স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গবেষণা রিপোর্ট বলছে, এই সিদ্ধান্তকে শুধুই সুদের হার কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা ভুল হবে। বরং এটি একটি কৌশলগত পরিবর্তন যেখানে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) ভবিষ্যতের আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখছে।

শেষ আপডেট: 10 June 2025 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেপো রেট এক ধাক্কায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানো হয়েছে। পাশাপাশি, আর্থিক নীতির অবস্থানও "অ্যাকমোডেটিভ" থেকে "নিউট্রাল" করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ বাজারকে কিছুটা চমকে দিয়েছে, কারণ এর আগে ধারনা ছিল ছোট পরিসরে সুদের হার কমানো হবে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)। তাদের রিসার্চ তথা গবেষণা রিপোর্ট বলছে, এই সিদ্ধান্তকে শুধুই সুদের হার কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা ভুল হবে। বরং এটি একটি কৌশলগত পরিবর্তন যেখানে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) ভবিষ্যতের আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখছে।
সুদের হারে পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব
এই সুদের হার ছাঁটাইয়ের ফলে যারা হোম লোন তথা গৃহ ঋণ, গাড়ি লোন বা ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ নিয়েছেন, তাদের মাসিক কিস্তি কমবে। SBI রিসার্চ অনুযায়ী, যদি ৮০% খুচরো ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য ঋণ (MSME Loan) ইবিএলআর (EBLR)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে গড়ে একেকটি পরিবার বছরে ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবে। স্টেট ব্যাঙ্কের এই রিপোর্টটি তৈরি করেছেন ষোড়শ অর্থ কমিশনের সদস্য তথা স্টেট ব্যাঙ্কের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ডঃ সৌম্য কান্তি ঘোষ।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কেন এই বড় সিদ্ধান্ত নিল?
স্টেট ব্যাঙ্কের রিপোর্ট অনুযায়ী, অতীতে যেসব সময়ে আর্থিক চাপে পড়েছে দেশ বা বিশ্ব, সেই সময়েই রেপো রেটে বড়সড় পরিবর্তন দেখা গেছে। যেমন ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা কিংবা কোভিড-১৯-এর সময়। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) এইবারের সিদ্ধান্তে যেমন সুদের হার কমিয়েছে, তেমনই একটা সতর্ক বার্তাও দিয়েছে যে এই হার হ্রাস ভবিষ্যতে অনিয়ন্ত্রিত ঋণের দিকে ঠেলে না দেয়।
আর্থিক নীতির ‘টাইম বেসড’ থেকে ‘স্টেট বেসড’ রূপান্তর
আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ঘোষণা করত কত সময়ের জন্য তারা একই নীতি বজায় রাখবে। সেটাই ছিল ‘টাইম বেসড’ পদ্ধতি। এখন তারা বলছে, দেশের আর্থিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে— এটাকেই বলে ‘স্টেট বেসড’ ব্যবস্থা। এর ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আরও নমনীয় হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
CRR ছাঁটাইয়ের প্রভাব
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবার নগদ জমা অনুপাত বা CRR-ও কমিয়েছে। এর ফলে ব্যাঙ্কগুলোর হাতে অতিরিক্ত ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার মূলধন আসবে, যা ঋণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এই পদক্ষেপে ঋণের হার আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
দারিদ্র্যের হার কমছে
স্টেট ব্যাঙ্কের (SBI ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের দারিদ্র্যের হার ৪.৬% এ নেমে এসেছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৫.৩%। এটি একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত, যা দেখাচ্ছে যে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
স্টেট ব্যাঙ্ক মনে করছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই নতুন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ঋণ ভার কমাবে, ব্যবসার সুযোগ বাড়াবে এবং দেশের অর্থনীতিকে এক নতুন ছন্দে চালনা করবে। তবে মুদ্রাস্ফীতির উপর কড়া নজর রেখে চলতে হবে, যাতে বাজারে কোনও আর্থিক বুদবুদ তৈরি না হয়। এই পদক্ষেপ ভারতের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই করে তুলবে বলেই মনে করছে SBI রিসার্চ।