোমাঞ্চ। তিনজন কথকের গল্প নিয়ে তৈরি ‘ভূতপূর্ব’। প্রথম গল্প রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মণিহারা। এক বনেদি ব্যবসায়ী ফণীভূষণ সাহা এবং তাঁর স্ত্রী মণিমালিকার গয়নার প্রতি অতিরিক্ত লোভ জীবনে নিয়ে আসে এক মর্মান্তিক পরিণতি। দ্বিতীয় গল্প বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তারানাথ তান্ত্রিক। এক তান্ত্রিকের গৃহত্যাগ, অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা উঠে আসবে। তৃতীয় গল্প মনোজ সেনের 'শিকার' অবলম্বনে তৈরি। শিক্ষিত যুবক পূর্ণেন্দুর জীবন কীভাবে পাল্টে যায় তা দেখানো হবে গল্পে।

মণিহারা'র মণিমালিকার কথা বললেই আমাদের মনে পড়ে স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী কণিকা মজুমদারের মুখ। অদ্ভুত ভাবেই 'ভূতপূর্ব' ছবির মণিমালিকা অমৃতা চট্টোপাধ্যায়ের মুখের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে কণিকা মজুমদারের মুখ। এই সাদৃশ্য কিন্তু সত্যিসত্যি অমৃতার জীবনেই ঘটেছে। অকপটে অমৃতা বললেন 'তিনটে গল্পই ষাট দশকের এবং তিনটের কমন ফ্যাক্টর লোভ। 'ভূতপূর্ব' ছবিটা দেখলে আরও বোঝা যাবে।
কণিকা মজুমদার আমার চিরকালের প্রিয় অভিনেত্রী। বছর সাতেক আগে আমি একবার সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি গিয়েছিলাম। তখন সবে সবে কাজ শুরু করেছি। সন্দীপ রায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ পরিচয় সম্পর্ক হয়েছিল। আমি সন্দীপ রায়ের সঙ্গে আলাপ করতেই গিয়েছিলাম। উনি আমাকে দেখেই বললেন 'ইশ আর কয়েকটা বছর আগে যদি তুমি আসতে। তোমার মুখের সঙ্গে কণিকা মজুমদারের মুখের ভীষণ মিল আছে। তাহলে কণিকা মজুমদার আর তোমাকে নিয়ে একসঙ্গে কোনও একটা ছবি করতে পারতাম।' ঐ সময় কণিকা মজুমদার বৃদ্ধাশ্রমে থাকতেন সবে সবে মারা গিয়েছেন। উনি মারা যাবার কয়েক মাস পরের ঘটনা। সেটা আমার খুব আশ্চর্য লেগেছিল।

কাট টু। এই 'ভূতপূর্ব' ছবিটার কয়েক মাস আগে আমি একটি বিপণীর গয়নার বিজ্ঞাপন করেছিলাম। ধনতেরাসে গয়না পরা আমার একটা ছবি পোস্ট করেছিলাম। আমার ছবিতে বেশ কিছুজন ইন্টারেস্টিং কমেন্ট করেছিলেন 'মণিহারার রিমেক হলে মণিমালিকার চরিত্রে তুমিই আইডিয়াল!'
ঠিক তারপরেই এই 'ভূতপূর্ব' ছবিতে মণিহারা গল্পে মণিমালিকা চরিত্র করার অফার পাই।'
সত্যজিতের 'তিন কন্যা'র পরেও চার পাঁচটা 'মণিহারা' হয়েছিল। কখনও ছবিতে, কখনও টেলিভিশনে। কিন্তু কোনওটাই ক্লাসিককে অতিক্রম করতে পারেনি।
সত্যজিৎ রায়ের মণিমালিকা কণিকা মজুমদারকে এই ছবি করতে গিয়ে কতটা ফলো করেছিলেন অমৃতা?
মণিমালিকা অমৃতার কথায় ' যে গল্প নিয়ে একটা কাল্ট ছবি হয়ে গিয়েছে, সেই গল্পে আবার ছবি করা নিয়ে আমাদের গোটা টিমের একটা চাপ তো ছিলই।

আমাদের এই ছবিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্পকে কিন্তু এ যুগে নিয়ে আসা হয়নি। সেই ক্লাসিককে সেভাবেই রাখা হয়েছে। পিরিয়ড গল্পের সেই সময়টা অক্ষুন্ন আছে আমাদের ছবিতে। ক্লাসিকের সঙ্গে তুলনা না করাই ভাল। ক্লাসিকের সঙ্গে আমাদের নতুন পরিচালকদের তুলনাই চলে না। তবে মূল পাঠ্যকে ওঁরা পরিবর্তন করেননি। 'ভূতপূর্ব'র শ্যুটিং শুরু হওয়ার কদিন আগে আমি আরও একবার সত্যজিৎ রায়ের 'তিন কন্যা' দেখেছিলাম। মণিমালিকা কণিকা মজুমদারের তাকানো, গলার স্বর বেশ অন্যরকম ছিল। কাঠ কাঠ ছিল নায়িকার রোল। কণিকা মজুমদারের আই মুভমেন্ট সারা ছবি জুড়ে ছিল। আমি ওঁর সেই ম্যানারিজম গুলো ফলো করিনি। বরং এই মণিমালা অনেক বেশি কোমল। কণিকা মজুমদারের সেই আইকনিক আই মুভমেন্ট কিন্তু আমি রিপিট করিনি। তবু অজান্তেই আমার সঙ্গে ওঁর মতো একজন লেজেন্ডারি অভিনেত্রীর মুখের মিল যা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। যে ভবিষ্যদ্বাণী সন্দীপ রায় করেছিলেন সেটা আমার জীবনে সত্যি হয়ে গেল। যেন একটা বৃত্তপূরণ হল।'
