আজ ভারতে রুপোর দামে রেকর্ড পতন। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমা ও উৎসব-পরবর্তী প্রভাবেই ধস। জানুন বিশেষজ্ঞদের মত ও বিনিয়োগের সুযোগ।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 27 October 2025 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ রুপোর দামে দেখা গেল এক অভাবনীয় পতন। কয়েকদিন আগেই রুপো তার সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছেছিল, কিন্তু আজ দাম এমনভাবে ধসে পড়েছে যে বাজার বিশেষজ্ঞরাও অবাক। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ চাহিদা কমে যাওয়ার জেরে এই বড়সড় ধস বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে কোটি কোটি বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
রুপোর দামে আকস্মিক পতন: এক নজরে
দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর রুপোর দামে এক বড় ধস দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ₹১৭,০০০ থেকে ₹২১,০৫০ পর্যন্ত কমেছে। ২৬ অক্টোবর, ২০২৫-এ কলকাতায় খুচরো বাজারে প্রতি কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ₹১,৫০,২৫০, যা গত দিনের তুলনায় স্থিতিশীল হলেও, সামগ্রিকভাবে বড় পতনের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।আন্তর্জাতিক বাজারেও অবস্থা একই। মঙ্গলবার সোনার দাম কমেছে ৩%-এর বেশি, আর রুপোর দাম একদিনে পড়েছে ৫.২%, প্রতি আউন্সে নেমে এসেছে $৪৯.৬৮-এ— যা গত পাঁচ বছরে একদিনে সবচেয়ে বড় পতন। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) রুপোর ফিউচার মূল্যও ৭ দিনে ₹২১,০৫০ কমে ₹১,৪৭,১৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
রেকর্ড উচ্চতা থেকে ধস
২০২৫ সালের শুরুতে রুপোর দাম প্রায় ৬১% বেড়েছিল এবং রুপো ETF ৮৩%-এরও বেশি রিটার্ন দিয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে সাদা ধাতুর দাম ১৪ বছরের মধ্যে প্রথমবার $৪৫ ছাড়ায়। কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি রুপোর দাম ₹১.৭০ লক্ষ ছুঁয়েছিল, যা এখন তার সর্বোচ্চ দাম থেকে অনেকটাই নিচে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন সাময়িক সংশোধনও হতে পারে, কারণ দীর্ঘদিনের মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখা দেয়।
কেন কমছে রুপোর দাম?
রুপোর দামে পতনের পিছনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় কারণই কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ:
লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন (LBMA) সম্প্রতি বাড়তি রুপো বাজারে ছেড়েছে চাহিদা নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
প্রফিট বুকিং:
দীর্ঘদিন দাম বাড়ার পর বিনিয়োগকারীরা লাভ তুলে নিচ্ছেন, ফলে দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
চাহিদা হ্রাস:
ধনতেরাস ও দীপাবলির মরসুম পেরোনোর পর দেশীয় চাহিদা কমেছে।
মার্কিন ডলারের শক্তি বৃদ্ধি:
ডলারের দাম বাড়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য রুপো ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
মার্কিন মুদ্রানীতি ও সুদের হার:
ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত ও বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
শিল্প চাহিদা কমা:
ইলেকট্রনিক্স ও সৌরশক্তি খাতে অস্থায়ী মন্দার প্রভাবও পড়েছে রুপোর দামে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্প খাতে রুপোর ব্যবহার আগামী দিনে আরও বাড়বে— বিশেষত গ্রিন টেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, সৌরশক্তি ও ৫জি প্রযুক্তি ক্ষেত্রে। ২০২৫ সালে রুপোর বৈশ্বিক শিল্প চাহিদা রেকর্ড ৬৮০.৫ মিলিয়ন আউন্স ছুঁয়েছে।
চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধানের কারণে ভবিষ্যতে দাম বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অনেকে অনুমান করছেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম $৭০–৭২ এবং দেশীয় বাজারে প্রতি কেজি প্রায় ₹২ লক্ষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে, বিনিয়োগের আগে বাজার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। রুপোর দামে এই সাময়িক ধস উদ্বেগের কারণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদে শিল্পচাহিদা ও সীমিত সরবরাহের কারণে এর ভবিষ্যৎ এখনও আশাব্যঞ্জক। বিনিয়োগকারীদের উচিত সতর্ক থাকা, কিন্তু আতঙ্কিত নয়।