
শেষ আপডেট: 1 May 2025 19:23
নয়াদিল্লি, ১ মে: চলতি অর্থবর্ষের প্রথম মাসেই পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) আদায়ে রেকর্ড তৈরি হল। এপ্রিল মাসে মোট আদায় দাঁড়িয়েছে ২.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.৬ শতাংশ বেশি। এটি জিএসটি চালুর (১ জুলাই, ২০১৭) পর সর্বোচ্চ মাসিক আদায়।
সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ লেনদেন থেকে আদায় হয়েছে প্রায় ১.৯ লক্ষ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১০.৭ শতাংশ বেশি। অপরদিকে, আমদানিকৃত পণ্যের উপর থেকে রাজস্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬,৯১৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ ২০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আদায় হয়েছিল ২.১০ লক্ষ কোটি টাকা, যা এতদিন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল। চলতি বছরের মার্চে জিএসটি আদায়ের পরিমাণ ছিল ১.৯৬ লক্ষ কোটি টাকা।
ফেরতযোগ্য অর্থ বাদ দিয়ে নিট আদায় দাঁড়িয়েছে ২.০৯ লক্ষ কোটি টাকা, যার মানে বৃদ্ধি হয়েছে ৯.১ শতাংশ। এপ্রিল মাসে রিফান্ডের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে তথা ৪৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৭,৩৪১ কোটি টাকা।
ডেলয়েট ইন্ডিয়ার পার্টনার এম.এস. মানি জানিয়েছেন, “জিএসটি আদায়ের এই চিত্র থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার। তা হল, আগের অর্থবর্ষের শেষ মাস অর্থাৎ মার্চ মাসে জোরদার আর্থিক কর্মকাণ্ড ঘটেছে। মার্চের লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রেকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া এপ্রিলের আদায়কে প্রভাবিত করেছে।”
রাজস্ব বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় জিএসটি বাবদ আদায় হয়েছে ৪৮,৬৩৪ কোটি টাকা এবং রাজ্য জিএসটি বাবদ আদায় হয়েছেন ৫৯,৩৭২ কোটি টাকা। ইন্টিগ্রেটেড জিএসটি বাবদ রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৯,৫০৪ কোটি এবং সেস বাবদ ১২,২৯৩ কোটি টাকা।
ইওয়াই কর পরামর্শদাতা সৌরভ আগরওয়াল বলেন, “এই রেকর্ড আদায় প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি দৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। সরকারের সক্রিয় উদ্যোগ, যেমন রফতানি ও অন্যান্য জিএসটি রিফান্ড দ্রুততার সঙ্গে মঞ্জুরি, শিল্পক্ষেত্রে কাজের মূলধনের উপর চাপ কমাচ্ছে, যার প্রভাব মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের উপর পড়বে।”
কে.পি.এম.জি-র পরোক্ষ কর বিভাগের প্রধান অভিষেক জৈন মনে করেন, “এই রেকর্ড আদায় শুধু অর্থনীতির গতি বৃদ্ধির প্রমাণ নয়, বরং বছরের শেষ দিকে সংস্থাগুলির রিটার্ন রেকনসিলিয়েশনের ফলে বাড়তি কর প্রদানেরও ফল।”
চলতি মাসে বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতির কারণে আদায়ে সামান্য কমতির আশঙ্কা থাকলেও সামগ্রিকভাবে ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী সরকার ও বিশেষজ্ঞরা।