বাজেট (Personal Budget) তৈরির আগে জানতে হবে প্রতি মাসে আপনার হাতে ঠিক কত টাকা আসছে কিনা। বেতন ছাড়াও ফ্রিলান্সিং, টিউশন, সুদ বা অতিরিক্ত আয়ের সব উৎস হিসাবের মধ্যে রাখুন

প্রতীকী ছই
শেষ আপডেট: 20 December 2025 17:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামছাড়া দামে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। মাসের শুরুতে হাতে টাকা থাকলেও, শেষের দিকে এসে অনেকেরই পকেট ফাঁকা। বিশেষ করে নতুন চাকুরিজীবী বা যারা সদ্য সংসারের দায়িত্ব নিয়েছেন, তাঁদের কাছে মাসের খরচ সামলানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ (Money management)। এই পরিস্থিতিতে আয়-ব্যয় ঠিক রাখতে বাজেট পরিকল্পনা ছাড়া বিকল্প নেই। কিন্তু বাজেট মানেই কঠিন হিসেব, এই ভুল ধারণার কারণে অনেকেই শুরু করতে পারেন না (Financial planning)। অথচ কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই আর্থিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কেন বাজেট জরুরি
আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রথম শর্ত হল আয় বুঝে ব্যয় করা। পরিকল্পনা ছাড়া খরচ চলতে থাকলে অল্প সময়েই ঋণের বোঝা বাড়ে। ভারতের মতো দেশে, যেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে, সেখানে নতুনদের জন্য বাজেট তৈরি ও তা মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সঠিক বাজেট শুধু খরচ কমায় না, ভবিষ্যতের সঞ্চয় ও জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখে।
নতুনদের জন্য মাসের খরচ সামলানোর ৭টি সহজ বাজেট কৌশল
মাসিক আয়ের স্পষ্ট হিসাব রাখুন
বাজেট (Personal Budget) তৈরির আগে জানতে হবে প্রতি মাসে আপনার হাতে ঠিক কত টাকা আসছে কিনা। বেতন ছাড়াও ফ্রিলান্সিং, টিউশন, সুদ বা অতিরিক্ত আয়ের সব উৎস হিসাবের মধ্যে রাখুন (Financial security)। উৎসবের বোনাস বা ইনসেনটিভ নিয়মিত আয়ের সঙ্গে না মিলিয়ে আলাদা করে ধরাই ভালো।
খরচ লিখে রাখার অভ্যাস গড়ুন
এক মাস ধরে প্রতিদিনের খরচ নোট করুন। বাসভাড়া থেকে শুরু করে চা-কফি, সবই হিসেবের মধ্যে আনুন। এতে বোঝা যাবে কোন খাতে অকারণে টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে।
প্রয়োজন আর শখের খরচ আলাদা করুন
ভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ, যাতায়াত- এই খরচ এড়ানো যায় না। কিন্তু বাইরে খাওয়া, অনলাইন শপিং বা বিনোদনের খরচ কমানো সম্ভব। কোনটা প্রয়োজন, আর কোনটা শখ- এই পার্থক্য স্পষ্ট হলেই বাজেট নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাস্তবসম্মত বাজেট ঠিক করুন
বাজেটে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করলে তা অনেকক্ষেত্রেই বেশিদিন টেকে না। আয়ের সঙ্গে মানানসই একটি খরচের তালিকা ঠিক করুন। চাইলে ৫০-৩০-২০ নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন,
জরুরি তহবিল গড়ে তুলুন
হঠাৎ অসুস্থতা বা চাকরি সংক্রান্ত সমস্যায় যাতে ধার করতে না হয়, সে জন্য আলাদা করে টাকা রাখুন। লক্ষ্য রাখুন অন্তত ৩ থেকে ৬ মাসের খরচের সমান সঞ্চয় করতে।
ঋণের বোঝা কমান
ক্রেডিট কার্ড (Credit Card) বা ব্যক্তিগত ঋণের উচ্চ সুদ বাজেটের সবচেয়ে বড় শত্রু। আগে ছোট ঋণ বা বেশি সুদের ঋণ শোধ করার পরিকল্পনা নিন। অপ্রয়োজনীয় ঋণ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো।
বাজেট নিয়মিত খতিয়ে দেখুন
বাজেট একবার বানালেই শেষ নয়। প্রতি মাসে দেখে নিন কোথায় খরচ বাড়ছে বা কমছে। আয় বাড়লে সঞ্চয়ের অংশও বাড়ান। পরিস্থিতি অনুযায়ী বাজেট বদলানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
বাজেট মানে অযথা খরচ বন্ধ করে জীবনকে কঠিন করা নয়। বাজেটের আসল উদ্দেশ্য হল নিজের আয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। শুরুতে কিছুটা সময় ও অভ্যাসের দরকার হলেও, একবার তা রপ্ত হয়ে গেলে মাসের শেষে আর্থিক দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যায়। নতুনদের জন্য এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললেই ধীরে ধীরে আর্থিক নিরাপত্তার শক্ত ভিত তৈরি করা সম্ভব।