ব্যবসা-বাণিজ্যে দুর্বল গতি, বিদেশি বিনিয়োগে টানাপড়েন, আর ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি (India-US Trade Deal) নিয়ে অনিশ্চয়তা- এই তিন বড় কারণে চাপের মুখে রয়েছে ভারতীয় মুদ্রা।
.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 December 2025 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই প্রথমবারের ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার (Rupee) মূল্য ৯০ টাকা পার করে গেল। অর্থাৎ ১ ডলারের (Dollar) বিনিময় মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় হল ৯০.২০ টাকা (USD INR Exchange rate)। বুধবার সকালে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে টাকার দর প্রথম ধাক্কাতেই গড়িয়ে পড়েছিল ৯০.১৩-এ। তার পর তা আরেকটু পড়েছে। এটাই ভারতীয় মুদ্রার সর্বকালের সর্বনিম্ন মূল্য। মাত্র একদিন আগেই ‘রেকর্ড লো’ (Indian Rupee record low) ছুঁয়েছিল রুপি। তা ছিল ৮৯.৯৪৯৫ টাকা। এবার সেটাও ছাপিয়ে গেল।
ব্যবসা-বাণিজ্যে দুর্বল গতি, বিদেশি বিনিয়োগে টানাপড়েন, আর ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি (India-US Trade Deal) নিয়ে অনিশ্চয়তা- এই তিন বড় কারণে চাপের মুখে রয়েছে ভারতীয় মুদ্রা। তার জেরে ধাক্কা খেয়েছে শেয়ারবাজারও। নিফটি নেমে গেছে ২৬ হাজারের নিচে, সেনসেক্স হারিয়েছে প্রায় ২০০ পয়েন্ট।
जिस प्रकार से डॉलर मजबूत हो रहा है, रुपया कमजोर होता जा रहा है, ऐसे में विश्व व्यापार में भारत टिक नहीं पाएगा।
हमारे व्यापारी इस बोझ को सह नहीं पाएंगे, लेकिन दिल्ली की सरकार कोई जवाब नहीं दे रही है।
- नरेंद्र मोदी pic.twitter.com/Vx1TzBvXBf— Congress (@INCIndia) December 3, 2025
রাজনৈতিকভাবে এবার তা ব্যুমেরাং হয়ে ফিরেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকে। ইউপিএ জমানায় ডলারের বিনিময়ে টাকার মূল্য সবে যখন ৬০ ছুঁয়েছে তখন তীব্র সমালোচনা করেছিলেন গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ভারতীয় মুদ্রা দুর্বল হওয়ায় ভারতের ব্যবসায়ীরা প্রবল ধাক্কা খাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। এখন তাঁর জমানাতেই মুদ্রার মহাপতন ঘটল। ফলে বিরোধীরা তাঁর পুরনো কথাই তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন।
কেন এমন পতন?
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বড় চাপ ভারতীয় মুদ্রা প্রতিরোধ করতে পারেনি।
ট্রেড ফ্লো দুর্বলতা: অক্টোবর মাসে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে হয়েছে রেকর্ড ৪১.৭ বিলিয়ন ডলার।
বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রত্যাহার: ডিসেম্বরের প্রথম দুই ট্রেডিং সেশনে এফপিআই-রা তুলে নিয়েছে ৪,৩৩৫ কোটি টাকা। চলতি বছরে মোট বহির্গমন হয়েছে ১.৪৮ লক্ষ কোটি টাকা।
সোনা আমদানি তিনগুণ: অক্টোবরে সোনা আমদানি লাফিয়ে ১৪.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
আমেরিকার বাজারে রফতানি ধস: মার্কিন বাজারে ভারতের রফতানি ২৮% কমে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
ইয়েন ক্যারি ট্রেড আনওয়াইন্ড: এশীয় মুদ্রাবাজারে চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে জাপানি ইয়েনের চলমান বাজার সংশোধন।
সব মিলিয়ে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে ভারতীয় মুদ্রা—২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৫% পতন ঘটেছে।
বাজারে আতঙ্ক ছড়াল কেন?
রুপির এই রেকর্ড পতন শেয়ারবাজারকেও (Share Market) কাঁপিয়ে দিয়েছে। এইচইউএল, টাইটান, টাটা মোটরস, এনটিপিসি, কোটাক ব্যাঙ্ক, মারুতি, আইটিসি—অনেক বড় স্টকই দিনের শুরুতে লাল চিহ্নে ছিল। বিশেষজ্ঞদের মত, রুপির ধারাবাহিক পতন বিদেশি তহবিলকে আরও বিক্রির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর যেহেতু রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাজারে হস্তক্ষেপ করছে না, তাই বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জিওজিৎ–এর চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ড. ভি কে বিজয়কুমার জানান—“রুপি আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থেকেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিক্রিতে ঝুঁকছেন। কর্পোরেট আয়ের উন্নতি আর জিডিপি বৃদ্ধি সত্ত্বেও বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না।”